Posted in

মণিঋষিদের শিক্ষায় এগিয়ে নিতে উদ্যোগ নিন

সত্যরঞ্জন সাহা, হরিরামপুর, মানিকগঞ্জ

করোনায় বাংলাদেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মত কালই শিক্ষা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে (প্রি- প্রাথমিক) স্কুলও বন্ধ রয়েছে। শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া চলছে বাড়িতে। মানিকগঞ্জের হরিররামপুর উপজেলার কালই ১০০ মণিঋষি পরিবারের মধ্যে ৯৫ পরিবারের লোকজন লেখাপড়া জানে না বা শুধুমাত্র স্বাক্ষর জ্ঞান জানে। করোনায় স্কুল বন্ধ থাকায় মণিঋষি শিশুরা বাসায় পড়ার সুযোগ পায় না। যার কারণে তাদের শিক্ষার ব্যাঘাত ঘটছে। তবে এসব সমস্যা সমাধানে এগিয়ে আসেন স্কুল শিক্ষক এসোনা মনিদাস। তিনি শিক্ষার্থীদের বাড়িতে গিয়ে ও অভিভাবকদের সাথে কথা বলে লেখাপড়ার খোঁজ নেন। শিশুদের শিক্ষায় মনোযোগ সৃষ্টি করতে বিভিন্ন রঙের কলম দিয়ে তাদের গ্রাম, প্রাণ প্রকৃতি, তাদের স্বপ্ন আঁকার উৎসাহিত করেন। এসব উপকরণ পেয়ে শিশুরা মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা ও চিত্রাংকন করে।

করোনার জন্য বর্তমানে সপ্তাহে একদিন কালই শিক্ষা স্বাস্থ্য কেন্দ্র স্কুল কার্যক্রম চলে। করোনার জন্য সকল শিক্ষার্থী মাস্ক পড়ে স্কুলে আসেন। নিরাপদ দূরুত্ব বজায় রেখে লেখাপড়া করে। স্কুলে এসে তারা ছড়া, কবিতা আবৃত্তি করে, ছবি আঁকে। এভাবে প্রতিযোগিতার জন্য স্কুল কমিটির পক্ষ থেকে ২৮ জন শিক্ষার্থীদের চিত্রাংকন, কবিতা আবৃতি ও গান গাওয়ার জন্য উৎসাহিত করা হয়। অভিভাবকগণ শিশুদের আঁকাআঁকির জন্য রং পেনসিল, কাগজ, কলম ও পাঠদানে সহযোগিতা করেন। বারসিক মণিঋষিদের সচেতনতা সৃষ্টি এবং তাদের পাঠদানকে আনন্দময় করে তোলার জন্য ‘আমাদের গ্রাম’ শীর্ষক চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা আয়োজনে সহযোগিতা করে। শিশুরা এই প্রতিযোগিতায় স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করে। মনের মাধুরী মিশিয়ে তাদের গ্রামের ছবি আঁকে। তাদের আঁকা ছবি দেখে তাদের অভিভাবকরাও খুশি।

এই প্রসঙ্গে কালই মণিঋষি শিক্ষা স্বাস্থ্য কেন্দ্রের (প্রি-প্রাথমিক) সভাপতি নিত্যমনি সরকার বলেন, ‘মণিঋষিগণ শিক্ষায় পিছিয়ে আছে, পরিবারের লোকজন লেখাপড়া জানেন না। এজন্য মনিঋষি শিশু শিক্ষার্থীদের শিক্ষার প্রাথমিক ভিত তৈরির জন্য আমরা সবাই মিলে শিক্ষা কেন্দ্র তৈরি করেছি। যুবকদের সম্মিলিতভাবে উদ্যোগ নিয়ে শিক্ষার জন্য কাজ করছেন। করোনার সময় শিক্ষার্থীদের বাড়িতে গিয়ে লেখাপড়ার খোঁজ নেয় তারা।’

পাওনান মণিঋষি শিক্ষা স্বাস্থ্য কেন্দ্র (প্রি-প্রাথমিক) করোনাকালীন শিক্ষা উদ্যোগ হিসাবে শিক্ষক অর্চনা সরকার শিক্ষার্থীদের চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা ও বই পড়া, কবিতা আবৃতি এবং নাচে গানে শিক্ষা দিয়ে উৎসাহিত করছেন। তাদের বাড়ি গিয়ে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার খবর নেয় ও শিক্ষার্থীগণ বাড়িতে চিত্রাংকন করার জন্য উৎসাহিত করেন। পাওনান মণিঋষি শিক্ষা স্বাস্থ্য কেন্দ্রের (প্রি-প্রাথমিক) সভাপতি ময়ারাম মণিদাস বলেন, ‘আমরা স্বেচ্ছা শ্রমের মাধ্যমে মণিঋষি শিক্ষা স্বাস্থ্য কেন্দ্র তৈরি করেন। করোনায় স্কুল টিচারকে লেখাপড়ার পরামর্শ ও মণিঋষি শিক্ষার্থীদের আঁকাআঁকি করার জন্য পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করেন। স্কুলের ৩০ জন শিক্ষার্থী সপ্তাহে বৃহস্পতিবার স্কুল করার সময় মাস্ক ও হাত ধোয়ার ব্যবস্থা করে সহযোগিতা করেন। শিক্ষার্থীদের আনন্দঘন পরিবেশে শিক্ষা দেয়ার জন্য উৎসাহিত করেন। সামাজিক উদ্যোগে পাওনান মণিঋষি শিক্ষা স্বাস্থ্য কেন্দ্র (প্রি- প্রাথমিক) স্কুল ঘর তৈরি করে দেয়। ফলে শিক্ষার্থীগণ সুন্দর পরিবেশে লেখাপড়ায় সহায়ক হবে।’

করোনাকালীন সময়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলেও শিক্ষ ও যুবদের উদ্যোগে জনউদ্যোগে গড়ে উঠা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার ও আঁকাআঁকি করার উৎসাহিত করে সহযোগিতা করেন। করোনা সচেতনতা সৃষ্টিতে যুবকগণ সম্মিলিতভাবে কাজ করছেন। করোনায় স্বাস্থ্য বিধি মেনে শিক্ষার্থীদের আনন্দঘন পরিবেশে শিক্ষা দেওয়ার জন্য উৎসাহিত করেন।

Bangladesh Resource Center for Indigenous Knowledge, BARCIK is a non-governmental non-profit development organization. Established in 1997 by a group of development practitioners, researchers and social workers, BARCIK has been working in the fields of environment and development with utmost commitment and purpose. Registered with the NGO Affairs Bureau under the Prime Minister’s Office, Government of Bangladesh, to operate foreign funds.