কৃষিজমি চাষের আওতায় নিয়ে আসতে স্থানীয় সরকারের বাজেটে বরাদ্দ বাড়াতে হবে

কৃষিজমি চাষের আওতায় নিয়ে আসতে স্থানীয় সরকারের বাজেটে বরাদ্দ বাড়াতে হবে

কলমাকান্দা নেত্রকোনা থেকে অর্পণা ঘাগ্রা ও খায়রুল ইসলাম অপু

কলমাকান্দা উপজেলার রংছাতি ইউনিয়নের অধিকাংশ কৃষিজমি বোরো মৌসুমে পতিত থাকে কৃষি প্রতিবেশীয় অঞ্চলের ভিন্নতার কারনে। পাহাড় অধূষিত অঞ্চলের কৃষক বালিতে ভরাট হওয়া জমিতে ফসল উৎপাদনের ক্ষেত্রে সমস্যায় পড়ছেন। আবার নদী ও বিলের কাছে অবস্থিত কিছু কিছু এলাকার কৃষিজমিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় কৃষকদের স্বাভাবিক চাষাবাদ ব্যাহত হচ্ছে। আবার নদী ও বিল হতে দূরবর্তী কিছু কিছু এলাকার কৃষক সেচ সমস্যার কারণে কোন কিছু উৎপাদন করতে পারছেন না। এর সাথে যুক্ত হয়েছে মৎস্য ও প্রাণী সম্পদের সমস্যাগুলোও! এরূপ নানান সমস্যার সমাধানকল্পে সম্প্রতি রংছাতি ইউনিয়ন পরিষদের কৃষি, মৎস্য ও প্রাণীসম্পদ বিষয়ক স্ট্যন্ডিং কমিটির সাথে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

IMG_20171207_114852
মতবিনিময় সভায় কৃষিজমির সমস্যা সম্পর্কে চন্দ্রডিঙ্গগ্রা গ্রামের কৃষক অশেষ আজিম (৪২) বলেন, “পাহাড়ি ঢলের সাথে আসা বালির কারণে আমাদের এলাকার অনেক কৃষিজমি ভরাট হয়ে কোন কিছু চাষ করতে পারছিনা। বালি সরিয়ে অনেকে চাষ করার চেষ্টা করছে। বালি সরানোর জন্য এবং ছড়ার পাড় ভাঙা ঠেকানোর জন্য ইউনিয়ন পরিষদের বাজেটে বরাদ্ধ রাখা উচিত। আর প্রত্যেক কৃষককেই কৃষি কার্ড দেওয়া প্রয়োজন। যেন সরকারি যত ধরনের সুযোগ সুবিধা দিচ্ছে সব সুযোগ যেন সব কৃষক পেতে পারে।”

কৃষ্টপুর গ্রামের কৃষক নূরুল ইসলাম (৪৬) বলেন, “আমাদের গ্রামে প্রায় ৫০ একর জমি জলাবদ্ধ হয়ে চাষের অনুপযুক্ত হয়ে পড়েছে। গ্রামের পাশের বিল পাহাড়ি বালিতে ভরাট হয়ে উচু হয়ে গেছে। তাই জমির পানি কোনদিকে যাইতে পারছেনা। যদি এক কিলোমিটারের মত খনন করে পানি যাওয়ার ড্রেন করে দিত তাহলে এই জমিগুলোতে কৃষকেরা ফসল উৎপাদন করতে পারতো।”

IMG_20171207_115007_4
অন্যদিকে রংছাতি ২নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. সুরুজ মিয়া (৫৫) বলেন, “মহাদেও নদীর মুখ পাহাড়ি বালির কারণে উচু হয়ে গেছে। আর ফসলী জমিতে বালি প্লাবিত হচ্ছে। নল্লাপাড়া এলাকার ফসলী জমিগুলো নদীর তুলনায় নীচু হয়ে জলাবদ্ধ তৈরি হচ্ছে। এইসব এলাকার ফসলী জমিগুলো চাষের আওতায় আনার জন্য নল্লাপাড়া হতে চিনাহালা পর্যন্ত খনন করার জন্য বাজেট বরাদ্দ রাখা জরুরি।” অন্যদিকে রংছাতি ৫নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. হাদিউল ইসলাম (৪০) বলেন, “বালির কারণেই আমাদের এলাকায় শুকনো মৌসুমে খরা দেখা দেয়। তাই খরার মধ্যে যেসব ফসল ফলবে এমন ফসল উৎপাদন করার জন্য সরকারি ও বেসরকারিভাবে উদ্যোগ নিতে হবে। তাছাড়া ছড়া ও নদীগুলোতে পানি ধরে রাখার জন্য বেতগড়া হতে পাগলা নদী খনন করা হলে অনেক জমি চাষের আওতায় চলে আসবে।”

এই বিষয়ে রংছাতি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তাহেরা খাতুনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “মহাদেও নদী থেকে পাগলা হয়ে মহেষখোলা নদী পর্যন্ত খনন করার জন্য জাইকা নামক সংস্থার সাথে যোগাযোগ করব।” তিনি পতিত জমিতে খরা সহনশীল ফসল উৎপাদনের জন্য কৃষকদের উদ্বুদ্ধকরণ ও সার্বিক সহযোগিতা প্রদানে বারসিক ও অন্যান্য সংস্থার প্রতি আহ্বান জানান।

happy wheels 2

Comments