Posted in

বরেন্দ্র অঞ্চলের জনপদকে বাঁচাতে নদীগুলো সুরক্ষার দাবি

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি (রাজশাহী)

নদী শুধু নদী নয়; জীবন যদি বাঁচাতে হয়; পরিবেশ যদি রক্ষা করতে হয়; উর্বরতা যদি বাড়াতে হয়; উৎপাদনশীলতা যদি বজায় রাখতে হয়; প্রাকৃতিক ভারসাম্য যদি রক্ষা করতে হয়; বরেন্দ্র অঞ্চলের খরা যদি মোকাবেলা করতে হয় তাহলে নদী দখল-দূষণ বন্ধ এবং খনন ও সংরক্ষণের কোন বিকল্প নাই। নদী উন্নয়নই রয়েছে সব উন্নয়নের মূলে। বিশেষ করে টেকসই ও অভিঘাত সহনশীল বৈচিত্র্যপূর্ণ, বৈষম্যহীন নগর ও পরিবেশ উন্নয়নের চাবি কাঠি। ফলে নদী ও প্রাণবৈচিত্র্য সংরক্ষণই সার্বিক উন্নয়নের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিৎ।

আজ রবিবার (২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৩) রাজশাহীর যুব/যুবাদের বৃহৎ ঐক্য বরেন্দ্র ইয়ুথ ফোরাম ও গবেষণা উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান বারসিক (বাংলাদেশ রিসোর্স সেন্টার ফর ইন্ডিজিনাস নলেজ) এর যৌথ আয়োজনে নগরীর বোয়ালিয়া থানাধীন সাহেববাজার জিরোপয়েন্টে বিশ্ব নদী দিবস উপলক্ষে নদীবন্ধনের আয়োজন করা হয়েছে।

নদীবন্ধনে বরেন্দ্র ইয়ুথ ফোরামের সভাপতি ও সূর্যকিরণ সমাজকল্যাণ সংস্থার সভাপতি শাইখ তাসনিম জামাল এর সভাপতিত্বে এবং বরেন্দ্র ইয়ুথ ফোরামের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ও ইয়ুথ এ্যাকশন ফর সোস্যাল চেঞ্জ-ইয়্যাস’র সাধারণ সম্পাদক মোঃ আতিকুর রহমান আতিকের সঞ্চালনায় বক্তারা বলেন, ‘বরেন্দ্র অঞ্চলের নদী বাঁচলে বাঁচবে এই জনপদ। বাঁচবে এই অঞ্চলের জীববৈচিত্র্যসহ সুরক্ষা হবে এই অঞ্চলের বাস্তুসংস্থান। বরেন্দ্র অঞ্চলের প্রধান নদী পদ্মা। পদ্মার প্রধান উপনদী হলো- মহানন্দা এবং পুনর্ভবা। পদ্মার বিভিন্ন শাখানদীর মধ্যে গড়াই, বড়াল, আড়িয়াল খাঁ, কুমার, মাথাভাঙ্গা, কপোতাক্ষ ইত্যাদি। পুকুর-ডোবা, জলাশয়-জলাধার, খাল-বিল, হাওর-বাঁওড়, নদ-নদী আমাদের জীবনের অপরিহার্য অংশ। পদ্মার সাথে সংযোগ হওয়া শাখা এবং উপশাখা নদ-নদী, পুকুর-ডোবা, জলাশয়-জলাধার, খাল-বিল, হাওর-বাঁওড় সহ সকল জলাধারগুলোর জীবন ফিরিয়ে আনতে হবে।’

বক্তারা আরও বলেন, ‘বরেন্দ্র অঞ্চলের নদীগুলোকে হত্যা করা হয়েছে যখন পদ্মাকে তার পানির ন্যায্যতা থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। রাজশাহী শহরের বিভিন্ন দূষিত কঠিন, তরল, বিষাক্ত প্লাস্টিক ও মেডিকেল বর্জ্য পদ্মা, শিব-বারনই নদীসহ আশেপাশের জলাধারগুলোতে পড়ার কারনে এখানকার জীববৈচিত্র্য এবং বাস্তুতন্ত্র নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। কৃষি জমি নষ্ট হচ্ছে। অন্যদিকে নদ-নদী, পুকুর-ডোবা, খাল-বিল, হাওর-বাঁওড়, জলাশয়-জলাধার গুলোয় পানি না থাকার কারণে বরেন্দ্র অঞ্চলের প্রান্তিক মানুষসহ আদিবাসীরা পানির অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। নদ-নদী, জলাধারগুলোসহ পানির উৎসগুলো নষ্ট করে এখন পানি বিক্রির প্রকল্প তৈরি করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়া হচ্ছে। পানির জন্য বরেন্দ্র অঞ্চলের সমাজগুলোতে দিনে দিনে সহিংসতা ও অপ্রীতিকর ঘটনা বৃদ্ধি পাচ্ছে। মানুষের জীবন জীবীকা সংকটে পড়েছে।’

মানববনন্ধনে বক্তব্য রাখেন আদিবাসী যুব পরিষদ, রাজশাহীর সভাপতি উপেন রবিদাস, বারসিক বরেন্দ্র অঞ্চলের প্রোগ্রাম অফিসার অমৃত সরকার, ইয়ুথ এ্যাকশন ফর সোস্যাল চেঞ্জ-ইয়্যাস’র সভাপতি শামীউল আলীম শাওন, জাতীয় আদিবাসী পরিষদের দপ্তর সুভাষ চন্দ্র হেমব্রম, সেভ দি ন্যাচার এন্ড লাইফ এর চেয়্যারম্যান মিজানুর রহমান মিজান, বরেন্দ্র ইয়ুথ ফোরামের সভাপতি ও সূর্যকিরণ সমাজকল্যাণ সংস্থার সভাপতি শাইখ তাসনিম জামাল,  নবজাগরণ ফাউন্ডেশনের সদস্য মোঃ লিমন সরকার, সচ্ছলতা এসোসিয়েশনের সাধারণ সস্পাদক সালমান ফারসিসহ প্রমূখ।

Bangladesh Resource Center for Indigenous Knowledge, BARCIK is a non-governmental non-profit development organization. Established in 1997 by a group of development practitioners, researchers and social workers, BARCIK has been working in the fields of environment and development with utmost commitment and purpose. Registered with the NGO Affairs Bureau under the Prime Minister’s Office, Government of Bangladesh, to operate foreign funds.