Posted in

ধৈঞ্চা মাটির উর্বরাশক্তি বৃদ্ধি করে

কলমাকান্দা নেত্রকোনা থেকে খায়রুল ইসলাম
নেত্রকোনা জেলা কলমাকান্দা উপজেলার রংছাতি ইউনিয়নের ছোট একটি গ্রাম চন্দ্রডিংগা। তথা কথিত চাঁদ সৌদাগরের ডিংঙ্গি ডোবার কারণে গ্রামের নাম হয় চন্দ্রডিঙ্গা। পাহাড়ঘেঁষা এ গ্রাম হওয়ার কারণে অতি বৃষ্টি ও বালু পাথরের কৃষি জমির ব্যাপক ক্ষয় ক্ষতি হয়। আরো বন্য জন্তু হাতি, হরিণ ও বন্য শুকর ধান ও সবজি ক্ষেত নষ্ট করে দেয় । অতিবৃষ্টি ও অবাধে পাহাড়ে গাছ কাটা, কয়লা, বালু অবাধে উত্তোলনের কারণে বর্ষায় বৃষ্টির পানির সাথে পচা আর্বজনা বালু, পাথররে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে ভাটি আঞ্চলের বাংলাদেশের বাশঁঝাড়সহ সব গাছ গাছালি। বালু,পাথরে ভরে যাচ্ছে ছড়া। ছড়ার নাব্যতাও কমছে।


এতে করে ক্ষেতের ফসল থেকে শুরু করে বাড়ির আঙ্গিনাসহ সব জায়গায় শুধু বালু আর বালু। এ বালু থেকে বাচার জন্য বা বালুর মধ্যে ফসল আবাদের জন্য পরীক্ষামূলকভাবে ধৈঞ্চা চাষ করেন ওই এলাকার কৃষকরা। অনেক চেষ্টা করে কৃষকেরা অবশেষে ধৈঞ্চা চাষে সফলতা লাভ করেন। ধৈঞ্চা চাষের কারণে আস্তে আস্তে মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি হচ্ছে বলে কৃষকরা জানান। পরবর্তীতে তারা ধৈঞ্চা চাষের জমিতেই কচু রোপণ করে সফলতা লাভ করেন। এভাবে বর্তমানে তাদের জমি ও আঙ্গিনাসহ কচু ও ধৈঞ্চায় ভরে গেছে!
ধৈঞ্চার পাতা ও তার শিকড় বালুকে উর্বর করে এবং কৃষকরা ধৈঞ্চার গাছের মধ্যেই ধুন্দল,ও শীম রোপণ করেছেন। ধৈঞ্চা গাছের পাতা ঝড়ে মাটির সাথে খুব সহজেই পচে যায়। এটি একদিকে মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি করছে অন্যদিকে জ্বালানি অভাব মেটাচ্ছে বলে কৃষকেরা জানান ।


এই প্রসঙ্গে বেনুকা ম্রং বলেন, ‘ধৈঞ্চার উচ্চতা হয় ১২/১৫ ফুট। এগাছ যেমন পানি সহনশীল তেমনি খরাসহনশীল। ধৈঞ্চার ফাঁকে ফাঁকে কচু রোপণ করেছি ক্ষতি হয়নি। এবছর আবার ঐ ধৈঞ্চা তুলে কচু লাগিয়েছি। কিছু আলু ও বিভিন্ন ধরনের সবজিও করেছি। তাতে ভালোই হয়েছে।’


তিনি আরও বলেন, ‘ধৈঞ্চা মাটি ক্ষয়রোধ করে। বর্ষায় বাড়ির উপর দিয়ে ঢলের পানি গড়িয়েছে ধৈঞ্চা থাকায় আমার বাড়ির বা পুকুরের পাড় ভাঙ্গেনি। ধৈঞ্চায় যখন ফুল আসে তখন বিভিন্ন ছোট বড় পাখি আসে। ভ্রমরা, প্রজাপতি ও অনেক ধরনের মৌমাছি আসে মধু খেতে। দেখতে ভালোই লাগে।’


মাটির র্উবরাশক্তির বৃদ্ধির জন্য ধৈঞ্চা চাষের কোন বিকল্প নেই। ধৈঞ্চার ডাল যেখানে ভেঙ্গে পরে সেখানেও খুব তারাতারি পচন ধরে। ধৈঞ্চা চারা উঠলে এর কোন পরিচর্যা করতে হয় না। আগাছার মত উঠতে থাকে। ধৈঞ্চার পাতা হয় প্রচুর। এই পাতা ঝরে গিয়ে পচে খুব তারাতারি । এর জন্য মাটির উর্বরতা তারাতারি বৃদ্ধি পায় ।

Bangladesh Resource Center for Indigenous Knowledge, BARCIK is a non-governmental non-profit development organization. Established in 1997 by a group of development practitioners, researchers and social workers, BARCIK has been working in the fields of environment and development with utmost commitment and purpose. Registered with the NGO Affairs Bureau under the Prime Minister’s Office, Government of Bangladesh, to operate foreign funds.