সাম্প্রতিক পোস্ট

রাজশাহীতে নগর দারিদ্র ও জলবায়ু সম্মেলন অনুষ্ঠিত

রাজশাহী থেকে মো. শহিদুল ইসলাম

‘সকলের জন্য নগর’ শীর্ষক নগর দারিদ্র ও জলবায়ু সম্মেলন আজ (২৩ জুন) রাজশাহীর কুকিজার কনফারেন্স হলে অনুষ্ঠিত হয়েছে। উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান বারসিক’র আয়োজনে উক্ত সম্মেলনে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের বস্তির সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠী, সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, নাগরিক সমাজ, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, লেখক, সাংবাদিকসহ স্বেচ্ছাসেবী তরুণরা অংশগ্রহণ করেন।

3

সম্মেলনে অংশগ্রহণ ও বক্তব্য দেন শহর সমাজসেবা কর্মকর্তা আশিকুজ্জামান, জেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা মনজুর কাদের, ব্যবসায়িক সমন্বয় পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সেকেন্দার আলী, রাজশাহী সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক জামাত খান, রাজশাহী প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আসলাম-উদ-দৌলা, দৈনিক ইত্তেফাকের জেলা প্রতিনিধি আনিসুজ্জামান, ব্রাক এর আঞ্চলিক সমন্বয়কারী ফারজানা পারভীন, রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলর নাদিরা বেগম।

উক্ত সম্মেলনে রাজশাহীর ১৬টি তরুণ সংগঠন বস্তির দরিদ্র মানুষদের নিয়ে তাদের কার্যক্রমগুলো উপস্থাপন করেন। সম্মেলনের নানা শ্রেণী ও পেশার শতাধিক নারী পুরুষ অংশগ্রহণ করেন। সম্মেলনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বারসিক’র পরিচালক এবিএম তৌহিদুল আলম। বারসিক রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের বিগত দিনে বিভিন্ন কার্যক্রম পাওয়ারপয়েন্ট আকারে তুলে ধরেন বারসিক বরেন্দ্র অঞ্চল সমন্বয়কারি শহিদুল ইসলাম।

সম্মেলনে বক্তারা বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনজনিত নানাবিধ প্রাকৃতিক আপদ যেমন; বন্যা, নদীভাঙন, জলাবদ্ধতা, ঘূির্ণঝড়, খরা, শৈত্যপ্রবাহ, লবণাক্ততার কারণে মানুষ জীবিকার তাগিদে গ্রাম ছেড়ে শহরে ভিড় করছেন। তারা বেশিরভাগ বসবাসের স্থান হিসেবে বেছে নেন শহরের অপরিকল্পিত এবং অপরিচ্ছন্ন বস্তি বা ফুটপাতের খোলা জায়গায়। অন্যদিকে জলবায়ু পরিবর্তনের এই প্রভাব গ্রামের পাশাপাশি শহরকেও নানভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে তুলছে। প্রাকৃতিক দূর্যোগের এই প্রভাব শহরের বস্তিবাসীর জীবনকে আরও অসহনীয় করে তুলছে। রাজশাহী শহরে আসা লোকদের মধ্যে কেউ কেউ খাস ও খালি জমিতে, মহাসড়ক বা রেললাইনের ধারে এবং শিল্প এলাকায় ছোট ছোট হালকা ঘর/ঝুপড়ি নির্মাণ করে বসবাস করে। সময়ের ব্যবধানে বস্তিবাসীদের সমস্যার হার বাড়তে আছে।’ বক্তারা আরও বলেন, ‘রাজশাহীর বেশীরভাগ বস্তিতেই স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, বিদ্যুৎ, বিশুদ্ধ পানির, পয়োঃনিষ্কাশন ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সুব্যবস্থা পর্যাপ্ত পরিমাণে নেই। বরং আছে ভয়ংকরভাবে নিরাপত্তাহীনতা। দিনে দিনে বসবাসের নিরাপত্তাসহ নানামূখী নিরাপত্তাহীনতার কারণে রাজশাহীর বস্তিবাসীগণ আরো সংকটের মুখে পড়ছেন। রাজশাহীতে রেল লাইনের ধারে, খাস ও খালি জমিতে বা মহাসড়কের পাশে যে বস্তিগুলোতে মানুষ বসবাস করতো, সম্প্রতি সময়ে কিছু এলাকায় উচ্ছেদ করে তাদের অমানবিকভাবে তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এটা অমানবিক কাজ।’

20190623_121306

সম্মেলনে বস্তিবাসীরা বলেন, ‘উচ্ছেদের কারণে আমরা বস্তি পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছি। এর ফলে আমাদের পেশা এবং জীবিকার সমস্যা দেখা গেছে। আমরা বস্তির মানুষেরা এই শহরটাকে সচল করে রেখেছি কিন্তু রাষ্ট্র এই আমাদের মতো দরিদ্র জনগোষ্ঠির জীবনকে সচল রাখার জন্য উল্লেখযোগ্য কোন পদক্ষেপ নিচ্ছেনা।’ অংশগ্রহণকারী নাগরিক সমাজসহ সকলে বলেন, ‘রাজশাহীতে বসবাসকারী সকল মানুষের সুন্দরভাবে বেঁচে থাকার জন্য সুন্দর আবাসন ব্যবস্থা এবং সুন্দর পরিবেশ নিশ্চিত করা একান্ত প্রয়োজন।

সম্মেলনে আট দফা সুপারিশ তুলে ধরা হয়। সুপারিশগুলো হলো:
১. রাজশাহীসহ দেশের সকল নগরে দরিদ্রের মৌলিক নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
২. নগর দরিদ্রের জন্য নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব বাসস্থান নিশ্চিত করতে হবে।
৩. ঝুঁকিপূর্ণ পেশায় শিশু ও নারীদের যুক্ত করা যাবে না। নিরাপদ পেশার সৃষ্টিতে কর্মসূচি নিতে হবে।
৪. নগর দরিদ্রের জন্য বিনামূল্যে বিশেষ কারিগরি ও ব্যবহারিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।
৫. দূর্যোগ ঝুঁকি মোকাবেলায় নগর দরিদ্রের জন্য বিশেষ ঝুঁকি ভাতা/প্রণোদনা দিতে হবে।
৬. রাজশাহী শহরের খাল, প্রাকৃতিক জলাশয়, উন্মুক্ত স্থান, খেলার মাঠ, পার্ক, বিনোদন স্থল, শরীর চর্চা স্থল নগরের সকল শ্রেণী ও পেশার মানুষের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
৭. নগর দরিদ্রের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে এবং
৮. জাতীয় দূর্যোগ পরিকল্পনায় নগরের দূর্যোগ ও ঝুঁকিকে সুস্পষ্টভাবে চিহ্নিত করে যুক্ত করতে হবে।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বারসিক’র পরিচালক এবিএম তৌহিদুল আলম।

happy wheels 2

Comments

%d bloggers like this: