Posted in

গবাদি পশু-পাখি পালন আমাদের আয়ের একটি বড় উৎস

সাতক্ষীরা, শ্যামনগর থেকে বিশ^জিৎ মন্ডল
‘আমােেদর বসবাস এই চুনা নদীর চরে। বাড়িরে চারিপাশে শুধু লবণ পানি। এই লবণ পানিতে আমাদের বসতভিটায় কোন ফসল ভালোভাবে চাষাবাদ করতে পারিনা। কেবল মাত্র বর্ষা মৌসুমে নদীর, খাল, পুকুর ও ঘেরের পানিতে লবণের মাত্রা কম থাকায় কিছুটা সবজী ফসল উৎপাদন করতে পারি। বছরের অধিকাংশ সময়ে আমরা সবজি উৎপাদন করতে না পারলেও সারাবছর বাড়িতে বিভিন্ন প্রজাতির হাঁস-মুরগি, ছাগল, ভেড়া, কবুতর, কোয়েল পালন করে থাকি। আর এসকল গবাদি পশু পালন করে ভালোই আয় হয়। আমাদের এখানে প্রায় পরিবারে কম বেশি করে গবাদি পশু পালন করে থাকি। গবাদী পশু পালন করাতে যেমন খাদ্য পুষ্টি চাহিদা পূরণ হয় তেমনি সংসারের প্রয়োজন মিটিয়ে আর্থিকভাবে লাভবান হতে পারি। তাই এই গবাদি পশু পাখি পালন আমাদের আয়ের একটি বড় উৎস।’


উপরোক্ত কথাগুলো বলেন শ্যামনগর উপজেলার ইশ্বরীপুর ইউনিয়নের কৃষাণী মর্জিনা বেগম। গতকাল বারসিক’র সহায়তায় এবং জাওয়াখালী কৃষি নারী সংগঠনের উদ্যোগে গুমানতলী গ্রামের নুরনাহার বেগমের বাড়িতে হাঁস-মুরগি পালন ও পরিচর্যা বিষয়ক প্রশিক্ষণে উপরোক্ত কথাগুলো বলেন তিনি।


উক্ত প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে গুমানতলী ও জাওয়াখালী গ্রামের ১৫ জন কৃষাণী অংশগ্রহণ করেন। প্রশিক্ষণে প্রশিক্ষক হিসাবে বিভিন্ন তথ্য সহভাগিতা করেন কৃষক নেতা শেখ সিরাজুল ইসলাম।


প্রশিক্ষক শেখ সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘খামার ভিত্তিক চাষ এবং পারিবার ভিত্তিক অল্প পরিমাণে চাষের জন্য আলাদা আলাদা পরিকল্পনা করতে হবে। ডিম থেকে বাচ্চা উৎপাদনের জন্য মেশিনে বা প্রাকৃতিকভাবে হাঁস-মুরগির কোলে দিয়ে বাচ্চা ফুটানো হোক না কেন তার জন্য আলাদা আলাদা নিয়মে করতে হয়। হাঁস –মুরগির বাচ্চার একদিনে থেকে শুরু করে পরবর্তী মাসের একদিন পর্যন্ত নির্দিষ্ট নিয়ম অনুযায়ী পরিচর্যা করলে মৃত্যুর পরিমাণ এবং রোগ ব্যাধি কম হবে।’


তিনি আরো বলেন, ‘রোগ প্রতিকারের চেয়ে রোগ প্রতিরোধ করা জরুরি। তার জন্য আগে থেকে নিয়ম করে বিভিন্ন ঔষধ, ভ্যাকসিন প্রদান করতে হবে। হাঁস-মুরগির ঘরগুলো পরিস্কার পরিছন্ন রাখতে হবে। নিজের সন্তানদের যেমনভাবে পরিচর্যা করতে হয় গবাদি পশুরও তেমনিভাবে পরিচর্যা করতে হবে।’


সব শেষে অংশগ্রহণকারীরা হাঁস-মুরগি পালনের সমস্যার মাত্রা কমানোর জন্য কিছু প্রস্তাব রাখেন। প্রস্তাবগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: পরিবার ভিত্তিক স্থানীয় হাঁস-মুরগি সহায়তা, যৌথ খামার তৈরি, ইনকিউবেটর মেশিন সহায়তা, হাঁস-মুরগির ঘর তৈরির উপকরণ, তিন মাস পর পর ভ্যাকসিনেশন ক্যাম্প আয়োজন, ঔষধ খাওযানোর নিয়মাবলীর চার্ট এবং কিছু ঔষধ সহায়তা।

Bangladesh Resource Center for Indigenous Knowledge, BARCIK is a non-governmental non-profit development organization. Established in 1997 by a group of development practitioners, researchers and social workers, BARCIK has been working in the fields of environment and development with utmost commitment and purpose. Registered with the NGO Affairs Bureau under the Prime Minister’s Office, Government of Bangladesh, to operate foreign funds.