চরাঞ্চলে গবাদি পশু পালনের সম্ভাবনা

চরাঞ্চলে গবাদি পশু পালনের সম্ভাবনা

হরিরামপুর, মানিকগঞ্জ থেকে মুকতার হোসেন:
মানিকগঞ্জ জেলার হরিরামপুর উপজেলার প্রত্যন্ত চরাঞ্চলে রয়েছে বিস্তীর্ণ পতিত জমি। রবি মৌসুমে ফসল তোলার পর প্রায় ৬ মাসই পতিত থাকে জমিগুলো। সেখানে জন্ম নেয় নানান প্রজাতির ঘাস ও উদ্ভিদ, যা গরু ছাগল, মহিষ, ভেড়া পালনের জন্য ভালো সুযোগ। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে চরের কৃষকরা গরু-ছাগল-মহিষ পালন করেন। প্রতিটি পরিবারে ৫ থেকে শুরু করে ৩০টি পর্যন্ত স্থানীয় জাতের গবাদি পশু রয়েছে। তাঁরা কেবলমাত্র বর্ষা মৌসুমের ৪ মাস বাড়িতে পালন করেন এসব গবাদি পশু। বর্ষার পর পতিত জমিতে জন্মানো ঘাস খেয়ে গবাদি পশুগুলো বড় হয়। এতে করে কৃষকদের তেমন কষ্ট হয় না; শুধুমাত্র সকালে গবাদি পশুগুলোকে মাঠে ছেড়ে আসা ছাড়া!
চরাঞ্চলের কৃষকেরা প্রতিবছর ঈদকে সামনে রেখে দেশী জাতের ষাড় পালন করেন। এই ষাড় পালনে পালনে পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও যথেষ্ট ভূমিকা পালন করেন। নারীরা সকালে গোয়াল থেকে গরু বের করেন এবং খাবার সংগ্রহ করেন। এছাড়াও গরু সাতারানো, গরুর গোয়াল পরিস্কার করা, খাবার দেওয়া, গরু ঘরে উঠানোসহ নানান কাজ করেন এই নারীরা।
চরের কৃষকরা সাধারণত নিজ বাড়িতে খোলা জায়গায় ছাড়া এবং অর্ধছাড়া অবস্থায় এই গরুগুলো পালন করেন। সকালে দল বেঁধে মাঠে ঘাস খাওয়ার জন্য নিয়ে যান। ঘাস খাওানোর পর পদ্মা নদী থেকে গোসল করিয়ে আবার বিকালে বাড়িতে নিয়ে আসেন। আবার অনেক কৃষক মাঠ থেকে ঘাস সংগ্রহ করে এনে বাড়িতে এসব গরুকে খাওয়ান।


মাঠের অচাষকৃত ঘাস গরুর প্রধান খাদ্য। যেমন: দুর্বাঘাস, কাটা হেনসি, কাঁশবন, ছোন, কাইশ্যা, নলখাগড়া ঘাস, গচি, হেনসি, বাদাল, হামা, জলদুর্বা এ সকল কাঁচা ঘাস। এছাড়াও পায়রার ভূষি, গমের ভূষি, মাসকালাইয়ের ভুষি, খেসারি কালাইয়ের ভুষি, চালের খুদ, ধানের কুড়া, খড়, ভুট্টার পাতাও গরুর খাবার হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এ সকল খাবার কৃষকদের কিনতে হয় না। এসব খাবার বাড়ির উৎপাদিত ফসল ও মাঠ থেকে সংগ্রহ করেন কৃষকরা। তাই চরাঞ্চলে গরু পালনে খরচ কম হয়।
এই প্রসঙ্গে হরিহরদিয়া গ্রামের গরু পালনকারী কৃষক মিলন খাঁ বলেন, ‘আমরা চরে গরু পালন করি, চকে অনেক পতিত জায়গা রয়েছে। মাঠে, ঘাঠে অনেক ঘাস রয়েছে। তাই আমাদের কেনা খাবার খাওয়াতে হয় না। এজন্য চরে গরু পালনে খরচ কম হয়। আমার খামারে ১৫টি স্থানীয় জাতের গরু রয়েছে। এ সকল গরুর তেমন কোন রোগব্যাধি হয় না।’
চরাঞ্চলে গরু পালনে সমস্যার কথা জানতে চাইলে এলাকাবাসী বলেন, ‘হরিরামপুর চরাঞ্চলে অনেক গরু, ছাগল রয়েছে। বর্ষা মৌসুমে বাড়িতে বাড়িতে পানি উঠার কারণে গরুর খাদ্য ও বাসস্থানের সমস্যা দেখা দেয়। অনেক সময় কম দামে গরু বিক্রি করতে হয়। তাছাড়াও বর্ষা মৌসুমে গরু চুরির সম্ভাবনা থাকে। এছাড়া এসব গরুর রোগ হলে স্থানীয় পল্লী চিকিৎসকরাই চিকিৎসা করে থাকেন। খুব বেশি জরুরি হলে হরিরামপুর উপজেলা প্রাণী সম্পদ অফিসে নিয়ে যাওয়া হয়।’

happy wheels 2