সাম্প্রতিক পোস্ট

টেকসই উন্নয়নে চাই বহুভাষার ব্যবহার ও মর্যাদা

 

“টেকসই উন্নয়নের জন্য চাই বহু ভাষার ব্যবহার ও মর্যাদা।” ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস-২০১৭’ এর প্রধান প্রতিপাদ্য হিসেবে এই স্লোগানটি নির্ধারণ করা হয়েছে। মহান একুশে ফেব্রুয়ারি আমরা পালন করি বাংলা ভাষার জন্য প্রাণ উৎসর্গীকৃত শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে।

১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি, বাংলা ভাষার জন্য জীবন বিসর্জন দিয়ে গেছেন সালাম, রফিক, সফিক, বরকতসহ নাম না জানা অসংখ্য মানুষ। মাতৃভাষাকে রক্ষার সংগ্রামে এই বীর শহীদদের স্মৃতি আমরা কখনোই ভুলিনি, আর ভুলবোও না। পৃথিবীর সকল আন্দোলন আর লড়াই-সংগ্রামের ইতিহাসে এটি একটি অনন্য ঘটনা। তাইতো আজ বিশ্বব্যাপী আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবেই দিনটি পালিত হয়ে থাকে।

রাষ্ট্রীয়ভাবে উদযাপনের পাশাপাশি প্রত্যেকটি এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন নানাভাবে দিনটিকে উদযাপন করে। যদিও সেই উদযাপনের মধ্যে একটি শোকের আবহ থাকে। তথাপি এই দিনটিকে উৎসব হিসেবে পালন করার ক্ষেত্র কোন কমতি থাকে না। এটি যেন এক শোকের উৎসব কিংবা শোক থেকে শিক্ষা নিয়ে শক্তিতে পরিণত করার উৎসব। এটি ভালোবাসার উৎসব-মাতৃভাষা ও মায়ের প্রতি। কিংবা এটি পৃথিবীর প্রতিটি মানুষের স্বাধীনতার উৎসব। নিজস্ব মাতৃভাষায় কথা বলার উৎসব। মুক্তভাবে দ্বিধাহীন চিত্তে মনের ভাব প্রকাশ করার উৎসব।

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা নিয়ে বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষের রয়েছে নিজস্ব আবেগ ও অভিব্যক্তি। সবাই এই দিনটিকে নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন ভাবে চিন্তা করে। চিন্তার ধরণগুলো প্রজন্ম এবং পেশা ভেদে হয় ভিন্ন ভিন্ন। সে রকম কিছু ভিন্ন ভিন্ন মানুষের চিন্তা-ভাবনা, অভিব্যক্তি সবার সাথে বিনিময় করার জন্য বারসিকনিউজডটকম কয়েকটি ছোট ভিডিও প্রকাশ করে। আমাদের প্রত্যাশা সকল মাঝে এই ভিন্ন ভিন্ন আবেগগুলো নতুন প্রেরণা যোগাবে।

২১ ফেব্রুয়ারি মহিমান্বিত হয়ে রয়েছে বাংলাকে তৎকালীন পকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা করার দাবির মধ্য দিয়ে। তখন যেমন বাংলা পকিস্তানের রাষ্ট্র ভাষা ছিল ঠিক তেমনি স্বধীন বাংলাদেশের রাষ্ট্র ভাষাও আজ বাংলা। কিন্তু সেটির ব্যবহার আমরা কতটুকু করতে পেরেছি বা পারছি- তা আজ প্রশ্নসাপেক্ষ। আমরা বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করে এটি সংবিধানেই আবদ্ধ করে রখেছি। পাশাপাশি, বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জন্য বাংলাকে প্রাধান্য দিতে গিয়ে বিদ্যমান অন্যান্য ভাষাগুলোকে অবহেলা করে ফেলছি না তো? এই বিষয়টিও আমাদেরকে ভাবতে হবে। বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য কয়েকটি অঞ্চলের রয়েছে স্বাতন্ত্র্য আঞ্চলিক ভাষা। যে ভাষা কথা বলতে সেই এলাকার মানুষ স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে- সেই আঞ্চলিক ভাষা কোনভাবে অস্তিত্ত্ব সংকটে পড়ছে না। বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট, মুক্তবাজার এবং সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের ভিড়ে গুটিকয়েক ভাষার প্রাধান্যে আবার না জানি- রক্তের বিনিময়ে অর্জিত বাংলাভাষা না তার স্বকীয়তা হারিয়ে বসে। তাই আমাদেরকে যেমন মাতৃভাষা চর্চা করতে হবে। ঠিক তেমনি অন্যান্য ভাষাকেও ধারণ ও লালন করতে হবে।

আজকের পৃথিবীতে ভাষা, ঐতিহ্য আর সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয়। এই বৈচিত্র্যকে ধারণ করার মাধ্যমে প্রতিটি মানুষ অন্য ভাষা ও সংস্কৃতিকে শ্রদ্ধা জানাতে পারে। একটি সংস্কৃতি সাথে আরেকটি সংস্কৃতি, একটি ভাষার সাথে আরেক ভাষা আর ঐতিহ্যের সাথে আরেক ঐতিহ্য’র সম্মিলনই আমাদের চিন্তা আর স্বপ্নের দ্বারকে আরো প্রসারিত করে দেয়। যা উন্নয়ন ও অগ্রগতির অন্যতম প্রধান শর্ত। তাই তো পৃথিবীর এক প্রান্তের মানুষ আজ অন্য প্রান্তের মানুষের ভাষা ও সংস্কৃতির সাথে পরিচিত হচ্ছে এবং তা আত্মস্থ করছে। এর মাধ্যমে মানুষের যুথবদ্ধভাবে ভাবতে ও কাজ করতে উৎসাহিত করে। ভিন্ন ভাষাভাষী মানুষের প্রতি সম্মান ও স্বীকৃতিই পারে একটি উন্নত সংস্কৃতি বিনির্মাণ করতে। তাই সকল ভাষাভাষী মানুষের ভাষার স্বীকৃতি ও সম্মান একটি টেকসই উন্নয়নের প্রধান শর্ত বলে গণ্য।

তাই আসুন পৃথিবীর সকল ভাষার প্রতি আমরা আমাদের সম্মান জানাই আন্তজার্তিক মাতৃভাষা দিবসে।

happy wheels 2

Comments

%d bloggers like this: