সাম্প্রতিক পোস্ট

গ্রামীণ নারীর কাজের স্বীকৃতি নিশ্চিত হোক

মানিকগঞ্জ থেকে রাশেদা আক্তার

‘গ্রামীণ নারীরাই কোভিডসহ সকল ধরণের দুর্যোগে সহনশীলতা বিনির্মাণ করতে পারে” প্রতিপাদ্য বিষয়কে সামনে রেখে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার জাগীর ইউনিয়নের দিয়ারা ভবানীপুর গ্রামে স্থানীয় কিশোরী ও নারীদের উদ্যোগে আজ ১৫ অক্টোবর পালিত হলো আন্তর্জাতিক গ্রামীণ নারী দিবস ২০২০। দিবসকে কেন্দ্র করে বাল্যবিয়ে, নারী নির্যাতন রোধসহ নারীর ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে আলোচনা সভা ও নারীদের অংশগ্রহণে ফুটবল দিয়ে গোল করার প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।


রেনুকা বেগমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভার শুরুতেই দিবসের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে প্রবন্ধ পাঠ ও বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। গ্রামীণ নারীরা সকাল থেকে সন্ধা পর্যন্ত শত রকমের কাজ করে থাকে। কিন্তু গ্রামীণ নারীদের সেই কাজের নেই কোন মূল্যায়ন, নেই কোন স্বীকৃতি। কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী সকল নারী তাদের কাজের স্বীকৃতির দাবি জানান।


আলোচনায়রেনুকা বেগম সভাপতির বক্তব্যে বলেন, ‘নারীরা অনেক কাজ করলেও পুরুষরা বলে সারাদিন কি কাজ করো। করো তো খালি রান্নাবান্না। আমাদের কাজের মূল্য বুঝতো যদি আমাদের টাকা দিতে হইতো। আমরা তো বিনা পয়সার বান্দির মত খাটি। কারণ এটা আমার সংসার। আমার কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই। আজকে আমরা এই অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে প্রতিজ্ঞা করছি আমরা আমাদের মেয়েদের ১৮ বছরের আগে বিয়ে দেব না। ছেলেদের সাথে মেয়েদেরও সমান সুযোগ দেব। মেয়েদের অবশ্যই লেখাপড়া করাবো।’


রোকেয়া বেগম বলেন, ‘সংসারে অনেক কাজ করি। তার কোন নাম নাই। আমি অনেক ছাগল পালন করি। বছরে ১০ থেকে ২০ হাজার টাকার ছাগল বিক্রি করা হয়। বিক্রির টাকা আমার স্বামী খরচ করে। টাকা চাইলে বলে কার ভাত খাওয়ায়ে ছাগল পালছ। অশান্তি করে। এরকম অনেক পুরুষই আছে। কিন্তু আমরা নারীরা সব কিছু সহ্য করেই সংসার টিকিয়ে রাখি। কারণ আমি তো লেখাপড়া জানিনা। কোথায় যাব। লেখাপড়া জানলে কোথাও গিয়ে চাকুরি করতে পারতাম। মেয়েদের লেখাপড়া করা খুবই দরকার। তাহলে পুরুষরা অত্যাচার কম করতে পারবে।’


পারভীন বেগম বলেন, ‘সংসারে তো কত রকম কাজ করি সারাদিন। এটা কেউ জানতেই চায় না। আজ এই অনুষ্ঠানে এসে আমার খুব ভালো লাগছে। সংসারে স্বামী-স্ত্রী মিলে মিশে কাজ করলে সে সংসারে উন্নতি হয়। পুরুষদেরও উচিত সংসারের কোন কিছুর জন্য নারীদের পরামর্শ নেওয়া। আমাদের সাথে পরামর্শ করলেই আমরা খুশি।’


তানিয়া আক্তার বলেন, ‘সরকার নারীদের অনেক সুযোগ সুবিধা দিয়েছে। কিন্তু আমার পরিবার আমাকে সে সুযোগ নিতে দেয় না। ছেলেদের পড়ায়, মেয়েদের পড়ায় না। মায়েরা মেয়েদের লেখাপড়া করাতে চায় কিন্তু বাবারাই মেয়ের বিয়ে দিয়ে দেয় মায়ের কথা শুনে না। বাবাদের বুঝাতে হবে। মেয়েদের লেখাপড়া করাতে হবে।’


কিশোরী সাফিয়া আক্তার বলেন, ‘আজ আন্তর্জাতিক গ্রামীণ নারী দিবস। গ্রামের নারীরা অনেক কাজ করে কিন্তু তাদের কাজের কোন মূল্য নাই, কোন স্বীকৃতি নাই। আমাদের দেশের নারী অনেক ভালো। তারা কিন্তু সংসারের কাজের জন্য টাকা চায় না। পুরুষরা একটা ভালোভাবে কথা বললেই নারীরা অনেক খুশি হয়। পুরুষদের উচিত তাদের স্ত্রীদের কাজকে গুরুত্ব দেওয়া। মূল্য দেওয়া।’


আলোচনা শেষে গ্রামীণ নারীদের অংশগ্রহণে ফুটবল দিয়ে গোল করা খেলা অনুষ্ঠিত হয়। ২ জন নারী প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে ৪ জন নারী গোল করে বিজয়ী হন। খেলায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার হিসেবে সাবান, হ্যান্ড সেনিটাইজার ও মাস্ক বিতরণ করা হয়।

happy wheels 2

Comments

%d bloggers like this: