নারীরা যে এত পরিশ্রম করে তা কখনো ভাবি না

নারীরা যে এত পরিশ্রম করে তা কখনো ভাবি না

হরিরামপুর, মানিকগঞ্জ থেকে মুকতার হোসেন।।

হরিরামপুর উপজেলার লেছড়াগঞ্জ ইউনিয়নে পাটগ্রামচর গ্রামটি অবস্থিত। যার চারিদিক দিয়ে বয়ে গেছে পদ্মা নদী। তাই নদীর সাথে গ্রামবাসীর জীবিকায়নের রয়েছে নিবিড় সম্পর্ক। নদীতে মাছ ধরা এবং বাজারে বিক্রি করেই প্রাত্যহিক চাহিদা পূরণ করে এই গ্রামের অধিকাংশই। সেই সাথে রয়েছে কৃষিকাজ ধান, গম, কালাই, সরিষা, শাক-সবজি ও গরু-ছাগল পালন। প্রাণ প্রকৃতির সাথে নিবিড় সম্পর্ক এর মধ্যে দিয়ে মূলত চরের মানুষের জীবনজীবিকা নির্বাহ করে আসছে।

1

সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চরের নারী-পুরুষের ব্যস্ততা থাকে। চরাঞ্চলের পুরুষেরা যেমন মাঠে ঘাটে সারাদিন কাজ করে তেমন পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও তাদের কাজের সহযোগিতা করে আসছেন। সারাদিনের পরিশ্রম আর নানা কাজের মাঝে অবসরের সময় নেই বললেই চলে চরের মানুষের। পাটগ্রাম চরের কয়েকজন কৃষক-কৃষাণীর সাথে কথা বলে জানা যায় এই যে, নারীরা পুরুষের কাজের পাশাপাশি গরু পালন, বাড়িতে ফসল সংগ্রহ করা, ছেলে-মেয়ে দেখাসহ বাড়ির নানাবিধ কাজ করে থাকেন। তাই একটি সংসার পরিচালনা এবং পরিবারে উন্নয়নের সাথে নারীদের অবদানও কম নয়।

নারীদের পরিশ্রম আর কাজকে কিভাবে মুল্যালয় করেন? এমন প্রশ্নের জবাবে পাটগ্রামচরের কৃষক আহম্মদ মিয়া (৫৫) বলেন, “বাড়ির মাইয়াপোলারা (নারীদের) কৃষিকাজসহ নানা কাজে সহযোগিতা করে থাকে। ফলে তাদের যখন যা দরকার হয় তাদেরকে দেই। নারীরা যে এত পরিশ্রম করে তা কখনো গভীরভাবে ভাবি না বা তাদের মনের কথাতো কখনও শুনিনাই। তাদের জীবনের সুখ দুঃখের গল্পতো শুনি না।”  পাটগ্রামচরের নারী শুকুরী বেগম (৪০) বলেন, “চরাঞ্চলে থাকি; সারাদিন কাজকর্মের মধ্যে দিয়ে কেটে যায়। ছেলে মেয়ে দেখাশুনা করা, সংসারের কাজ গোছানো সহ অনেক দায়িত্ব আমরা পালন করে থাকি। সংসারে আয় উন্নতির পিছনে পুরুষের পাশাপাশি আমাদের ভূমিকাও কম নয়।”

একটি পরিবারে উন্নয়নের সাথে নারীদের যথেষ্ট অবদান রয়েছে। চরের নারীদের ক্ষেত্রে এ বাস্তবতা ভিন্ন নয়। তাই তাদের কাজের মুল্যায়ন করা, উৎসাহ দেওয়া এবং সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি করা আমাদের সকলের দায়িত্ব। চরের প্রান্তিক নারীদের শিক্ষিত করে তোলা সহ বাল্য বিবাহ রোধে সচেতনতা বৃদ্ধিতে সকল স্টেকহোল্ডারদের ভূমিকা রাখতে হবে।

happy wheels 2

Comments