সাম্প্রতিক পোস্ট

বরেন্দ্র অঞ্চলে পরিবারভিত্তিক খাদ্য নিরাপত্তায় নারীদের ছোট ছোট উদ্যোগ

:: রাজশাহী থেকে ইসমত জেরিন , শহিদুল ইসলাম শহীদ এবং মো. এরশাদ আলী:: ::

সভ্যতার সূচনালগ্ন থেকে পরিবারের খাদ্য চাহিদা পূরণ করতে নারীরাই প্রথম খাদ্যশস্যের বীজটি রোপণ করেন। সন্তান লালন পালনের জন্য যখন নারীকে ঘরের ভেতর থাকতে হয় তখন নারীই প্রথম বাড়ির পাশে খাদ্য শস্য উৎপাদন ব্যবস্থা আবিস্কার করেন। প্রথম কৃষির সূচনা হয় একজন নারীর হাতেই। ইতিহাসের সাক্ষী হিসেবে সেই ক্রমধারা আমাদের গ্রাম বাংলার নারীদের মধ্যে এখনও বিরাজমান। গ্রামীণ নারীরাই বাংলাদেশের কৃষি অর্থনীতিকে টিকিয়ে রাখার প্রধান শক্তি হিসেবে কাজ করছে। পরিবারের পুষ্টি চাহিদা ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে অনবদ্য ভূমিকা পালন করে আসছেন।

বরেন্দ্র অঞ্চল খরা প্রবণ অঞ্চল। খরা, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নীচে নেমে যাওয়া, অনাবৃষ্টি, অসময়ে বৃষ্টি নানা দূর্যোগ সম্মুখীন হচ্ছে এই অঞ্চলের মানুষ। এই দূর্যোগের ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বরেন্দ্র অঞ্চলের কৃষি ব্যবস্থা। তবুও সেই প্রতিকূল অবস্থাকে জয় করেই নারীরা তাদের নিজস্ব জ্ঞান, সক্ষমতা, চারপাশের এই সম্পদকে কাজে লাগিয়ে নিশ্চিত করেছে সকলের খাদ্য নিরাপত্তা, খাদ্যে অর্জন করছে স্বয়ংসম্পূর্ণতা। পরিবর্তিত জলবায়ু পরিস্থিতিতে খরা প্রবণ বরেন্দ্র অঞ্চলের নারীদের এক ধরনের সংগ্রাম করতে হয় প্রতিনিয়ত। রাজশাহীর পবা উপজেলার দর্শনপাড়া ইউনিয়নের বিলনেপাল পাড়া এবং গোদাগড়ী উপজেলার গোগ্রাম ইউনিয়নের বড়শীপাড়া গ্রামের সংগ্রামরত ও উদ্যোগী কিছু নারীর পরিবর্তিত পরিস্থিতি মোকাবেলার কিছু উদ্যোগ নিন্মে তুলে ধরা হলো।

এক. বিলনেপালপাড়া নারী সংগঠনের উদ্যোগ

IMG_20160725_151852

সমস্যা আমাদেরই বেশি হয়, আমরা যারা নারী, একদিকে পরিবারের বাচ্চা-কাচ্চা আরেকদিকে নিজের গৃহপালিত পশু-পাখির যতœ নিতে হয়। তার ওপর আবার আছে সংসারের সকল কাজ। বর্ষার সময়ও পানির জন্যে আমাদের কষ্ট হয়, আবার খরার সময়ও পানির জন্যে কষ্ট, কষ্ট যেন পিছু ছাড়ে না আমাদের।” কথাগুলো বলছিলেন বিলনেপালপাড়া নারী সংগঠনের সভাপতি বিলকিছ আরা (৪৫)। তিনি আরও বলেন, “বিলে অনেক পুকুর খনন করা হয়েছে। অপরিকল্পিতভাবে খনন করায় পানিগুলো আর যেতে পারে না, ঠাসা খেয়ে জমাট বেধে থাকে, বাড়ি ঘরেও উঠে। সব মিলে আমাদেই দুরাবস্থা বেশি হয়। কিন্তু আমরাও থেমে নেই, কাজ করছি সবাই মিলে সমস্যা সমাধানের জন্যে। বাড়িতে যে জলাবদ্ধতা তৈরি হযেছে, সেটি সমাধানে আমারা সবাই মিলে এবার পাইপ এনে পানি চলাচলের ব্যবস্থা করেছি। বাড়ির আঙিনায় আর পানি উঠবে না।”

রাজশাহীর পবা উপজেলার দর্শনপাড়া ইউনিয়নের বিলনেপাল পাড়া গ্রামটির একপাশে জুয়াখালি নদী আর তিন দিকেই বলা যায় বিল দিয়ে ঘেরা। বিলে একসময় নারীরা তাদের জ্বালানি সংগ্রহ করতো, বিলকে কেন্দ্র করে পুরুষরা নানা কাজের সাথে জড়িয়ে থাকতো। কিন্তু দিনে দিনে বিলের বৈচিত্র্য নষ্ট হয়ে গেছে। বিলে এখন কৃত্রিম পুকুর খনন করে সব কিছু নষ্ট করে ফেলা হয়েছে। ফলশ্রুতিতে জলাবদ্ধতারও সৃষ্টি হচ্ছে বলে এলাকাবাসীরা জানান। তাদের ভাষ্যমতে, কৃত্রিম পুকুর খননের কারণে গ্রামের দেশী গাছের পরিমাণ কমে গেছে; দেশী জাতগুলোও আর নেই। মানুষের অসুখ বিশুখ লেগেই থাকে। অন্যদিকে জমিতে প্রচুর পরিমাণ সার ও কীটনাশক দেওয়ায় স্বাস্থ্যের ক্ষতি হচ্ছে। খরার সময় খাবার পানির সমস্যা দেখা দেয়। অনেক দূরদূরান্ত থেকে পানি আনতে হয় নারীদেরই।

গ্রামের এসব সমস্যাগুলো নিয়ে নারীরা বসে নেই। সমস্যা সমাধানে তারা এক হয়ে নিজের সমাজ এবং পরিবারের উন্নয়নে একতাবদ্ধ হয়েছেন। এই একতাবদ্ধভাবে থাকার জন্য তারা একটি সংগঠন গড়ে তুলেছেন। যার নাম দিয়েছেন বিলনেপালপাড়া নারী সংগঠন। এই প্রসঙ্গে বিলকিছ আরা বলেন, “দিনে দিনে আমারা এক হয়ে নিজেদের সমস্যাগুলো সমাধানের উদ্যোগ গ্রহণ করছি। দুর্যোগকালীন শাক ও সবজির সমস্যা সমাধানের জন্য আমার অচাষকৃত শাকসবজিগুলো রক্ষার উদ্যোগ নিয়েছি। পরিত্যক্ত জায়গায় অচাষকৃত শাকসবজির প্রদর্শনী প্লট তৈরি করেছি। যাতে নতুনরা এই উদ্ভিদগুলো চিনে এবং এগুলো সংরক্ষণে তাদেরও মায়া জন্মে, আগ্রহ জন্মে।” তিনি জানান, পরিবারের খাদ্য ও পুষ্টির যোগান দিবে এই অচাষকৃত শাকসবজিগুলো।

প্রতিটি বাড়িতে চলতি বর্ষা মৌসুমে একটি করে ফলজ বৃক্ষের চারা রোপণ করেছেন সংগঠনের সদস্যরা। এই গাছগুলো একদিকে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করবে অন্যদিকে তাদের ফলের চাহিদাও মেটাবে বলে তারা মনে করেন। শুধু শাকসবজি বা গাছ রোপণ নয়; এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য নারীরা ইউনিয়ন পরিষদের যোগাযোগ করেছেন। যোগাযোগ করেই তারা ক্ষান্ত হননি। সমস্যা সমাধানের নিজেরা যা যা করা দরকার তারা সেটাই করেছেন। তাই স্ব-উদ্যোগে তারা পানি চলাচলের জন্যে তিনটি পাইপ কিনে এনে রাস্তার মধ্যে বসিয়েছেন। যাতে বর্ষার সময় বাড়িতে পানি আটকে না থাকে।

অন্যদিকে বিলের মধ্যে যেন কৃত্রিম পুকুর খনন করা না হয় এ বিষয়ে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং মেম্বারদের সাথে মতবিনিময় করেছেন। গ্রামটাকে পরিবেশবান্ধব এবং সুখী গ্রাম করতে তাঁরা একতাবদ্ধভাবে কাজ করে যাচ্ছেন বলে জানান। এছাড়া বিলের জমিতে জলাবদ্ধতার মধ্যেও ফসল উৎপাদন (ধান) করার জন্য নারীরা পানি সহনশীল ধান জাতের পরীক্ষামূলক চাষ শুরু করেছেন। সংগঠনের ৩৫ জন নারী সদস্যরা একতাবদ্ধ হয়ে বিভিন্ন দুর্যোগ ও দুর্ভোগ মেকাবিলায় পরস্পরের সাথে কাজ করে যাচ্ছেন

দুই: মোছা মনজিলা বেগমের সবুজ উদ্যোগ

IMG_3334

গোদাগড়ী উপজেলার গোগ্রাম ইউনিয়নের বড়শীপাড়া গ্রামের শান্তিপুর পাড়ায় বসবাস করেন মোছা মনজিলা বেগম। বড়শীপাড়ার যৌথ পরিবার থেকে একক পরিবারে ৬ বছর হলো বিভক্ত হয়ে তিনি শান্তিপুর পাড়ায় পরিবাররসহ বসবাস শুরু করেন। পরিবারের ৪জন সদস্য। স্বামী, স্ত্রী ও দুই ছেলে। স্বামী মো. সাবেয়ার আলী কৃষিকাজের সাথে যুক্ত। পরিবারের চাহিদা পূরণের সহযোগিতায় স্বামীর পাশাপাশি মনজিলা বেগম গড়ে তুলেছেন সবজি বাগান ও প্রাণী সম্পদ। সবজি বাগানে খরা মৌসুমে ছিল পুই শাক, তরই, করলা, বর্ষা মৌসুমে রয়েছে চালকুমড়া,মিষ্টি কুমড়া, লাউ, তরই, ঝিঙ্গা ও বরবটি এবং শীতের জন্য বপন করা হয়েছে করলা, বেগুন, মরিচ ও রসুন। প্রাণী সম্পদের মধ্যে রয়েছে গর” ৭টি, ছাগল ৮টি, চিনা হাঁস ২১টি এবং মুরগী ৩৫টি। পরিবারের পুষ্টি চাহিদা পূরণ করে প্রতিবছরই তিনি প্রায় পাঁচ হাজার টাকার মুরগি এবং সাত হাজার টাকার হাঁস বিক্রি করেন।

এছাড়া বিগত বছরে মিষ্টি কুমড়া বিক্রি করেছেন তিন হাজার টাকা, চাল কুমড়া সাতশ টাকা এবং পুই শাক ৫০০ টাকা। সারাবছর সবজি চাষ করার জন্য প্রয়োজনীয় বীজ তিনি ঘরেই সংগ্রহ করে রাখেন। প্রতিটি বীজের জন্য আলাদা আলাদা কৌটা ব্যবহার করেন যাতে বীজ ভালো থাকে এবং মাঝে মাঝে রোদে দেন যাতে কোন পোকা না লাগতে পারেন। পরিবারের পুষ্টি চাহিদা পূরণের পাশাপাশি তিনি সবজি ও প্রানী সম্পদ বিক্রির টাকা দিয়ে কখনও বাজার খরচ, নবম শ্রেণীতে অধ্যয়নরত ছেলের প্রাইভেট খাতা কলমের খরচ, নিজের ও সন্তানের চিকিৎসার খরচ, নিজের ও ছেলেদের কাপড়, ঘর গৃহস্থালীর তৈজসপত্র, নিজের জন্য সোনার গয়না, অন্যের কৃষি জমি চাষের জন্য কটে নেয়া, কৃষি জমির উৎপাদন খরচের জন্য ব্যয় করেছেন।

সারাবছর সবজি চাষ ও প্রাণী সম্পদ পালনের বিষয়ে মনজিলা বলেন, “বাইরে থেকে কিনতে গেলে তো টাকা লাগবে, ভালো পাওয়াও যাবে না। তাই বাড়িতেই করি। এতে করে শরীরে ভিটামিনও পাওয়া যাবে আবার বাড়ির টাকা অন্য কাজেও লাগানো যাবে।” মনজিলা তার পাড়া প্রতিবেশীদের কাছেও খুব প্রিয়। কারণ তার বাড়ির সবজি থেকে শুরু করে সবজি বীজ তিনি পাড়ার সকল নারীদের সাথে সহভাগিতা করেন। তাই শান্তিপুর পাড়ায় মনজিলা বেগম আজ অন্য নারীদের কাছে অনন্য উদাহরণে পরিণত হয়েছে। যাকে সবাই আদর্শ গৃহিনী বলেই ডাকেন।

তিন: আত্মনির্ভরশীল কামরুন্নাহার

IMG_4140

সেলাই মেশিনের কাজ, সারাবছর সবজি চাষ ও প্রাণী সম্পদের পালনের মাধ্যমে উন্নতিকরণে উদ্যোগী আরেকটি নাম হলো মোছাঃ কামরুন্নাহার। স্বামী, স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়ে নিয়ে তার পরিবার। স্বামীর কৃষিকাজের টাকায় পরিবারের সকল চাহিদা মেটানো সহ যখন এসএসসি পরীক্ষার্থী মেয়ের পড়াশোনার খরচ বহন করা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। তখন কামরুন্নাহার পরিবারে স্বামীর সহযোগিতায় প্রথমে পরিবারের চাহিদা পূরণে বাড়ির পাশে সবজি চাষ এবং হাঁস, মুরগি, গরু পালন শুরু করেন। বর্তমানে কামরুন্নাহারের বাড়িতে দু’টি গরু ও একটি গাভী রয়েছে। গাভীর দুধ খাওয়ার পাশাপাশি বিক্রি করেন। এছাড়া তাঁর বাড়িতে রয়েছে, ২৫টি মুরগি এবং ১০টি হাঁস।

মোছাঃ কামরুন্নাহার জীবিকা অর্জনের জন্য বাড়ির পাশের এক শতক জমিতে খরা মৌসুমে লাউ, পুই শাক চাষ করেন। তাঁর জমিতে বর্ষা মৌসুমে মিষ্টি কুমড়া, চাল কুমড়া, ঝিঙ্গা, ধুমা লাগানো হয়েছিল। শীতের সবজি হিসেবে সীম, বেগুণ, করলা বপন করা হয়েছে। এভাবে কামরুন্নাহারের বাড়ির প্রতিদিনের খাবারের একটি তরকারি বাড়ির তৈরি সবজি থেকেই হয়ে যায়। আবার যেদিন বাজার করার টাকা থাকে না সেদিন বাড়ির আশেপাশর অচাষকৃত শাক আর বাড়ির তৈরি সবজি দিয়েই চলে যায় সেদিনকার প্রয়োজনীয় খাবার।
কামরুন্নাহারের এই উদ্যোগের ফলে যেমন পরিবারের পুষ্টি চাহিদা, অতিরিক্ত খরচ, সার-বিষমুক্ত টাটকা সবজি খেতে পারছেন তেমনি এখান থেকে বাচানো টাকা পরিবারের অন্য কাজে যেমন ছেলেমেয়েদের পড়ালেখা, কৃষি জমির কাজেও ব্যবহার করতে পারছেন। এ সম্পর্কে কামরুন্নাহার বলেন, “সবসময় স্বামীর কাছে হাত পাততে খুব খারাপ লাগে। তাই এগুলো কাজ করার পর এখন আর হাত পাততে হয় না। নিজের দুই পাচ টাকার খরচ নিজেই চালাতে পারি।” কামরুন্নাহারের এই উদ্যোগে তাই তার স্বামীও এখন খুব খুশি।

চার: শান্তিপুরের নমীতা রানী

শান্তিপুর পাড়ার আরেকজন নারী হলেন নমীতা রানী। স্বামী কৃষি দিনমজুর অভিমুন্নু। দুই মেয়ে ও এক ছেলের সংসার তাঁর। নমীতা রানীর পরিবারে অভাব ও অনটন সবসময়ই লেগে থাকতো। তাই সংসারের চাকাকে সচল করার জন্য তাঁর স্বামীকে কৃষি মজুরের পাশাপাশি ট্রাকে মালামাল বহনের কাজ করতে হয়। পরিবারের অভাব ও অনটনের ঘুচানোর বিষয়টি নমীতা রানীর মাথায় আসে। তিনি চিন্তা করেন কীভাবে স্বামীর পাশাপাশি তিনিও আয় রোজগারের কাজ করতে পারেন। এভাবে প্রাথমিকভাবে তিনি বসতভিটায় শুরু করেন মিষ্টি কুমড়ার চাষ।

এই মিষ্টি কুমড়া চাষের ক্ষেত্রে তিনি কখনও মাচায় তুলে, কখনও বাড়ির চালে আবার কখনও গাছের ডালপালায় তুলে দেন মিষ্টি কুমড়ার গাছ। মিষ্টি কুমড়া চাষ করে তিনি লাভবান হন এবং পরিবারের জন্য বাড়তি কিছু আয় করতে সক্ষম হন। উৎসাহিত হন তিনি। এভাবে সবজি চাষের প্রতি তাঁর আগ্রহ বেড়ে যায়।

বর্তমানে তিনি সারাবছরই বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি চাষ করেন। জৈব উপায়ে সবজি চাষ করায় তাকে বাজার থেকে কোন বীজ কিনতে হয়নি। কারণ তিনি নিজেই সেসব সবজির বীজ সংরক্ষণ করে রাখেন। এছাড়া তিনি তার সংরক্ষিত বীজ অন্যের সাথে সহভাগিতা করেন।

নমীতা সবজি বিক্রি করে যে টাকা আয় করেন তার সবটাই খরচ করেন সংসারের প্রয়োজনীয় কাজে। তিনি বলেন, “আমার স্বামীর যা অবসস্থা তাতে যদি সবজি চাষ না করতাম তাহলে আমার চিকিৎসায় করাতে পারতাম না, ঔসুধ ও খেতে পারতাম না। তাই নিজের কথা ভেবে হলেও এই কাজগুলা শুরু করি।” নমীতা তার এই উদ্যোগ সম্প্রসারণ করার জন্য ইতিমধ্যে মুরগি পালন করতে শুরু করেছেন। মুরগির ডিম বিক্রি করে যেমন বাড়তি আয় করেছেন ঠিক তেমনি পরিবারের পুষ্টি যোগান দিতেও রেখেছে বড় ভূমিকা।

যেই পরিবারের পক্ষে মাসের তিনবেলা ভালো খাবার জোগানো কষ্টসাধ্য সেখানে চিকিৎসার মতো বড় অংকের খরচ জোগানোর কথা তো ভাবাই যায় না। তাই নিজের খরচের ভার নমীতা রাণী নিজে বহন করার এক অনন্য দৃষ্টান্ত তুলে ধরেছেন। নমীতার এই উদ্যোগ তার পরিবারের জন্য যে নতুন এক দ্বার খুলে দিয়েছে প্রতিটি পরিবারের জন্যই তা শিক্ষণীয়।

happy wheels 2
%d bloggers like this: