সুরেন্দ্র মোহন রায় একজন প্রগতিশীল চিন্তার মানুষ ছিলেন

সিংগাইর মানিকগঞ্জ থেকে শাহীনুর রহমান
বিশিষ্টি শিক্ষানুরাগী সুরেন্দ্র মোহন রায় স্মরণে পরিবারের পক্ষ থেকে পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ এবং তাঁর স্মৃতিচারণে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে সম্পৃতি। বেতিলা মিতরা ইউনিয়নের মিতরা ঋষি পাড়ায়, বড়িয়াল ও অষ্টোদোনা এই ৩টি গ্রামের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর শিক্ষায় আগ্রহ বৃদ্ধি ও সামাজিক দায়বদ্ধতা তৈরিতে সুরেন্দ্র মোহন রায়ের কনিষ্ঠ পুত্র বিমল রায় ও তার পরিবার অনুষ্ঠানটির আয়োজন করেন।


আইরমাড়া মিতরা শহীদ মুক্তি যোদ্ধা স্মৃতি বিদ্যালয়ের সভাপতি ও দাতা সদস্য মো. বিল্লাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বেতিলা মিতরা ইউনিয়নের চেয়ারম্যন মো. নাসির উদ্দিন, বিশিষ্ট সমাজকর্মী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ইঞ্জনিয়ার মো. শহীদুল ইসলাম (ফারুক), বেতিলা মিতরা ইউনিযনের ৯নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. আব্দুল মালেক, আইরমাড়া মিতরা শহীদ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবু তাহের, সহকারি শিক্ষক মো. ফিরোজ খান, পংকজ বিশ্বাস, আবুল কালাম আজাদ প্রমুখ। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন, কমল চন্দ্র দত্ত, গাজী শাহাদাৎ হোসেন বাদল, স্যামুয়েল হাঁসদা।

আলোচনা সভায় বক্তারা সুরেন্দ্র মোহন রায়ের স্মৃতিচারণ করে বলেন, ‘সুরেন্দ্র মোহন রায় একজন প্রগতিশীল চিন্তার মানুষ ছিলেন। তিনি শিক্ষার জন্য নিবেদিতপ্রাণ একজন মানুষ। তিনি সব সময় চিন্তা করতেন সমাজের সবাই যেন শিক্ষার আলোয় আলোকিত হতে পারেন।’ বক্তারা আরও বলেন, ‘ছোটবেলা থেকে শিক্ষার প্রতি প্রবল আগ্রহ থাকায় তিনি শিক্ষকতা পেশা গ্রহণ করেন এবং স্বপ্ন দেখেন একটি শিক্ষিত সমাজের, যেখানে প্রকৃত শিক্ষা গ্রহণ করে সমাজকে আলোকিত করতে পারবে।’ বক্তারা বলেন, ‘আমরা সমাজে নানাভাবে টাকা পয়সা খরচ করে থাকি, যা মানুষের খুব একট কাজে লাগেনা কিন্তু সমাজে অনেক পিছিয়ে পড়া মানুষ রয়েছেন যারা একটু সহায়তা পেলে লেখাপড়ার প্রতি আগ্রহী হবে।’


অনুষ্ঠানের সভাপতি বিল্লাউদ্দিন বলেন, ‘আমি সুরেন্দ্র মোহন রায়ের ছাত্র ছিলাম বলে তার চিন্তার জগত খুব কাছ থেকে জানার সুযোগ হয়েছিল। তিনি সবসময়ই চাইতেন কোন পরিবারের ছেলেমেয়েরা যেন লেখাপড়া থেকে ঝরে না পড়ে। সেই কারণে তিনি বাড়িতেই বিনা পয়সায় শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার ব্যবস্থা করেছিলেন।’ এ প্রসঙ্গে তার কনিষ্ঠ পুত্র বিমল রায় বলেন, ‘সমাজের সকলেই যেন প্রকৃত শিক্ষা অর্জনের সুযোগ পায়। আমরা আমাদের পরিবারের পক্ষ থেকে এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে চাই। সমাজের সকলেই যেন প্রকৃত শিক্ষা অর্জনের সুযোগ পায়।’


উল্লেখ্য, সুরেন্দ্র মোহান রায়ের পরিবারের পক্ষ থেকে অষ্টোদোনা, মিতরা ঋষিপাড়া ও বড়িয়াল গ্রামের ৮০ জন শিক্ষার্থীদৈর মাঝে বই, খাতা কলম বিতরণ করা হয়।

happy wheels 2

Comments