সাম্প্রতিক পোস্ট

হাতপাখায় সুদিন ফিরেছে উজলা বেগমের

মানিকগঞ্জ থেকে শাহিনুর রহমান
“তোমার হাত পাখার বাতাসে আমার প্রাণ জুড়িয়ে আসে কিছু সময় আরো তুমি থাক আমার পাশে থাক আমার পাশে।” হাত পাখাকে কেন্দ্র এমন অসংখ্য গ্রামীণ জনপ্রিয় গান প্রতিনিয়ত শোনা যায়। কিন্ত গ্রামীণ প্রান্তিক ও দরিদ্র মানুষ, যারা বাঁশ, বেত ও তালের পাতা ব্যবহার করে এসব হাতপাখা তৈরি করেন তাদের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য কেউ এগিয়ে আসেন না!  প্রচন্ড তাপদাহে শীতল হাওয়ার পরশ পাওয়ার ব্যবস্থা যারা করে যাচ্ছেন তাদের এই পেশা আজও আতুর ঘরে। এ পেশা আজ হারিয়েও যেতে বসেছে! তবে কিছু কিছু মানুষ রয়েছেন যারা হাজারও কষ্ট ও বেদনার মাঝেও তাদের আদি পেশাকে ধরে রাখার চেষ্টা করে যাচ্ছেন নিরন্তর।
এমনই এক উদ্যোগী মানুষ মানিকগঞ্জ জেলার সিংগাইর উপজেলার নয়াপাড়া কৃষক কৃষাণী সংগঠনের সদস্য উজালা বেগম (৫০)। স্বামী ও এক ছেলে ও এক মেয়ে নিয়ে তার পরিবারের সদস্য সংখ্যা চার জন। স্বামী পেশায় একজন রিক্সা চালক।  রিক্সা চালিয়ে যা আয় হয় তা দিয়ে উজালা বেগমের সংসার চলে না। তাই সিদ্ধান্ত নেন স্বামীর পাশাপাশি তিনিও আয় রোজগারের সাথে জড়িত হবেন।

Uzala
ছোট্টবেলায় উজালা বেগম দাদীর কাছ থেকে হাত পাখা তৈরি করার কৌশল শিখেছেন। সেটাকেই তিনি এবার কাজে লাগাতে চান। এই হাত পাখা তৈরি করার জন্য তিনি তাই বাঁশ, বেত ও তালপাতা যোগার করেন। শুরু করেন হাত পাখা তৈরির কাজ। তিনি বলেন, “হাত পাখা তৈরি করতে বাঁশ, বেত, তালপাতা রঙ এবং সুতা লাগে। রঙ ছাড়া বাকি উপকরণগুলো আগে আশে পাশেই পাওয়া যেত।” তবে বাঁশ বা বেতের এখনও আগের মতো পাওয়া যায় না। তাই হাতপাখা তৈরির জন্য তাকে কিছু বিনিয়োগও করতে হয়। তিনি বলেন, “একটা পাখা তৈরি করতে সর্বমোট খরচ হয় ১০-১২ টাকা। আর বাজারে বিক্রি করি ২০ টাকা দরে।”  তিনি মাসে মাসে ৩০০টি পাখা তৈরি করেন এবং পার্শ্ববতী কৈতরা হাট ও আশেপাশের গ্রামে বিক্রি করে মাসিক ৬০০০ টাকা আয় করেন, যা দিয়ে তিনি ভালো করেই সংসারের যাবতীয় চাহিদা পূরণ করতে পারেন।
এই প্রসঙ্গে উজালা বেগম বলেন, “আমি এহোন কারও কাছে হাত পাতি না; নিজের কামাই করা টাহা দিয়া নিজের সংসার পরিচালনা করি। উজালা বেগম তার হাত পাখা তৈরির কৌশল অন্যকেও শেখাচ্ছেন যাতে করে তার অবর্তমানে কেউ না কেউ এই কাজ করে। উজালা বেগমের কাছে হাতপাখা তৈরির কাজ শিখতে আসা ফরিদা বেগম বলেন, “আমি নিজে উজালা বেগেমের কাছ থেকে হাত পাখা তৈরির কাজ শিখছি এবং আরো অনেক নারী এ কাজ শেখার আগ্রহ দেখাাচ্ছেন।”
উজালা বেগমের তৈরি করা বিভিন্ন নকশার হাত পাখা বাজারের বেশ চাহিদা রয়েছে। কিন্তু সব জায়গায় বিদ্যুৎ আসার ফলে  আগের চেয়ে এর বিক্রয় একটু কম হয়।
উল্লেখ যে, উজালা বেগমের এই পেশাকে টিকিয়ে রাখার জন্য এবং অন্যদেরকে উৎসাহিত করার জন্য বারসিক এর পক্ষ থেকে উজালা বেগমকে বাঁশ ক্রয় করার টাকা দেওয়া হয়।

happy wheels 2
%d bloggers like this: