Posted in

নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে কাজ করছেন চরের কৃষক শের আলী

হরিরামপুর মানিকগঞ্জ থেকে মুকতার হোসেন
হরিরামপুর উপজেলা একটি দুর্যোগ প্রবণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত। প্রতি বছর বন্যা, নদীভাঙন, অতিবৃষ্টি আবার অনাবৃষ্টি বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলা করে এলাকার মানুষের জীবন ও জীবিকায়ন করতে হয়। কৃষি এই এলাকার মানুষের প্রধান পেশা। কৃষি কাজের মাধ্যমেই চরের মানুষের জীবন জীবিকার আয়ের প্রধান উৎস। শের আলী একজন প্রান্তিক কৃষক। তিনি ৬৬ শতক জমিতে বছরব্যাপি শাকসবজি চাষ করে থাকে। শের আলীর প্রাতিষ্ঠানিক তেমন শিক্ষা অর্জন করতে পারেননি। তবে স্বাক্ষর জ্ঞান রয়েছে তার। কৃষি কাজের সাথে দীর্ঘ ৩০ বছর জড়িত থাকার কারণে কৃষি পেশার তার রয়েছে তার অভিজ্ঞতা দক্ষতা ও সক্ষমতা। আর সেই দক্ষতাকে ও অর্জিত চর্চাকে কাজে লাগিয়ে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে চরে ভূমিকা রাখছেন।


শের আলী বাড়ির পাশে যে ৬৬ শতক জমি রয়েছে সেখানে সে পাট বোরো মৌসুমে ধান চাষ করতেন। তবে নিয়মিত বন্যা এবং নিকটবর্তী স্থানে প্রাকৃতিক জলাশয় না থাকায় পাট জাগ দিতে পারতেন না। আবার বোরো মৌসুমে পানি সেচ রাসায়নিক সার কীটনাশক ব্যবহারে করে চাষ করার ফলে তার উৎপাদন খরচ বেশি হত।
কৃষক শের আলী ২০২০ সালে উত্তর পাটগ্রামচর গ্রামে জনসংগঠনের আয়োজনে এবং বারসিক সহায়তায় একটি নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন এবং বীজ সংরক্ষণ বিষয়ক একটি প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করেন। ওই প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করার পর থেকে চাসবাসের বিষয়ে শের আলীর চিন্তাভাবনা পরিবর্তন হতে শুরু করে।


তিনি বলেন, ‘বসতবাড়িতে আমার যে জায়গা আছে সেখানে যদি বছরব্যাপি সবজি চাষ করি তাহলে আমি বেশি লাভবান হতে পারব। আমি বাজারের বীজের ভরসা করবো না। আমি নিজে হাতে বীজ রাখবো। চারা উৎপাদন করবো এবং জৈব সারের মাধ্যমে শাকসবজি চাষ করবো। তাহলে আমার উৎপাদন খরচ কমে আসবে অপরদিকে বাজারে বেশি দামে বিক্রি করে লাভবান হতে পারবো। তাছাড়াও নিজের হাতে নিজে বীজ রাখার মাধ্যমে আগাম সবজি চাষ করে বেশি বাজার মূল্য বিক্রি করতে পারবো। এলাকারও মানুষ বিষমুক্ত নিরাপদ খাদ্য গ্রহণ করতে পারবে।’


শের আলী চলতি মৌসুমে তার ১৫ শতক জমিতে জৈব পদ্ধতিতে ঢেড়শ চাষ ও বীজ উৎপাদন প্লট করেছেন। সেখানে জমি তৈরি ও অন্যান্য কাজ বাবদ খরচ হয়েছে ৪ হাজার টাকা। তিনি আশা করছেন, প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা বিক্রি করতে করতে পারবেন। ইতিমধ্যে সবজি বিক্রি করতে শুরু করেছেন। তাঁর প্রদর্শনী প্লট থেকে বাছাই করে বীজ সংরক্ষণ করবেন। বর্তমান প্রতি কেজি ঢেড়শ মুল্য ৭০-৮০ টাকা দরে বিক্রি করছেন। তাঁর বাড়িতে রয়েছে বেগুন, মুলা, লালশাক, চালকুমড়া, মিষ্টি কুমড়া, শিমসহ বিভিন্ন ধরনের সবজি। পোকামাকড় আক্রমণ থেকে রক্ষার জন্য তিনি বিভিন্ন জৈব বালাইনাশক ব্যবহার করেন।


বারসিক গ্রাম পর্যায়ে ও স্থানীয় জন সংগঠনের মাধ্যমে মানুষের জ্ঞান অভিজ্ঞতা র্চ্চাকে ও তাদের নিজস্ব সক্ষমতাকে গুরুত্ব দিয়ে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে আলোচনা সভা, প্রশিক্ষণ কর্মশালা, অভিজ্ঞতা বিনিময় সফর, বীজ বাড়ি তৈরির উপকরণ সহায়তা, বীজ বর্ধন, বীজ বিনিময়, বীজ মেলার মাধ্যমে জনগোষ্ঠিকে উদ্বুাদ্ধ ও উৎসাহিত করাসহ বিভিন্ন সহায়তা করে আসছে। তাছাড়াও উপজেলা কৃষি অধিদপ্তরের সাথে এলাকার কৃষক যোগাযোগ তৈরি মাধ্যমে কৃষি প্রদশর্নীতে যুক্তকরণ, কৃষি প্রণদনা ও সরকারি সুবিধা প্রাপ্তিতে সহায়তা প্রদান করেছে।

Bangladesh Resource Center for Indigenous Knowledge, BARCIK is a non-governmental non-profit development organization. Established in 1997 by a group of development practitioners, researchers and social workers, BARCIK has been working in the fields of environment and development with utmost commitment and purpose. Registered with the NGO Affairs Bureau under the Prime Minister’s Office, Government of Bangladesh, to operate foreign funds.