Posted in

ভেষজ চিকিৎসা সেবায় সাতক্ষীরা মসলা ভান্ডারের অবদান

সাতক্ষীরা থেকে মো. মফিজুর ইসলাম (অক্ষর)

ভেষজ চিকিৎসা সেবায় অবদান রেখে চলেছে সাতক্ষীরার ঐতিহ্যবাহী ভেষজ চিকিৎসা কেন্দ্রে মসলা ভান্ডার। মানবতার সেবায় প্রতিষ্ঠানটির অবদান অসামান্য। সাতক্ষীরা সদরের সুলতানপুরের হাজী ইয়াছিন আলী ১৯৫০ সালের দিকে ভেষজ চিকিৎসা দেওয়ার জন্য ক্ষুদ্র পরিসরে প্রতিষ্ঠা করেন মসলা ভান্ডার। যা পরবর্তী সাতক্ষীরার অন্যতম বৃহৎ ভেষজ চিকিৎসা কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। বর্তমান এ প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করেন তাঁর ছেলে মো. আবুল কাশেম। প্রতিষ্ঠানটি সাতক্ষীরার সুলতানপুর বড় বাজারে অবস্থিত। প্রতিষ্ঠানটি তিনটি গোডাউন এবং ৮-১০ জন কর্মী মাধ্যমে বর্তমানে পরিচালিত হচ্ছে। সাতক্ষীরা মসলা ভা-ারের চিকিৎসা সেবা চারটি ভাগে বিভক্ত:- গাছ-গাছড়া ও বিভিন্ন ঔষধি মসলা, তৈল ও তৈলজাত দ্রব্য সামগ্রী, সুগন্ধি ও পারফিউম, প্রয়োজনীয় অন্যান্য দ্রব্যসামগ্রী।

1

গাছ-গাছড়া ও ঔষধি মসলা
সাতক্ষীরা মসলা ভা-ারে পাওয়া যায় আমলকি, হরতকি, বয়রা, চিরতা, মধু, সোনাপাত, কালোজিরা, রাধনি, ধনী, মহুরি, জোষ্ঠমধু, মেথী, অশ্বগন্ধ, গোল মরিচ, সুট, জিরা, এলাচ, লবঙ্গ, ডালচিনি, জয়ত্রি, জয়ফল, সাদাজিরা, সাদামরিচ, জটামাংসী, এলকারুট, পেপুল, কুয়াশিয়া, একাঙ্গি, ঘাড়বছ, মোটাবছ, খাবার বছ, ইউসুফগুলের ভুসি, তোকমাদানা, তারমাখানা, হালিমদানা, তিল, গুরমাপাতা, সোমরাজ, ইন্ডসব, আকরাগ, সরিষা, মাসকলই, তেতুলবীজ, আলকুসী, কিসমিস, তেজপাতা, কুলেখাড়া, ধাতু রাসনা, পেপুল মূল, মরামাংসী, মকরবীজ, গাদন্ড, স্বর্ণভস্য, পারাবস্য, রুপাভস্য, লোহাভস্য, অভ্রভস্য, স্বর্ণমাশি, অশোক, শতমূল, অন্তমূল, নাগিনী, উলটকম্বল, কালধুতরা, ত্রিমোহী, বিলম্বি, নীলকন্ঠ, গর্জন, পুদিনা, ভূই কুমড়া, রসনা, আমলকি, গুয়ে বাবলা, হাতিশুড়, শিয়াল কাটা, গুয়েলতা, নীলাঝি, সাদা ধুতরা, উনরাজ, অশোক, দূর্বা, সুবর্ণলতা, জাফরং, ছাতিম, খূেয়র, মোহুয়া, নাগদানা, বনঝুরি, ঘৃতশুমারি, স্বর্পগন্ধা, অশ্বগন্ধা, বাকসা, লালচেরি, সাদাচেরি, নিম, বাদাম, সাদাসেজি, হরিতকি, বহেরা, শ্বেতচন্দন, রক্তচন্দন, বাইননুটি, শিষনাগ, ফনিমনসা, তকমা, কাজুবাদাম, পুদিনা, পলাশসহ বিভিন্ন জাতের প্রায় শতাধিক ঔষধি গাছ এখানে পাওয়া যায়।

2

সুগন্ধি ও পারফিউম
এখানে বিভিন্ন ধরনের সুগন্ধি ও পারফিউস পাওয়া যায়। বেলি, বকুল, জনীগন্ধা, চেরিফুল, চম্পা, নাইনফ্লোয়ার, ওন ম্যানশো, রয়েল ম্যারেজ, চারলি, পায়জন, মুন, নিভিয়া, লিলি, লোটার্স, ফেরদাউস, ফানটাশিয়া, দরবার, আতর-কস্তরী, গুলেলাল, ম্যাগনেট, জেসমিন, দালাল, লেমন, কলা, আনারস, পুলওয়ারস্টোবেরি, এলোভেরা ইত্যাদি।

প্রয়োজনীয় অন্যান্য দ্রব্য সামগ্রী
উল্লেখিত দ্রব্যাদি ছাড়াও এখানে আরও অনেক প্রয়োজনীয় স্বাস্থসম্মত দ্রব্যসামগ্রী পাওয়া যায়। অভয় লবণ, ভাস্কার লবণ, সাচী লবণ, বিট লবণ, সুরভী জর্দা, শোব জর্দা, কানপুর জর্দা, হাকিমপুরি জর্দা, আকিজ জর্দা, ন্যাশনার জর্দা, নুরানি সাহা জর্দা, বাওয়া, বিস্কুটের স্বাস্থ্যসম্মত ক্যামিকাল, আইচক্রিমের ক্যামিকেল, খাওয়ার সোডা, রং ও জাফরান ইত্যাদি।

এছাড়া মসল্যা ভান্ডারের গ্যাষ্ট্রিক, আমাশয়, আলসার, কোষ্ঠকাঠিন্য, ডায়বেটিস, প্রষ্টোটগ্লান্ড, কিডনি, গনোরিয়া, শ্বেত ও রক্ত প্রদর, জ্বরায়ু ব্যাথা, এপেনডিসাইড, মাথাব্যাথা, ক্রিমি, অর্শ, চর্মরোগ, এলার্জী, এ্যাজমা, কাশি, বাত, জ্বর, অধিক স্বপ্ন দোষ, লিভার, জন্ডিস, প্রসাবে জ্বালাপোড়া, বক্ষ ব্যাথা, টনসিলসহ প্রায় শতাধিক রোগের চিকিৎসা সেবা দেওয়াা হয়।

3

মসল্যা ভান্ডারের মালিক মো. আবুল কাশেম জানান, তার এখানে প্রায় ২০০০ রকমরে বিভিন্ন ধরনের ঔষধ পাওয়া যায়। এখানে বিলুপ্ত অনেক জাতের গাছ ও গাছের অংশ পাওয়া যায়। মানুষ গাছের উপকারিতা সর্ম্পকে জানে কম। আবার গাছ চেনেও না যার ফলে এর ব্যবহার করতে পারে না বলে তিনি জানান। তিনি উদাহরণ দিয়ে জানান, আমলকি প্রচুর ভিটামিন সি সমৃদ্ধ। এটা চুল পড়া বন্ধ করে, হরতকি হজম শক্তি বৃদ্ধি ও আমাশয় রোগ প্রতিরোধক। বয়রা মাথা ঠা-া করে ও পেটের গোলমাল প্রতিরোধক। চিরতা এলার্জী প্রতিরোধক ও চুলকানি দূর করে। অশ্বগন্ধ যৌন সমস্যা দূর করে। তিল ক্যালসিয়াম এর ঘাটতি দূর করে। তিসি, গুমরাপাতা, শোমরাজ এবং ইদ্রিয়ব এগুলো ডায়বেটিস নিয়ন্ত্রক ও নিরাময়ক। আবার নিম তেল মাথা ঠা-া করে। কালোজিরার তেল বাতের ব্যাথা নিরাময়ক হিসাবে ব্যবহৃত হয়। ক্যাষ্টার ও ওয়েল মাথায় চুল গজাতে সাহায্য করে। লবঙ্গের তেল দাঁত ও মাড়ির ক্ষতের নিরাময়ক। ওলিভ ওয়েল শিশুদের শরীরে মাখার কাজে ব্যবহার হয়। মেহগনির তেল মাথায় উকুন নাশের কাজ করে এবং মাথা ঠান্ডা রাখে। চন্দন তেল মহিলাদের রূপচর্চার কাজে অধিক ব্যবহার হয়। কিন্তু এগুলো অনেকে জানেনা। তাই মানুষকে জানানো এবং এই সব সেবা দেওয়া আমাদের মূল লক্ষ্য

Bangladesh Resource Center for Indigenous Knowledge, BARCIK is a non-governmental non-profit development organization. Established in 1997 by a group of development practitioners, researchers and social workers, BARCIK has been working in the fields of environment and development with utmost commitment and purpose. Registered with the NGO Affairs Bureau under the Prime Minister’s Office, Government of Bangladesh, to operate foreign funds.