সাম্প্রতিক পোস্ট

জেলা পর্যায়ে জয়িতা পেলেন সন্ধ্যা রাণী সাংমা

কলমাকান্দা থেকে গুঞ্জন রেমা

কলমাকান্দা উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের নলছাপ্রা গ্রামের সন্ধ্যা রাণী সাংমা সমাজ উন্নয়নে অসমান্য অবদান রাখার জন্য জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে জয়িতা পুরষ্কার পেলেন। আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ ও বেগম রোকেয়া দিবসে জয়িতা অন্বেষণে বাংলাদেশ এর সমাজ উন্নয়নে অসামান্য অবদান রাখা নারী-এর ক্যাটাগরিতে জয়িতা হিসেবে তিনি নির্বাচিত হন। উপজেলা পর্যায়ে ৫টি ক্যাটাগরিতে মোট ৫ জন নারী জয়িতা পুরস্কার পেয়েছেন। সমাজ উন্নয়নে অসামান্য অবদান রাখা নারী সন্ধ্যা রাণী সাংমা তিনি জেলা ও উপজেলা দুটি পর্যায়েই জয়িতা পুরস্কার পেয়েছেন শিক্ষা ও চাকুরির ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জনকারী নারী আফরোজা সুলতানা, সফল জননী নারী অরুনা কুবি, অর্থনৈতিকভাবে সাফল্য অর্জনকারী নারী প্রিসিতা রেমা, নির্যাতনের বিভীষিকা মুছে ফেলে নতুন উদ্যমে জীবন শুরু করা নারী ছিহিনা রিছিল।

IMG_20191209_131635
সন্ধ্যা রাণী সাংমা টাংগাইল জেলার মধুপুর উপজেলার বোকারবাইট গ্রামে ১৯৫০ সালে গারো আদিবাসী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। ছোটবেলা থেকেই ভালো কাজ/ মানুষের সেবা করার মানসিকতা নিয়ে বড় হলেও পারিপার্শ্বিক অবস্থার কারণে ৮ম শ্রেণীর বেশি লেখা পড়া করতে পারেননি। মানুষের সেবার ব্রত নিয়েই ১৯৬৯ সালে হালুয়াঘাটের জয়রামকুড়া খ্রিষ্টিয়ান হাসাপাতালে নার্সিং প্রশিক্ষণে ভর্তি হন। ১৯৭১ সালে নার্সিং কোর্সে ২য় বর্ষ শেষ হলে দেশে শুরু হয় মহান স্বাধীনতার সংগ্রাম। মানষের সেবা করার জন্য ছুটে যান যুদ্ধাহতদের সেবা করার জন্য। ১১নং সেক্টর কমান্ডার কর্ণেল আবু তাহের এর তত্তাবধানে ১৯৭১ সালের ৯ মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের সময়কালে তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের বিভিন্ন ঘাটিতে যদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের সেবা শুশ্রুষা করেন। ১৯৭১ সালে ১৬ ডিসেম্বর দেশ স্বাধীন এর পর নিজ বাড়িতে ফিরে আসলে আত্মীয় পরিজন অবাক হন। কারণ আত্মীয় পরিজনদের ধারণা ছিল তিনি হয়তো আর বেঁচে নেই!

IMG_20191209_131712
পরবর্তীতে ১৯৭৩ সালে নেত্রকোণা জেলার কলমাকান্দা উপজেলার নলছাপ্রা গ্রামের বাসিন্দা চার্চিল কুবি এর সাথে বিবাহ বন্ধানে আবদ্ধ হয়ে নলছাপ্রা গ্রামেই স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। বিয়ের পর গ্রামের মানুষদের তিনি বিনামূল্যে সেবা দেন। যেমন : সেলাইন ভরে দেওয়া, ইঞ্জেকশন দেওয়া, ব্যান্ডেজ করা, ড্রেসিং করা ইত্যাদি। ঐ সময়ে গ্রামে কোন ডাক্তার ছিল না, উপজেলা হাসপাতালও দূরে। তাই তার কাছে অনেকেই প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য ভিড় জমাতেন। গ্রামের মানুষদের তিনি সেবা করে তিনি আত্মতৃপ্তি পেতেন। তাই মানষের চিকিৎসা সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করেন। বিয়ের ১২ বছর পরই তাঁর স্বামী মারা যান আর রেখে যান ২ ছেলে ও ১ মেয়ে। ৩ সন্তানকে নিয়ে তিনি অনেক কষ্টে দিন কাটান পাশপাশি চলে মানুষের সেবা করার কাজটাও। অনেক কষ্টে সাধ্যমত ৩ সন্তানকেই শিক্ষিত করেন। বড় ছেলে মাস্টার্স পাশ করে এখন একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন। ছোট ছেলে পলিটেক্যাল থেকে ডিপ্লোমা পাশ করেছেন। আর মেয়ে এসএসসি পাশ করে পিটিআই কোর্স সম্পন্ন করেছেন।

IMG_20191209_131936
এ পর্যন্ত তিনি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে মোট ১০ বার সম্মাননা পেয়েছেন যেমন-অনন্যা শীর্ষ দশ, ৭১ এর নারী, নারী মুক্তিযোদ্ধা সম্মাননা-২০১৬, গেরিলা ৭১, জালাল উদ্দিন ফাউন্ডেশন, মুক্তির উৎসব স্মৃতি চারণ সম্মাননা, থকবিরিম-২০১৭( আদিবাসী প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান), আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবসে বিশেষ সম্মাননা -২০১১ও কারিতাস বাংলাদেশ এর সৌজন্যে মানবাধিকার দিবস ২০১০ সম্মাননা।

জয়িতা প্রাপ্তির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমি নিজ উদ্যোগে দেশ মাতৃকাকে ভালোবেসে দেশের মানুষকে সেবা করতে চেষ্টার করেছি। আমার কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ আজ যে সম্মননা পেয়েছি তাতে আমি খুবই আনন্দিত ও গর্বিত। আমি চাই প্রত্যেকে যেন নিজ দায়িত্ববোধ থেকে মানুষকে সেবার করার মানসিকতা গড়ে তোলে।’

happy wheels 2

Comments

%d bloggers like this: