Posted in

বৈশাখী আনন্দে হরিরামপুর

মানিকগঞ্জ হরিরামপুর থেকে সত্যরঞ্জন সাহা

গ্রামীণ জীবনে বৈশাখ আসে নববর্ষের মঙ্গল বার্তা নিয়ে। বর্ষ বরণের পাশাপাশি সাম্পদায়িকতাকে রুখে দিতে ও বৈশাখকে বরণ করে নিতে উদ্যোগ গ্রহণ করে আন্ধারমানিক নিমতলী যুব সমাজ, শিকড়ে ৫২ শিল্পগোষ্ঠী, বাবু মটরস্ ও বারসিক । পদ্মার তীরে হরিরামপুর সকল ধর্ম বর্ণের লোকজন সম্মিলিত উদ্যোগে গতকাল আন্ধারমানিক নিমতলী মোড় থেকে মঙ্গল শুভাযাত্রা বের করে বৈশাখকে বরণ করে নেওয়া হয়।

56832532_438047070301149_4494444947528744960_n
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন হরিরামপুর উপজেলার ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি কামাল হোসেন। পহেলা বৈশাখ অনুষ্ঠানটি উদ্বোধন করেন হরিরামপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান দেওয়ান সাইদুর রহমান। অনুষ্ঠান উপলক্ষ্যে র‌্যালি আয়োজন করা হয়। র‌্যালিটি উপজেলা শহরের মেইন রোড হয়ে যাত্রাপুর হয়ে লেছড়াগঞ্জ বাজার প্রদক্ষিণ করেন আনন্দ উৎসবে গান, বাজনা ও শ্লোগানের মধ্য দিয়ে। মঙ্গল শোভাযাত্রাটি হরিরামপুর উপজেলায় অবস্থান করলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ইলিয়াস মেহেদী অংশগ্রহণ করে শুভেচ্ছা অভিনন্দ জানান। মঙ্গল শুভাযাত্রায় অংশগ্রহণ করেন শিক্ষার্থী, কৃষক-কৃষাণি, তরুণ, যুবক, শিক্ষক, রাজনৈতিক ব্যক্তি ও প্রশাসনের লোকজন।

57088226_2249825315281611_3816251649937113088_n
পহেলা বৈশাখ উদযাপনের মাধ্যমে হরিরামপুর উপজেলার সকল পেশা ও শ্রেণীর মানুষ ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে আত্তিকরণ আরো সুদৃঢ় হলো। অংশগ্রহণকারীগণ মতামত দিয়ে বলেন, ‘নিমতলী যুব সংঘের উদ্যোগে বিগত সময়েও বৈশাখ উদযাপন করে তরুণদের সম্মিলিত প্রয়াসে। বৈশাখ উদযাপনের মধ্য দিয়ে তরুণ-যুবকরা আনন্দ উৎসবের মধ্য দিয়ে বাঙালি সংস্কৃতি জাগ্রত হয়। বৈশাখ আমাদের বাঙালি সংস্কৃতির ধারক বাহক। অন্য বছরের ন্যায় এবছরেরও অনুষ্ঠানটি করতে পারায় আমাদের কাছে ভালো লাগছে।’

উদ্যোগী শিক্ষার্থী-তরুণরা বর্ষ বরণকে সামনে রেখে আগের দিন রাত্রে রাস্তায়, দেওয়ালে আল্পনা তৈরি করেন। শুভাযাত্রাবের করার জন্য নিজ নিজ সাজে তৈরি হয়। হাতে মুখে গালে শুভ নব বর্ষ লেখা, ঢাক-ঢোল, আড় বাঁশি, ক্যাপ, মাথায় ও হাতে ব্যাচ, পালকিতে বর-কনে, জলাদের সাজ, তীর-ধনুকের ব্যবহার এবং চোখে-মুখে-শরীরে বিভিন্ন রঙ দিয়ে আল্পনা তৈরি করে। বাঙালি সংস্কৃতি ধারক বাহক যুবকদের কাঁধে ছিল কৃষকের লাঙ্গল, জোয়াল, মাথাল, কাস্তে, পালকি, নৌকা, জাল, ধুুতি-পানজাবি পড়ে। মঙ্গল শূভাযাত্রায় সকলের মুখে মুখরিত হয় এসো হে বৈশাখ এসো এসো।

57244673_1501306453335180_553728121765888000_n
উল্লেখ্য, সাম্প্রদায়িকতামুক্ত হরিরামপুর গড়তে প্রতিবছরই হরিরামুপর উপজেলার ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি কামাল হোসেন, শিকড়ে ৫২ শিল্পগোষ্ঠীর সভাপতি আরিফুজ্জামান আরিফ, সাধারণ সম্পাদক পিযূষ সরকার, দেওয়ান রুহুল আমিন, নরুল ইসলাম পান্নু, রাহাদ আহমেদ, কালাম হোসেনের উদ্যোগে উৎযাপিত হয় বর্ষবরণ অনুষ্ঠান।

Bangladesh Resource Center for Indigenous Knowledge, BARCIK is a non-governmental non-profit development organization. Established in 1997 by a group of development practitioners, researchers and social workers, BARCIK has been working in the fields of environment and development with utmost commitment and purpose. Registered with the NGO Affairs Bureau under the Prime Minister’s Office, Government of Bangladesh, to operate foreign funds.