Posted in

শ্যামনগরে কেমন আছে প্রবহমান আদী যমুনা

বিজয় মন্ডল, সাতক্ষীরা শ্যামনগর থেকে

শ্যামনগরে প্রবহমান আদী যমুনার ইতিহাস হয়তো অনেকেই জানেন। কিন্তু কাল থেকে কালান্তরে অবৈধ দখল আর সরকারি অব্যবস্থাপনায় যমুনা হারিয়েছে তার স্বাভাবিক প্রবাহ। যুগ যুগ ধরে শ্যামনগরের মানুষকে মায়ের মতো আগলে রাখা যমুনাকে জবাই করে খন্ড বিখন্ড করা হয়েছে। গড়ে তোলা হয়েছে রাস্তা, অবৈধ স্থাপনা। যমুনার খন্ড বিখন্ডিত অংশ গুলোতে ময়লা আবর্জনা ও বিষাক্ত বজ্য ফেলে করা হয়েছে আবর্জনার ভাগাড়।

Screenshot_2019-06-17-20-40-53-023_com.miui.gallery

দীর্ঘ কয়েক যুগ যমুনাকে নিয়ে সরকারি কোন উদ্যোগ না থাকায় প্রবহমান আদী যমুনা নদী খন্ডিত কিছু অগভীর জলাশয়ে রূপ নিয়েছে। যার ফলশ্রুতিতে যমুনা যে নিরবে কাঁদতে শুরু করেছে অনেক আগে থেকেই, যমুনার নিরব কান্নার অশ্রু যে প্রতি বর্ষা মৌসুমে ফুলে ফেঁপে উঠে শ্যামনগরবাসীকে প্লাবিত করে, ঘটায় চরম পরিবেশ বিপর্যয় সেটা যেন শ্যামনগরবাসী বার বার ভূলেই যায়।

শরৎচন্দ্রের মৃত্যুঞ্জয়কে নির্ঘাত মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরিয়ে আনা বিলাসীর করুণ মৃত্যুতেও বিন্দুমাত্র আপসোস করেনি তৎকালীন সমাজের মানুষেরা, কিন্তু শ্যামনগরে প্রবহমান আদী যমুনা নদীর করুণ মৃত্যু হলে যে শ্যামনগরবাসীকে যুগের পর যুগ বছরের পর বছর আফসোস করে যেতে হবে একথা বোধহয় বলা যেতে পারে।

যা হোক শ্যামনগরবাসীকে আশার আলো দেখিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে যমুনায় আবার প্রবাহ আনতে, যমুনার খন্ড বিখন্ডিত অংশগুলোকে আবার জুড়ে দেওয়ার প্রচেষ্টায় কয়েকটি ছোট ব্রীজ নির্মাণ করা হয়। কিন্তু শ্যামনগরে যমুনায় প্রবাহ আনতে যমুনাকে জুড়তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে স্থানগুলোতে ব্রীজ নির্মাণ দরকার সেসব জায়গায় আদৌ ব্রীজ হবে কিনা তা নিয়ে রয়েছে সংশয়।

Screenshot_2019-06-17-20-41-49-809_com.miui.gallery

এখন পর্যন্ত যে স্থানগুলোতে ব্রীজ নির্মাণ হয়েছে সেগুলোর প্রায় প্রতিটিই হাস্যকর নির্মাণে রূপ নিয়েছে। কারণ এর কোনটির দৈর্ঘ্য, প্রস্থ, উচ্চতা বর্তমানে অবশিষ্ট যমুনা নদীকে আরো বেশি ছোট করতে ভূমিকা রাখে। কোনটির নিচে বা সামনে মাটি, আবর্জনা জমে উঁচু হয়ে উঠেছে। কারণ ব্রীজ নির্মাণ হলেও, ব্রীজের দুপাশে আশানুরূপ কোন খনন কাজ হয়নি। কোনটির সামনে আবার পাটার দেওয়াল তোলা হয়েছে, যে কারণে প্রবাহ না হয়ে মাটি জমে গেছে।

আবার কোন ব্রীজ দেখলে মনে হবে একটা পুকুরের মাঝখানে একটা ব্রীজ, তার দুপাশে যমুনার বুকে বাঁধ রয়ে গেছে। শ্যামনগরবাসী এখন শ্যামনগরকে পৌরসভায় রূপদানের স্বপ্ন দেখছে। বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণের সবচেয়ে বড় উপজেলা সুন্দরবনের গাঁ ঘেঁষা পর্যটনে অবাধ সম্ভাবনাময়। শ্যামনগরবাসীর এ স্বপ্নকে অনেক বড় স্বপ্ন বলা যায় না। কিন্তু এই ছোট স্বপ্নটিই যদি বাস্তবায়ন হয় তাহলে কি যমুনা আর কাঁদবে না, তার সেই প্রবাহ ফিরে পাওয়ার আশায়?

Screenshot_2019-06-17-20-42-36-993_com.miui.gallery

শ্যামনগর শহরকে দুভাগ করে বয়ে যাওয়া প্রবাহমান আদী যমুনার যে প্রশস্ততা এখনো বর্তমান রয়েছে। তাকে কাজে লাগিয়ে এটাকে করা যেতে পারে পর্যটনে অবাধ সম্ভাবনাময় শ্যামনগরের মানুষের প্রাণের দাবি শ্যামনগর পৌরসভার অন্যতম দর্শনীয় স্থান।

কিন্তু শ্যামনগরে প্রবহমান আদী যমুনার সম্ভাবনা দেখতে না পাওয়া, যমুনার নীরব কান্না দেখতে না পাওয়া, যমুনায় প্রবাহ ফিরিয়ে আনতে না পারার এ ব্যর্থতা কার, এ ব্যর্থতা কি শুধুই প্রসাশনের নাকি শ্যামনগর বাসীর নিরবতার!!

 

Bangladesh Resource Center for Indigenous Knowledge, BARCIK is a non-governmental non-profit development organization. Established in 1997 by a group of development practitioners, researchers and social workers, BARCIK has been working in the fields of environment and development with utmost commitment and purpose. Registered with the NGO Affairs Bureau under the Prime Minister’s Office, Government of Bangladesh, to operate foreign funds.