Posted in

সংগঠন আমাদের সমন্বিত শক্তি

হরিরামপুর থেকে মুকতার হোসেন ও সত্যরঞ্জন সাহা
হরিরামপুর উপজেলার চরাঞ্চলসহ কৃষকের অধিকার, খাদ্য শস্যের ন্যায্যমূল্য, দুর্যোগ মোকাবেলা, বৈচিত্র্যময় ফসল চাষ, প্রাণবৈচিত্র্য রক্ষা, করোনা মোকালোয় উদ্যোগ, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় কৃষকের ফসল চাষে কৃষক সংগঠনের সমন্বিত উদ্যোগগুলো দারুণ ভূমিকা রেখেছে। স্থানীয় এসব কৃষক সংগঠন, যুব সংগঠন, প্রতিবন্ধী উন্নয়ন সংগঠন, দুর্যোগ কমিটি, নারী সংগঠনসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনগুলো এলাকার নানান সমস্যা সমাধানে সমন্বিতভাবে উদ্যোগ নিয়েছে। ফলশ্রুতিতে উদ্যোগ বাসÍবায়ন সহজ হয় এবং লাভবান হয়েছে স্থানীয় মানুষেরা। এ সকল জনসংগঠনগুলো এলাকার সমস্যাকে চিহ্নিত করে আলোচনার মাধ্যমে নিজেরা উদ্যোগ গ্রহণ করেন এবং সমাধানের উদ্যোগ নেন।

চলতি বছরে হরিরামপুর উপজেলায় সংগঠনগুলো সমন্বিতভাবে উদ্যোগ বাস্তবায়নের জন্য অক্টোবর-২০২০ থেকে সেপ্টেম্বর-২০২১ সালের বার্ষিক কর্মপরিকল্পনা তৈরির জন্য সভা আয়োজন করে। সভায় বিগত বছরের কাজের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয় এবং এলাকার কি কি সমস্যা রয়েছে সেগুলো চিহ্নিত করেন। আলোচনার ফলাফলের ওপর ভিত্তি করেই তাঁরা আগামী বছরের কর্মপরিল্পনা তৈরি করেন। কর্মপরিকল্পনায় যে বিষয়গুলো গুরুত্ব দিয়ে উঠে আসে তার মধ্যে কৃষি প্রাণবৈচিত্র্য রক্ষা, বৈচিত্র্যময় ফসল চাষ, মসলা, তেল ও ডাল জাতীয় ফসলে চাষ ইত্যাদি। এছাড়া প্রবীণ-অধিকার সুরক্ষায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, নারীর অধিকার রক্ষা, দুর্যোগ মোকাবেলায় আবাদ ও সম্প্রসারণ করা, মিশ্র ফসলচাষের বিষয়গুলোও ভালো গুরুত্ব পেয়েছে তাদের কাছে।

এই প্রসঙ্গে হরিরামপুর প্রতিবন্ধী উন্নয়ন সংগঠনের সভাপতি আব্দুল করিম বলেন, ‘আমাদের অধিকার আদায়ে আমরা একজন আরেকজনের হাতে হাত রেখে কাজ করি। সবাই মিলে কাজ করার ফলে আমরা অধিকাংশ কাজেই সফলতা পাই। সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে আমরা অংশগ্রহণ করে আমাদের অধিকার আদায়ের কথা বলতে পারি।’ তিনি আরও বলেন, ‘বারসিক’ ও প্রতিবন্ধী সংগঠনের সমন্বিত উদ্যোগ আমাদের সংগঠন শক্তিশালী হয়েছে। সমাজে ও সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে আমাদের মর্যাদা বৃদ্ধি পেয়েছে ও সুনাম বাড়ছে। বারসিক ভিন্নভাবে সক্ষম ব্যক্তিদের আয় বর্ধনমূলক কাজের জন্য প্রশিক্ষণ ও উদ্যোগ সৃষ্টিতে কাজ করে আসছে। সরকারিভাবে ভিন্নভাবে সক্ষম ব্যক্তিদের ভাতা প্রাপ্তির ফলে পরিবারে গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি পেয়েছে।’
আন্ধারমানিক নারী উন্নয়ন সংগঠনের সভাপতি লিলি বেগম বলেন, ‘সংগঠন আমাদের সকলের সমন্বিত শক্তি। সংগঠনের মাধ্যমেই আমরা পরস্পরকে জানতে পারি। সংগঠন পরিচালনার মাধ্যমে আমাদের কথাগুলো বিভিন্ন ফোরামে বলতে পারি। নারীদের অধিকার আদায়ে সম্মিলিত শক্তি ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে পারি। জীবনযুদ্ধে জয়ী হওয়ার জন্য আমরা মাঠেঘাটে শ্রম দিয়ে প্রতিষ্ঠিত হতে পারি ও আগামী স্বপ্নকে লালন করি।’

হরিহরদিয়া কৃষক সংগঠনের সভাপতি নান্নু প্রামাণিক বলেন, ‘সংগঠনের মাধ্যমে কাজগুলো বাস্তবায়ন করা সহজ হয়। এলাকার কৃষক সংগঠর গড়ে উঠার মাধ্যমে নিজেরা উপযোগি ফসল নির্বাচনে চাষ করেন। কৃষক পর্যায়ে তথ্য আদান প্রদান ও বীজ বিনিময়ে উদ্যোগগুলোও সফল হয়। আলোচনা বিভিন্ন বিষয়ে ও আবাদ কৌশল আমরা জানতে পারি। বারসিক এলাকার কৃষকদের সংগঠিত করে। কৃষি প্রাণবৈচিত্র্য সংরক্ষণে উদ্যোগ সৃষ্টিতে সহায়তা করে। বিভিন্ন এলাকার কৃষকদের সাথে আমাদের সম্পর্ক উন্নয়ন ও জাতবৈচিত্র্য আদান প্রদানের মাধ্যমে আবাদ ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় উদ্যোগ গ্রহণ করতে পারি আমরা।’


জনসংগঠন একটি ঐক্যবদ্ধ শক্তি। সংগঠনের মাধ্যমে সমন্বিত উদ্যোগ সফলভাবে বাস্তবায়ন করা যায়।

Bangladesh Resource Center for Indigenous Knowledge, BARCIK is a non-governmental non-profit development organization. Established in 1997 by a group of development practitioners, researchers and social workers, BARCIK has been working in the fields of environment and development with utmost commitment and purpose. Registered with the NGO Affairs Bureau under the Prime Minister’s Office, Government of Bangladesh, to operate foreign funds.