Posted in

জৈব সারের ফসলের স্বাদই আলাদা

শ্যামনগর, সাতক্ষীরা থেকে বিশ্বজিৎ মন্ডল
শ্যামনগর উপজেলার শ্যামনগর সদর ইউনিয়নের কালমেঘা গ্রামের কৃষাণী অদিতি রানী মন্ডলের বাড়িতে কালমেঘা কৃষি নারী সংগঠনের উদ্যোগে ও বারসিক’র সহায়তায় গতকাল ভার্মি কম্পোস্ট তৈরি ও ব্যবহার বিষয়ে একটি ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রশিক্ষণে কালমেঘা গ্রামের কৃষক, কৃষাণী, শিক্ষার্থীসহ মোট ১৫ জন অংশগ্রহণ করেন। উক্ত প্রশিক্ষণে প্রশিক্ষক হিসাবে সহায়তা প্রদান করেন কালমেঘা কৃষি নারী সংগঠনের সহ-সভানেত্রী অদিতি রানী মন্ডল।


প্রশিক্ষণে অদিতি রানী মন্ডল বলেন, ‘আমরা প্রায় বাড়িতে নানান ধরনের ফসল চাষাবাদ করি। সে ফসলে আমরা যেমন জৈব সার ব্যবহার করি তেমনিভাবে আবার বাজার থেকে রাসায়নিক সার কিনেও ব্যবহার করি। কিন্তু নিজেদেরকে ভালো রাখার জন্য, আমাদের জমিকে ভালো রাখার জন্য এবং শরীর সুস্থ রাখার জন্য জৈব সারের কোন বিকল্প নেই। কিন্তু আমরা সবাই তা করিনা। আমরা সব সময় বাজার থেকে সার কিনে ব্যবহারের চেষ্টা করি। এটা ঠিক নয়; আমাদের ভালোভাবে বেঁচে থাকার জন্য জৈব সারের ব্যবহার বাড়াতে হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘জৈব সার কিন্তু আমরা বাড়িতে সবাই তৈরি করতে পারি। শুধু গরুর গোবর দিয়েই যে জৈব সার তৈরি করা যায় তা কিন্তু নয়। আজ যেমন আমরা গোবর দিয়ে কেঁচো কম্পোস্ট তৈরি করা শিখলাম। এইরকম নানান কিছু দিয়ে সার তৈরি করা যায়। বাড়িতে ময়লা আবর্জনা, তরকারির খোসা, কচুরিপোনা এরকম নানান উপায়ে তৈরি করা যায় জৈব সার। শুধুমাত্র দরকার আগ্রহ ও প্রচেষ্টা। আমরা যদি মনে করি বাজারের সার কিনবো না বাড়িতে তৈরি করে ব্যবহার করবো তাহলেই কিন্তু তা করা সম্ভব।’


প্রশিক্ষণের অংশগ্রহণকারী বাসন্তী রানী, রাধাকান্ত মন্ডলরা বলেন, ‘আমরা বেশ কয়েক বছর এই উপায়ে জৈব সার তৈরি করে ব্যবহার করছি। আমাদের বাড়িতে কেঁচো কম্পোস্ট আছে আমরা নিজেরো যেমন ব্যবহার করি অন্যদেরকেও ব্যবহার করতে বলি। আমরা শুধুমাত্র সবজির ক্ষেতে ব্যবহার করিনা। ধান ক্ষেতে, ফলজ গাছে এমনকি চিংড়ি ঘেরেও ব্যবহার করি। সব থেকে ভালো যেটা তা হলো এই সার ব্যবহারে ফসলের স্বাদই যেন আলাদা।’
অন্য অংশগ্রহণকারী আরতী, কল্পনা, ইন্দ্রা গায়েনরা জানান, ‘প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তারা জৈব সারের নানান গুণাবলী সম্পর্কে জানতে পারলেন। গ্রামে অনেকই ভার্মি কম্পোস্ট ব্যবহার করছেন। বারসিক’র নিকট কেঁচো কম্পোস্ট তৈরির উপকরণ নাদা সহায়তা পেয়ে তারা জৈব সার তৈরির চেষ্টা করবেন বলে জানান।

Bangladesh Resource Center for Indigenous Knowledge, BARCIK is a non-governmental non-profit development organization. Established in 1997 by a group of development practitioners, researchers and social workers, BARCIK has been working in the fields of environment and development with utmost commitment and purpose. Registered with the NGO Affairs Bureau under the Prime Minister’s Office, Government of Bangladesh, to operate foreign funds.