Posted in

ইভা দাস এর স্বপ্ন সফল হোক!

মানিকগঞ্জ থেকে নীলিমা দাস

মানিকগঞ্জ জেলার মানিকগঞ্জ পৌরসভার পশ্চিম দাশড়ার মেয়ে ইভা রবি দাস (২১)। ৮ম শ্রেণির পর আর পড়ালেখা হয়ে ওঠেনি। বড়বোনের লেখাপড়ার খরচ চালাতে গিয়ে ছোটদের আর লেখা পড়া করাতে পরেননি তার বাবা-মা। বাড়িতে বসে মায়ের সাথে রান্না-বান্নার কাজে সাহায্য করতো ইভা। আর মনে মনে হাজারো স্বপ্ন দেখতো। কিন্তু মনের শখ মনেই থাকতো। হঠাৎ একদিন হাতের কাজ শেখার সুযোগ আসলো ইভা রবিদাসের। বারসিক নামক এনজিও’র সহযোগিতার মধ্য দিয়ে ইভা বিউটি পার্লালের কাজ শেখার সুযোগ পেল। তার বিউটি পার্লারের কাজ শিখতে সময় লাগে প্রায় দুই বছর।

DSC01535
নিজের দোকানে ইভা
DSC01538
বিউটি পার্লার কাজ করছে ইভা

ইভার মুখ থেকে শোনা যাক তার সেই স্বপ্ন যাত্রার গল্প। “প্রথমদিন যখন আমি বিউটি পার্লারে যাই- তখন ম্যাডাম রবিদাস পাড়ার মেয়ে জানতে পেরে তার মুখটা কালো হয়ে গিয়েছিল। মাঝেমধ্যে খারাপ ব্যবহার করতো। সহজে কোন কাজ ভালোভাবে শেখাতে চাইতো না। মনে মনে খুব কষ্ট পেতাম ভাবতাম বাবা জুতার কাজ করে বলে ম্যাডাম মেনে নিতে পারছেন না।” তিনি আরও বলেন, “কাজ শেখার মধ্য দিয়ে ম্যাডামের সব কাজ করতে হতো। মাঝে মধ্যে নীলিমা মাসিকে বলতাম কাজ শিখবো না। তিনি আমাকে বুঝিয়ে আবার দিয়ে আসতেন।”
৮ম শ্রেণী পাস করার ভাগ্য ইভার হয়নি। কিন্তু তাই বলে তো তার স্বপ্নরথ থেমে থাকেনি। ইভার মা প্রায়শই তার মেয়েকে বলতো, “লেখাপড়ার খরচ আমি চালাতে পারবো না বরং রান্নার কাজ শিখ। কিন্তু, মেয়েটা পড়ালেখার চেয়ে হাতের কাজ শেখার প্রতি বেশি আগ্রহ দেখাতো। বাড়িতে বসে সেলাই মেশিনের কাজ করতো।” রবিদাস পাড়ার সেই স্বপ্নবাজ মেয়েটি আজ বিউটি পার্লারের কাজে বেশ পারদর্শী। ইভা ছাড়া তার মালিকের দোকান এখন অচল। ইভা বলেন, “আমি বিউটি র্পালালের যে সব কাজ আছে সব কাজই আমি করে থাকি। যেমন: ভ্রু প্ল্যাক, ফেসিয়াল, চুল স্টেপ, বউ সাজানো, কাপড় পড়ানো, নাক-কানছিদ্র ইত্যাদি সব ধরনের কাজ।” অনেক কাষ্টমার চাকমাদের হাতে কাজ করাতে ভালোবাসলে বাঙালি ইভা দাসের কাছে যারা একবার ভ্রু প্ল্যাক করে; তারা পরবর্তীতে ইভার কাছেই করাতে চায়। মাস ৬ আগে র্জামান প্রবাসী এক নারী মানিকগঞ্জে এসে ইভার হাতের কাজ পছন্দ করেন এবং তিনি বিদেশে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তাবও দিয়েছিলেন। ইভার এক সহকর্মী বিদেশ চলে গেছে এবং সে বারবার তাকে ফোন দেয় বিদেশ যাওয়ার জন্য। কিন্তু ইভা রাজি না; সে দেশের দক্ষ কারিগর হয়ে এই দেশেই কাজ করবে। মাতৃভূমির জন্য তার অগাধ ভালোবাসা ।

ইভা নিজের লেখাপড়ার ইচ্ছা পূরণ করতে পারেনি। তাই তার ছোটবোন ইতির

নিজ সম্প্রদায়ের একটি মেয়েকে বউ সাজাতে ব্যস্ত ইভা
নিজ সম্প্রদায়ের একটি মেয়েকে বউ সাজাতে ব্যস্ত ইভালেখাপড়ার খরচবহন করে সে। পাশাপাশি তাকেও সে র্পালারের কাজ শেখায়। এছাড়াও পাড়াপ্রতিবেশিরা তাদের যত বিয়ের বৌ সাজানো, ভ্রু প্ল্যাক ইত্যাদি কজে ইভাই একমাত্র গন্তব্য।

স্বপ্নবাজ ইভার স্বপ্ন এখনো আকাশছোঁয়া। সে স্বপ্ন দেখে তার ছোটবোনকে সাথে নিয়ে বিউটি পার্লারের পাশাপাশি জামা-কাপড় ও কসমেটিকস এর দোকান দেয়া। তারা ৪ বোন ৪ ছেলের মতো করে সংসারটাকে ধরে রেখেছেন। দুই বোনের বিয়ে হয়েছে। ইভারও বিয়ে হবে একদিন। কিন্তু বিয়ে হলে সে তার শশুর বাড়ি গিয়ে সংসারের পাশাপাশি বিউটি র্পালার এর মাধ্যমে নিজে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হবে। স্বপ্ন দেখে তার মা-বাবাকে সেই ভরণপোষণ করবে। সমাজে আর দশজনের মতো মাথা উঁচু করে বাচাঁতে চায় ইভা।
আজ তার পরিবার সমাজে আলাদাভাবে সম্মান পায় ইভার কারণেই। ইভা স্বপ্ন দেখে প্রতিটি পরিবারে মেয়েরা ছেলেদের মতো সংসারের হাল ধরবে। যাদের ছেলে নাই এমন মা-বাবা যেন সমাজের মানুষের আজে-বাজে কথা না শুনেন। তাদেরকে যথাযথ সুযোগ দেন- তাদের প্রতিভা বা দক্ষতা বিকাশের। আমাদের গ্রাম-গঞ্জে, শহরে যে সমস্ত মেয়েরা আছে- তারা যেন বিয়ের পিঁড়িতে বসার আগে নিজে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হয়।

Bangladesh Resource Center for Indigenous Knowledge, BARCIK is a non-governmental non-profit development organization. Established in 1997 by a group of development practitioners, researchers and social workers, BARCIK has been working in the fields of environment and development with utmost commitment and purpose. Registered with the NGO Affairs Bureau under the Prime Minister’s Office, Government of Bangladesh, to operate foreign funds.