Posted in

‘পরম যত্নে পালন করি গরুগুলো’: তুলসী রানী

সাতক্ষীরা থেকে মননজয় মন্ডল

পারিবারিক উন্নয়নের পুরুষের পাশাপাশি নারীরা অগ্রণী ভুমিকা পালন করে। গৃহস্থলী কাজের পাশাপাশি আর্থিক উন্নয়নের জন্য নারীরা নানা ধরনের আয়মূলক কর্মকান্ড পরিচালনা করে থাকেন। তেমনই একজন উদ্যোগী নারী তুলসী রাণী।

২০২১ সালে অক্টোবর মাসে নেটজ পার্টনারশিপ ফর ডিভেলপমেন্ট জাস্টিস’র সহযোগিতায় বারসিক’র বাস্তবায়নে পরিবেশ প্রকল্প শুরু হলে বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের কদমতলা গ্রােেমর কদম সিএসও দলে যুক্ত হয় তুলসী রানী রানী। এর কিছুদিন পরে বারসিক পরিবেশ প্রকল্প থেকে তার পারিবারিক ও ব্যবসায়িক উন্নয়ন পরিকল্পণার প্রেক্ষিতে উৎপাদনশীল সম্পদ হিসেবে তাকে একটি গরু সহযোগিতা করা হয়। এছাড়া তিনি ৩টি হাঁস, দুটি গাছের চারা ও সামান্য পরিমাণ বর্ষাকালীন বীজ সহযোগিতা করা হয়। তিনি গরুটি ক্রয় করতে নিজের জমানো ৮ হাজার টাকা যুক্ত করে একটি (বকনা) দেশীয় গরু ক্রয় করেন। পরিবেশ প্রকল্প থেকে তাকে একই সাথে একটি কদবেল ও সবেদার চারা ও ৩টি হাঁস সহযোগিতা পান। এরপর বারসিক’র নিয়মিত আলোচনা, প্রশিক্ষণ, পরামর্শ ও সহযোগিতায় তার নিজের সম্পদটাকে বৃদ্ধির জন্য উদ্যোগী ও যত্নশীল হন।

তুলসী রাণীর (২৮) অসুস্থ স্বামী অচিন্ত্য মন্ডল (৩৬) পেশায় একজন দিনমজুর। খুব বেশি আয় করতে পারে না বলেই নিজেকে অপরের বাড়িতে দিনমজুরের কাজ করতে হয়। ছেলে নিলয় (১১) মেয়ে রাধা (৩) ও শ^াশুড়ী গান্ধারীকে নিয়ে ৫ জনের সংসার কোনরকমে চলছে। স্বামী ও স্ত্রীর ৪ শতক বসতভিটা ছাড়া আর কোন জমি না থাকায় দিনমজুরের আয়ের উপর চলতে হয় তাদের।

পারিবারিক কাজের পাশাপাশি স্বামী ও স্ত্রী মিলে নিজের গরুটাকে ভালোভাবে দেখাশুনা করেন। নিজেদের গোয়াল ঘরে খুব যতœ করে গরুটাকে পালন করেন। কিছুদিন পর গরুটি একটি বাচ্ছা জন্ম দেয়। এখন গরু দুটি তাদের পরিবারের একটি বিশেষ অংশ হিসেবে পরম মমতায় পালিত হতে থাকে। এখন গুরু দুটি তুলসী রাণীর একটি বড় স্বপ্নের জন্ম দিয়েছে। গরুর গোবর থেকে তার পরিবারের জ¦ালানির চাহিদা পূরণ হচ্ছে।

এ বিষয়ে তুলসী রানী বলেন, “আমি গরু দুটিকে নিজের হাতে অনেক যতœ নিয়ে লালনপালন করছি। বাইরে থেকে ঘাস কেটে এনে খেতে দিই। ঠিকমত যতœ নিয়মিত পরিচর্যা করি। এখন আমার গরু দুটির আনুমানিক মূল্য ৬০ হাজার টাকা। তবে আমি এখন এগুলো বিক্রি করব না। গোয়াল ভর্তি গরু করতে চাই। আর তখন একটি গরু বিক্রি করে আমার বাস ঘরটি মেরামত করব।’

গরু দুটি তুলসী রানীর একটি বড় স্বপ্ন। এটা একদিকে যেমন তার পারিবারিক স্বপ্ন পুরণ হবে অপরদিকে তেমনি দেশীয় প্রাণবৈচিত্র্য সুরক্ষা পাবে।

Bangladesh Resource Center for Indigenous Knowledge, BARCIK is a non-governmental non-profit development organization. Established in 1997 by a group of development practitioners, researchers and social workers, BARCIK has been working in the fields of environment and development with utmost commitment and purpose. Registered with the NGO Affairs Bureau under the Prime Minister’s Office, Government of Bangladesh, to operate foreign funds.