Posted in

কৃষকের হাতিয়ার হল বীজ

কলমাকান্দা থেকে আল্পনা নাফাক
কলমাকান্দা উপজেলার খারনৈ ইউনিয়নের একটি নয়াপাড়া গ্রাম। এই গ্রামে ২০২০ ও ২০২১ সালে আমন মৌসুমে কৃষক নেতৃত্বে ধান জাত গবেষণা কার্যক্রম পরিচালিত হয়। ২০২১ সালের আমন মৌসুমের ধান জাত গবেষণার মাঠ দিবস অনুষ্ঠানে কৃষকেরা কিছু ধানের জাত পছন্দ ও নির্বাচন করেন। ধানজাত পছন্দ বা নির্বাচনের সময় পোকার আক্রমণ হয়েছে কিনা, ফলন ভালো কিনা, গাছ শক্ত বা দাঁড়িয়ে থাকে কিনা, শীষ লম্বা ও শীষের গাথুনি ইত্যাদি বিষয় দেখে ধানের জাত নির্বাচন করেন। ২০২০ সালের ধানজাত গবেষণা প্লট থেকেও ৭ জন কৃষক বীজ নিয়ে আবাদ করে সুফল পেয়েছেন।


নয়াপাড়া গ্রামের সলিতা চিসিম এর বীজ ঘর থেকে ১০ জন কৃষকের মাঝে ১৩ জাতের আমন মৌসুমের ধানের বীজ বিতরণ করা হয়। জাতগুলি হলো- লাল বিরই, বিকল্প, আলফাইরি, কাবুনদোলান, মুশুরী পাইজাম, জেসমিন, কৈলঝুড়ি, লোহাজং, মধুরাজ, এমডিজেড ১৪১, মালশিরা, বাসমতি, বিশালী বিন্নি ইত্যাদি।


বীজ বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো: তাজ উদ্দিন ভূইয়া। বীজ বিতরণ উপলক্ষে তাজ উদ্দিন ভূইয়া বলেন, ‘কৃষকের হাতিয়ার হল বীজ। এই বীজ কৃষকেরা নিজেরা সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করেন না যা খুবই একটা খারাপ দিক আমাদের জন্য। বীজ যদি কৃষকের কাছে না থাকে তবে সে নিজেকে কৃষক ভাবতে পারেন না। কারণ তার হাতে তার হাতিয়ারই নেই তাহলে সে কিভাবে কৃষক? আমরা যারা কৃষক আছি আমাদের সকলের বীজ সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করতে হবে।’


বীজ বিতরণ অনুষ্ঠানে মোট ১০ জন কৃষকের মাঝে ১৩ জাতের ধানবীজ বিতরণ করা হয়। একজন কৃষক সর্বোচ্চ ৩টি জাতের বীজ নেন। কৃষক মনির মিয়া বলেন, ‘আমি ৩টি জাতের ধানবীজ নিতেছি কারণ এই বীজগুলো না নিলে আমার বাজার থেইকা বীজ কিনন লাগবো। আমি এই ৩টি বীজ গত মৌসুমে গবেষণা প্লট থেকে বাছাই করসিলাম। ফলন ভালোই দেখসিলাম তাই নিতেসি।


কৃষক নেতৃত্বে ধানজাত গবেষণা কার্যক্রমটির মাধ্যমে স্থানীয় কিছু কৃষকগণ তাদের পছন্দমত ধানের বীজ দিয়ে গত বছর অর্থাৎ ২০২১ সালে আমন মৌসুমে আবাদ করে ভালো ফলন পেয়েছেন। ফলে এখানকার কৃষকগণ এখন বারসিক এর সহযোগিতায় কিছু নতুন ধানের জাতের সাথে পরিচয় হয়েছেন। এ বছর কৃষকদের পক্ষ থেকে একটা প্রস্তাবনা সেটি হলে বিন্নি ধানের জাত গবেষণা প্লট করা। তাই বিন্নি ধানের বিভিন্ন জাত সংগ্রহ করা হচ্ছে কৃষক নেতৃত্বে ধান জাত গবেষণা প্লট করার জন্য। সলিতা চিসিম এর তত্ত্ববধানে পরিচালিত বীজ ঘর থেকে ধানবীজ পেয়ে স্থানীয় কৃষকেরা উপকৃত হচ্ছেন। পাশাপাশি তিনি অন্য্যাদেরকে বীজ রাখার জন্য পরামর্শও প্রদান করছেন।

Bangladesh Resource Center for Indigenous Knowledge, BARCIK is a non-governmental non-profit development organization. Established in 1997 by a group of development practitioners, researchers and social workers, BARCIK has been working in the fields of environment and development with utmost commitment and purpose. Registered with the NGO Affairs Bureau under the Prime Minister’s Office, Government of Bangladesh, to operate foreign funds.