Posted in

লবণাক্ততায় বিলুপ্তির দিকে উদ্ভিদবৈচিত্র্য

সাতক্ষীরার শ্যামনগর থেকে গাজী আল ইমরান

খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে দেশের জিও এবং এনজিওগুলো সম্মিািলতভাবে কাজ করে যাচ্ছে। নিরাপদ খাদ্যের জন্য প্রতিনিয়ত বিভিন্ন ধরনের কর্মসূচি চলমান। বিগত দিনে মানুষের পুষ্টির চাহিদা মেটাতে বাড়ির আঙিনায় পড়ে থাকা কুড়িয়ে পাওয়া সবজি সংগ্রহ করতো পরিবারের গৃহিনীরা যা নিরাপদ খাদ্য হিসেবে পরিচিত যুগ যুগ ধরে। শুধু পুষ্টির চাহিদা মেটানো নয়, প্রাথমিক চিকিৎসার ক্ষেত্রে কুড়িয়ে পাওয়া ভেষজ গাছের ব্যবহার ছিলো চোখে পড়ার মতো। কিন্তু আইলা এবং লবণাক্ততা ধ্বংস করেছে এইসব জীববৈচিত্র্য এমনটাই বলেছে শ্যামনগর উপজেলার ধুমঘাট এলাকার বিভিন্ন শ্রেণী ও পেশার মানুষ।

তাদের সাথে আলোচনার এক পর্যায়ে তারা বলেছেন, ‘আইলা শুধুমাত্র মানুষ কিংবা ঘরবাড়ি ধ্বংস করেনি বরং আমাদের খাদ্যের উৎসও ধ্বংস করেছে।’ তাদের ভাষ্যমতে, ‘আগে বেশকিছু উদ্ভিদ পাওয়া যেত যা এখন আর তেমন চোখে পড়েনা।’ উদাহরণস্বরূপ তারা বলেছেন, ‘বউনুটি, কাটানুটি, বেতো শাক।’

তাঁরা অচাষকৃত উদ্ভিদের ব্যবহার জানে কিনা এ বিষয়ে তারা বলেছেন, ‘আমরা আমাদের এলাকায় যে সমস্ত উদ্ভিদ জন্মাতো তার অধিকাংশের নাম এবং ব্যবহার জানি কিন্তু এগুলো আজ হারাতে বসেছে। আমরা আগে বাড়ির আঙিনা এবং বিল কুড়িয়ে প্রায় দিনের সবজির চাহিদা মেটাতে পারতাম কিন্তু তা আজ গল্পের মধ্যে সীমাবদ্ধ। বিল এবং বাড়ির আঙিনায় বিভিন্ন ধরনের অচাষকৃত উদ্ভিদ জন্মালেও আজ লবণাক্ততার কারণে তা আর দেখা যায় না।

ধান কাটার কিছুদিন পর থেকেই সমস্ত জমি ধরেই লবণাক্ততা কেটে ওঠে এমনটাই বলেছেন এখানকার কৃষকেরা। ‘লবণাক্ততা জীবনটাকে কুড়েকুড়ে খাচ্ছে’ এভাবে বলেছেন বয়োঃজ্যোষ্ঠ ননী গোপাল। বছর ঘুরে বছর আসলেই লবণাক্ততা বেড়েই চলেছে বলে তারা মনে করেছেন।

তারা বলেন, ‘আমাদের ছেলেমেয়েরাও তো অচাষকৃত উদ্ভিদগুলোর ব্যবহার সম্পর্কে জানে না তাদের এগুলোর গুরুত্ব ও ব্যবহার সম্পর্কে জানানো দরকার।’ আলোচনায় অনেকেই বলেন, ‘লবণের মধ্যে এখনও অনেক উদ্ভিদ টিকে আছে। আগে পাওয়া যেতো পরিমাণে বেশি আর এখন পাওয়া যায় পরিমাণে কম। তবে সবসময় নয়; যেমন বর্ষা ও ধান কাটার সাথে সাথে এগুলো বেশি দেখা যায়, যা আমরা আমাদের পারিবারিক কাজে ব্যবহার করি।’ তারা আরও বলেন, ‘এখনও বাচ্চাদের স্বর্দি কাশি হলে আমরা তুলসির পাতা, বাকশার পাতা বেটে মধুর সাথে খেতে দিই। এছাড়াও হাঁস-মুরগি ও গরু ছাগলের নানান রোগের ক্ষেত্রে আমরা কুড়ানো এ শাক নিজস্ব জ্ঞান দক্ষতার সাথে ব্যবহার করি।’

আলোচনায় অংশগ্রহণকারী জানান, অনেক শাক তারা সবজি ও ওষুধ হিসাবে ব্যবহার করেন। তাদের এলাকার নতুন প্রজন্মের বাচ্চাদের জানানোর জন্য এবং যাতে তারা আরো বেশি এগুলো ব্যবহার ও সংরক্ষণ করে তার জন্য এ মাসে একটি পাড়া মেলা আয়োজন করবেন বলে সিদ্ধান্ত নিয়ছেন।

অংশগ্রহণকারীরা এসকল উদ্ভিদ বৈচিত্রের ব্যবহার বৃদ্ধি ও টিকিয়ে রাখার জন্য এগুলোর ব্যবহার বৃদ্ধি, যেখানে টিকে আছে সেটা সংরক্ষণে রাখা, পরিবার পর্যায়ে বসতভিটায় লাগানো, বিভিন্ন মেলা, কুইজ প্রতিযোগিতা ও সভা আয়োজন করাসহ নানান উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলেন।

Bangladesh Resource Center for Indigenous Knowledge, BARCIK is a non-governmental non-profit development organization. Established in 1997 by a group of development practitioners, researchers and social workers, BARCIK has been working in the fields of environment and development with utmost commitment and purpose. Registered with the NGO Affairs Bureau under the Prime Minister’s Office, Government of Bangladesh, to operate foreign funds.