Posted in

ভিন্নভাবে সক্ষম ব্যক্তিদের সামাজিক মর্যাদা দিই

হরিরামপুর, মানিকগঞ্জ থেকে সত্যরঞ্জন সাহা

‘আমি একজন ভিন্নভাবে সক্ষম ব্যক্তি। যার কারণেই বাবার পরিবারে রান্নাসহ কৃষি কাজ করে জীবনধারণ করতে হয়। শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী হওয়ায় আমার বয়সে অন্যরা যখন স্কুলে যায়, আমি তখন মায়ের সাথে বাড়িতে কাজ করি। আমার বাবা মা স্কুলে যেতে দেয়নি, প্রতিবন্ধীতার কারণে। আমার ইচ্ছে থাকলেও লেখাপড়া শিখে অনেক বড় হবো, তা সম্ভব হলনা। পরিবারেই বাবা মা ও ভাইয়ের আদরে বড় হই। আমি বুঝতে শিখে, মাঝে মধ্যেই আমার চিন্তা হয়, আমার জীবন কিভাবে যাবে। কারণ গ্রামের নারীদের যে বয়সে বিয়ে হয়, আমার তা হয়নি প্রতিবন্ধীতার কারণে। বাধ্য হয়ে বাবার সংসারে হাল ধরলাম। কারণ আমার ভাই ঢাকা গামেন্টসে চাকরি, ছুটি কম বলে বাড়িতে আসতে পারে না। নিজের খাবারে জন্য আমার যুদ্ধ করতে হয়।’


উপরোক্ত কথাগুলো বলেছেন ভিন্নভাবে সক্ষম ব্যক্তি আছমা আক্তার। তাঁর বাড়ি হরিরামপুর উপজেলার কর্মকারাকান্দি গ্রামে। তিনি জানান, বারসিক তাদের এলাকায় কাজ করার মাধ্যমে বাড়ির আঙ্গিনায় বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি ও মসলা চাষে পরামর্শ প্রদান করে। বীজ বাড়ি থেকে বীজ নিয়ে চাষাবাদে উৎসাহিত করে। তিনি উদ্যোগ নিয়ে বারসিক’র সহযোগিতায় লাউ, সীম, দুন্দুল, ঝিঙ্গা, মিষ্টিকুমড়া, চালকুমড়া বীজ সংগ্রহ করে চারা তৈরি করেন। বাড়ির পাশে পতিত জায়গায় হলুদ চাষ ও পদ্মার বেরিবাঁধে বিভিন্ন ধরনের শাক সবজির চাষ করেন বলে জানান। তিনি বাড়ির আঙ্গিনায় নিজ হাতে কাঁঠাল, আম, বেল, জলপাই গাছ লাগান। বাড়ির গাছ থেকে মৌসুমে আম, কাঁঠাল, বেল খেয়েও বিক্রিও করতে পারেন। এছাড়া মসলা ও শাকসবজি চাষ করে নিজেদের পুষ্টি চাহিদা পূরণ করতে পারেন।


আসমা আক্তার বলেন, ‘প্রতিবেশীদের নিকট থেকে হলুদ সংগ্রহ করে বাড়িতে গাছের নিচে বপন করি ও ঘরে সাইস বা দাইড়ের মাটিতে বেগুন চারা রোপণ করি। এতে করে আমাদের খাবার চলে এবং বাজারে বিক্রয় করে সংসারের অন্যান্য খরচ মিটাতে পারি। তাছাড়াও বাড়িতে ছাগল, হাঁস, মুরগি পালন করি। প্রাণি সম্পদ থেকে কিছু টাকা পাই। আমি বাড়িতে বিভিন্ন ধরনের মরিচ চাষ করার জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। ঘরে শাকসবজি না থাকলে পালানে বা চক থেকে কুড়িয়ে পাওয়া খাদ্য সংগ্রহ করি।’ হরিরামপুরে বন্যার সময় শাকসবজি নষ্ট হয়ে যায়। ফলে নিচু চক থেকে শাপলা, চর থেকে কলমি শাক ও বন্যা পরবর্তীতে কচু শাক সংগ্রহ করতে হয় এলাকার মানুষকে। আছমা আক্তার প্রতিবন্ধী উন্নয়ন সংগঠনের সাথে যুক্ত হয়ে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে প্রতিবন্ধী ভাতা কার্ড থেকে ভাতা পান।


বারসিক ও প্রতিবন্ধী উন্নয়ন সংগঠনের সাথে যুক্ত হয়ে আছমা আক্তারের মতো আরও অনেক ভিন্নভাবে সক্ষম ব্যক্তিরা সামাজিক মর্যাদার প্রাপ্তির জন্য নানাভাবে চেষ্টা করে যাচ্ছেন। এই প্রসঙ্গে আছমা আক্তার বলেন, ‘আমি আমার বাবা ও মাকে সেবা দিয়ে সুস্থ রাখতে চাই। আমি প্রত্যাশা করি আমার মতো ভিন্নভাবে সক্ষম ব্যক্তিরা যেন সামাজিক মর্যাদা লাভ করে। পরিবারে ও সমাজে যাতে তারা বৈষম্য ও বঞ্চনার শিকার না হয়।

Bangladesh Resource Center for Indigenous Knowledge, BARCIK is a non-governmental non-profit development organization. Established in 1997 by a group of development practitioners, researchers and social workers, BARCIK has been working in the fields of environment and development with utmost commitment and purpose. Registered with the NGO Affairs Bureau under the Prime Minister’s Office, Government of Bangladesh, to operate foreign funds.