সাম্প্রতিক পোস্ট

কুমড়ো বড়ি তৈরি করে বাড়তি আয় করছেন আশা ভৌমিকেরা

চাটমোহর, পাবনা থেকে ইকবাল কবীর রনজু

শীতকালের উপাদেয় খাবার কুমড়ো বড়ি। ডালের আটার সাথে পাকা চালকুমড়ো ভাল করে ফেনিয়ে মিশিয়ে তৈরি করা কুমড়ো বড়ি শৈল, টাকি টেংড়াসহ বিভিন্ন মাছের সাথে তরকারি হিসেবে খাওয়া হয়। শীতের সময় বউ শ্বাশুড়ি মা বোনেরা বাড়িতে খাবার জন্য এ বড়ি তৈরি করেন। অনেকে কুমড়ো বড়ি তৈরি করে বিভিন্ন হাট বাজারে বিক্রি করেন। মুখরোচক হওয়ায় ভোজন রসিকরা বাজার থেকে কুমড়ো বড়ি কিনে খান। দেশের অন্যান্য এলাকার মতো পাবনার চাটমোহরে ও কুমড়ো বড়ি তৈরি হয়। দীর্ঘ বছর যাবত এ এলাকার প্রায় শতাধিক পরিবার কুমড়ো বড়ি তৈরি করে বাজার জাত করে আসছেন। তবে চাটমোহর পৌর সদরের দোলং মহল্লায় কুমড়ো বড়ি বেশি তৈরি হয়। সম্প্রতি কথা হয় কয়েকজন কুমড়ো বড়ি তৈরির কারিগরের সাথে।

bori-1
পাবনার চাটমোহর পৌর সদরের দোলং মহল্লার গৃহবধু আদুরী ভৌমিক বলেন, “বিশ বছরের বেশি সময় ধরে প্রতিবছর প্রায় চার পাঁচ মাস আমরা কুমড়ো বড়ি তৈরি করে বিক্রি করে আসছি। খেশারী, ছোলা, এ্যাংকর ডাল ভিজিয়ে ধুয়ে পরিষ্কার করে মিল থেকে পিষে আনি। এরপর খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠে এগুলি পাকা কুমড়ো দিয়ে ভাল করে ফেনিয়ে পলিথিনের প্যাকেটে ভরে পলিথিনের নিচের দিকের কোনা পরিমান মতো কেটে সে অংশ দিয়ে টিনের তৈলাক্ত মাচায় বড়ি দেই।’ তিনি আরও বলেন, ‘কুমড়ো বড়ি রোদে শক্ত হয়ে গেলে উল্টিয়ে দেই। এর পর দুই তিন ঘন্টা পর পর নেড়ে দেই যেন সব অংশে সমানভাবে রোদ পায়। ভালো রোদ হলে দুই তিন দিনে শুকিয়ে যায় কুমড়ো বড়ি। শুকোনোর পর বাড়ির পুরুষ সদস্যরা সেগুলো পার্শ্ববর্তী চাটমোহর থানা বাজার, রেলবাজার, হরিপুর, কাটাখালী, খৈরাশ, জোনাইলসহ স্থানীয় হাট বাজারে বিক্রি করেন। বর্তমান বাজারে প্রতি কেজি এ্যাংকর ডাল ৩০ টাকা, খেশারী ডাল ৪০ টাকা এবং ছোলার ডাল ৮০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।’

bori-4

তিনি বলেন, ‘আমরা এ্যাংকর ডালের বড়ি ৮০ টাকা, খেশারী ডালের বড়ি ৯০ থেকে ১শ টাকা এবং ছোলার ডালের বড়ি ১শ থেকে ১শ’ ২০ টাকায় বিক্রি করি। আমার স্বামী প্রদীপ ভৌমিকের ফলের ব্যবসা রয়েছে। আমরা বাড়িতে এ কাজগুলো বাড়তি কিছু আয় আসে যেটা পরিবারে সহায়ক ভূমিকা রাখে। তাছাড়া বিভিন্ন কাজে নিজেদের ও তো পয়সার দরকার হয়। সব সময় তো চাওয়া যায় না। তাই সংসারে বাড়তি স্বচ্ছলতা ও নিজেদের প্রয়োজন মেটানোর জন্য আমরা কুমড়ো বড়ি তৈরী করে থাকি।’

bori-6
মৃত বিরু ভৌমিকের স্ত্রী উষা রাণী ভৌমিক (৬০) বলেন, “চার ছেলে আমার। সবার পৃথক সংসার। বড় ছেলে সনাতন একটি কোম্পানিতে চাকুরি করে। দ্বিতীয় ছেলে নিরঞ্জন কুমড়ো বড়ি বিক্রি করে। তৃতীয় ছেলে মানিক আইসক্রিম বিক্রি করে। আর চতুর্থ ছেলে বিকাশ স্বর্ণকারের কাজ করে। ছেলেরা সবাই আমাকে ভালোবাসে। তবে আমি নিরঞ্জনের সংসারে আছি। বয়স হলেও ঘরে বেকার বসে থাকা ভালো লাগে না। তাই আশি^ন থেকে মাঘ এ পাঁচ মাস কুমড়ো বড়ি তৈরি করি। ছেলে হাট বাজারে এগুলো বিক্রি করে। এতে বাড়তি কিছু আয় আসে। সংসারে অনেক খরচ। এ বাড়তি আয় টুকু সংসার পরিচালনায় সহায়ক ভূমিকা রাখে।’ প্রতিকূলতা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘ডাল ভিজিয়ে পেষার পর অথবা কুমড়ো বড়ি দেওয়ার পর দুই তিন দিন এক নাগারে বৃষ্টি হলে সব বড়ি পঁচে যায়। তখন আমাদের অনেক ক্ষতি হয়ে যায়।’

কেবল আদুরী বা উষা ভৌমিক নয় তাদের মতোই এ এলাকার আরো অনেকেই কুমড়ো বড়ি তৈরী করে বাড়তি আয় করছেন।

happy wheels 2

Comments

%d bloggers like this: