Posted in

রাজশাহীর বস্তিবাসীদের নিরাপদ আবাসনের দাবি

রাজশাহী থেকে মো. শহিদুল ইসলাম

রাজশাহী শহরের বস্তিবাসী তথা দরিদ্র জনগোষ্ঠীর নিরাপদ বাসস্থানের অধিকার নিশ্চিত করতে পরামর্শ দিয়েছেন মতবিনিময়ে অংশগ্রহণকারী বক্তারা। তাঁরা বলেছেন, রাজশাহী মহানগরীতে বসবাসরত বিপুলসংখ্যক দরিদ্র মানুষের বাসস্থান নিশ্চিত করার দায়িত্ব সরকারের। দরিদ্র মানুষের নিরাপদ বাসস্থানের অধিকার নিশ্চিত করার ব্যাপারে সংবিধানে সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। তারা আরো বলেন, ‘জাতীয় গৃহায়ন নীতিমালা ২০১৬ অনুযায়ী বস্তি বা বসতি স্থানান্তর করতে হলে স্থানান্তরিত মানুষের মতো করে সেবা, পরিসেবা ব্যবস্থা, নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান, যাতায়াতের সুবিধা নিশ্চিত করেই তারপর বস্তি স্থানান্তরিত করতে হবে। বস্তিবাসী মতামত নিতে হবে।’ কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে রাজশাহীতে বস্তিবাসীদের স্থানান্তর ও পুর্ণবাসনের কোন নির্দেশনা বা ব্যবস্থা না করেই রেল লাইন, মাহাসড়ক এবং বিভিন্ন সরকারি জয়গা থেকে বস্তিবাসীদের উচ্ছেদ করা হচ্ছে। মতবিনিময়ে বস্তিবাসীরা দ্রুত নিরাপদ বাসস্থান নিশ্চিত করার দাবি জানান।

BARCIK-Slum-1

গতকাল (১৪ মে) রাজশাহী মহানগরীর কফিবার মিলনায়তনে গবেষণা উন্নয়ন সংস্থা বারসিক বরেন্দ্র শিক্ষা, সংস্কৃতি ও বৈচিত্র্য রক্ষা কেন্দ্র এবং ভূমিহীন বাস্তুহারা সার্বিক উন্নয়ন সংগঠনের যৌথ আয়োজনে রাজশাহীর ‘বস্তিবাসীদের আবাসন সমস্যা ও করণীয়’ বিষয়ক মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মতবিনিময়ে বক্তারা বলেন, ‘রাজশাহী নগরের উন্নয়নে অবশ্যই দরিদ্র ও বস্তিবাসীদের নিরাপদ বাসস্থান এবং নগরের প্রাকৃতিক পরিবেশকে সুরক্ষা করেই সমন্বিত উন্নয়ন করতে হবে। এতে সরকারি বেসরকারি সকল পক্ষকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।’ রাজশাহী সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মোঃ জামাত খান বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে রাজশাহীতে রেলের জায়গা, মহাসড়কের পাশে এবং সরকারি জায়গার বেশকিছু বস্তিবাসীর ঘর ভেঙ্গে দেয়া হয়েছে। তাদের পূর্নবাসন না করেই হুটকরে এভাবে তাদের বাসস্থান ভেঙ্গে দেয়া ঠিক করেনি।’ তিনি আরো বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী অনেক আন্তরিক, একই সাথে আমাদের মেয়র মহোদয় অনেক ভালো মানুষ। রাজশাহীতে অচিরেই মেয়র মহোদয় বস্তিবাসীদের নিরাপদ আবাসন ব্যবস্থা করবেন।’

BARCIK-Slum-2

রাজশাহী ব্যবসায়ী সমন্বয় পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মো. সেকেন্দার আলী বলেন, ‘বস্তিবাসীসহ শহরের ছোট ছোট মুদি ব্যবসায়ীদের দিকগুলোও ভাবতে হবে। কারণ এই বস্তিবাসীর বেশিরভাগ মানুষ ছোট ছোট আকারে ব্যবসা করে ফুটপাতে।’ তিনি বস্তিবাসীর নিরাপদ কর্মসংস্থানের নিশ্চিতের দিকগুলোতে নজর দেয়ার কথা বলেন।

ভূমিহীন বাস্তুহারা সার্বিক উন্নয়ন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো. লিটন মিয়া বলেন, ‘আমরা নানাভাবেই নিরাপত্তাহীনতায় থাকি। আমাদের খাবার পানি, যাতায়াত সমস্যাসহ নারী শিশুদের নিরাপত্তাহীনতাও একটা বড়ো সমস্যা।’ মতবিনিময়ে বস্তিবাসীরা তাদের সমস্যার কথা তুলে ধরেন। তাদের পক্ষ হয়ে কথা বলেন জামালপুর বস্তির মাজেদা খাতুন, নামোভদ্রা বস্তির শরিফুল ইসলাম, বহররমপুর বস্তির শাহ আলমসহ বস্তির আরো অনেকে। তারা দাবি করেন, বস্তিবাসীদের নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব বাসস্থানের অধিকার নিশ্চিতসহ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দরিদ্র নারী পুরুষ ও শিশুদের জন্যে বিনামূল্যে কারিগরি শিক্ষা, বস্তির শিশুদের ভাতা চালুকরণ এবং নগরের প্রাকৃতিক জলাশয়, উন্মুক্ত স্থান, খেলার মাঠ, পার্ক, বিনোদন স্থল, শরীর চর্চা স্থল নগরের সকল শ্রেণী ও পেশার মানুষের প্রবেশাধিকার নিশ্চিতকরণ। এছাড়া বস্তিবাসীদের জন্যে বিনামূল্যে চিকিৎসার জন্যের স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের দাবি জানান তাঁরা।

BARCIK-Slum4

মতবিনিময়ে আরো বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) রাজশাহী প্রতিনিধি ডঃ আইনাল হক, মুক্তিযোদ্ধা তৈয়বুর রহমান, জাতীয় পরিবেশ পদকপ্রাপ্ত কৃষক ও বরেন্দ্র জনসংগঠন সমন্বয় কমিটির সভাপতি ইউসুফ আলী মোল্লা, বরেন্দ্র শিক্ষা সংস্কৃতি বৈচিত্র্য রক্ষা কেন্দ্রের সভাপতি জাওয়াদ আহমেদ রাফিসহ ব্রাক আরবান ডেভলপমেন্ট প্রোগ্রাম এর ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভলপমেন্ট অফিসার শরিফুল ইসলামসহ প্রমুখ ব্যক্তিবর্গ।

Bangladesh Resource Center for Indigenous Knowledge, BARCIK is a non-governmental non-profit development organization. Established in 1997 by a group of development practitioners, researchers and social workers, BARCIK has been working in the fields of environment and development with utmost commitment and purpose. Registered with the NGO Affairs Bureau under the Prime Minister’s Office, Government of Bangladesh, to operate foreign funds.