Posted in

নলকূপের বাষ্পে চলবে স্যালো মেশিন!

সাতক্ষীরা থেকে মফিজুর রহমান
নলকূপের বাষ্পে চলবে স্যালো মেশিন। শুনতে অবাক লাগলেও বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলীয় অঞ্চলের সুন্দরবন সংলগ্ন কয়রা উপজেলার আমাদী ইউনিয়নের খিরোল গ্রামের আব্দুল মাজেদ সরদার (৭০) আবিষ্কার করেছেন এমন একটি পদ্ধতি। তার এই পদ্ধতিতে জ্বালানি সাশ্রয় হবে কয়েকগুণ।

আব্দুল মাজেদ সরদার জানান, ২০০৭ সালে নিজস্ব সম্পত্তির উপর একটি নলকূপ বসিয়ে স্যালো মেশিন দিয়ে পানি উত্তোলন করে মাছ চাষ শুরু করেন। তিনি বলেন, “২০১২ সালে খরা মৌসুমে নলকূপ থেকে ডিজেল চালিত ম্যাশিন দিয়ে পানি উঠিয়ে এক রশি দূরে পানি নেওয়ার জন্য ম্যাশিনের প্যাম্পের সঙ্গে ফিতা পাইপ সংযোগ করি। এরই মধ্যে লক্ষ্য করি যে, ফিতা পাইপের মধ্য দিয়ে যে পানি প্রবাহিত হচ্ছে তার সঙ্গে বাষ্পও যাচ্ছে। তখন এই বাষ্প নিয়ে কৌতূহল জাগে যে, ফিতার মধ্যে বাষ্প কোথা থেকে এলো। এ বিষয়টি চিন্তার উদ্রেগ ঘটায়।” তিনি আরও বলেন, “বেশ কয়েকদিন চিন্তা করে বুঝতে পারি, পাম্পের ভিতর পাখার ঘূর্ণিতে গতি সৃষ্টি হচ্ছে এবং পানির চাপ বাড়ছে। এরই ফলে পানির একটা অংশ পৃথক হয়ে বাষ্প আকারে ফিতা পাইপের ভিতর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এরপর পাইপের পানির উপরের অংশে যে বাষ্প প্রবাহিত হচ্ছে এমনি এক স্থানে আলপিন দিয়ে ছিদ্র করে তার মুখে জ্বলন্ত দিয়াশলাই ধরলেই আগুন জ্বলে উঠতে দেখি। তখন থেকেই ভাবছিলাম এই বাষ্প কিভাবে কাজে লাগানো যায়”।

Mofiz-1এই চিন্তা থেকেই তিনি পরবর্তীতে পাম্পের মুখে ৭ ইঞ্চি ব্যাসার্ধের লম্বা প্লাস্টিকের পাইপ বেঁধে দেন এবং অপর প্রান্তে একটি কাঠ মাটিতে পুঁতে পাইপটি কাঠের সাথে বেঁধে দেন। যাতে সরবরাহকৃত পানি সহজেই বের হতে পারে এবং পানির গতি উর্ধ্ব দিকে থাকে। এরপর একটি প্লাস্টিকের ড্রাম (১০০ লিটার পরিমাণ) সরবরাহকৃত পানির পাইপের উপর উপুড় করে বেঁধে দেন। এতে সরবরাহকৃত পানি ড্রামের নিচ দিয়ে বাইরে চলে যায় এবং বাষ্প ড্রামের ভেতর জমা হয়। ড্রামের উপরের অংশে একটি ছিদ্র করেন এবং ছিদ্রের সঙ্গে একটি প্লাস্টিকের চিকন পাইপ (পরিমাণ মত লম্বা) সংযোজন করেন। একটি পাইপের অপর মাথা ডিজেল চালিত মেশিনের এয়ারক্লথ এর সাথে এমনভাবে সংযোজন করেন যেন ওই গ্যাস ইঞ্জিনের ভেতর সহজে প্রবেশ করতে পারে। আর একটি পাইপ ফাকা স্থানে বেঁধে রাখেন যাতে গ্যাস অতিরিক্ত হলে এই পাইপের মাধ্যমে গ্যাস বের করে দেওয়া যায়। এই পদ্ধতি ব্যবহার করে ৭০/৭৫ এইস.পির (হর্স পাওয়ার) ডিজেল ইঞ্জিন চালাতে প্রতি ঘণ্টায় ১০০ থেকে ১২০ গ্রাম ডিজেলের প্রয়োজন হয়। যা ব্যয় সাশ্রয়ী।  তার মতে, এই পদ্ধতির বিকাশ ঘটিয়ে সেচ কাজের খরচ কয়েকগুণ কমিয়ে আনা সম্ভব।

Bangladesh Resource Center for Indigenous Knowledge, BARCIK is a non-governmental non-profit development organization. Established in 1997 by a group of development practitioners, researchers and social workers, BARCIK has been working in the fields of environment and development with utmost commitment and purpose. Registered with the NGO Affairs Bureau under the Prime Minister’s Office, Government of Bangladesh, to operate foreign funds.

2 thoughts on “নলকূপের বাষ্পে চলবে স্যালো মেশিন!”

  1. কিছুই বোঝা গেল না। এই বাস্পটা কিসের তেলের নাকি পানির নাকি ধুয়ার? দয়া করে খুলে বলবেন কি ?

  2. আরো বিস্তারিত জানতে চাই। 01749607158 এই নাম্বারে একটু জানাবেন কি? অথবা কোন মাধ্যম আছে কি বিস্তারিত জানার?

Comments are closed.