সাম্প্রতিক পোস্ট

অচাষকৃত উদ্ভিদ: নানা পুষ্টি ও ওষুধি গুণে ভরপুর

শ্যামনগর, সাতক্ষীরা থেকে রণজিৎ বর্মণ  

সজিনা গাছের পাতা বেটে খেলে রক্ত আমাশয় নিরাময় হয়,নিমপাতা বেটে লাগালে চুলকানা কমে যায়, ঈশানমূল বিষ ক্রিয়া নষ্ট করে, গিমেশাক খেলে শিশুদের ব্রেনের স্মৃতি শক্তি বৃদ্ধি করে, কলার মোচা খেলে শরীরে আয়রনের ঘাটতি পূরণ করে, পেঁয়ারা খেলে মুখের দূগন্ধ দূর করে ও মুখে রুচি হয়, উচ্চে পাতার রস খেলে বাচ্চাদের পায়খানা পরিস্কার হয়। অচাষকৃত উদ্ভিদ বৈচিত্র্যের গুণাবলী তুলে ধরতে গিয়ে এ কথা বলছিলেন সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকা কৈখালী ইউপির জয়াখালী গ্রামে ৪৫ বছর বয়সী গৃহবধু নাজমুন্নাহার।
p-2-r
সম্প্রতি বারসিক’র উদ্যোগে শ্যামনগর জয়াখালী গ্রামে অচাষকৃত উদ্ভিদের পাড়ামেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মেলায় অংশগ্রহণ করে নাজমুন্নাহার অচাষকৃত বিভিন্ন উদ্ভিদ প্রদর্শন করেন এবং এসব উদ্ভিদের গুণাবলী আগ্রহীদের মাঝে বর্ণনা করেন। নাজমুন্নাহার ছাড়াও এই মেলায় গ্রামের গৃহবধু রাশিদা বেগম, খাদিজা বেগম, হামিদা বেগম, হাফিজা বেগম, শাহিন আলম, মুক্তিযোদ্ধা ও কবিরাজ জি এম ওয়াজেদ আলী অংশড়্রহণ করেন।

জি এম ওয়াজেদ আলী কবিরাজ বলেন, “ঘৃতকুমারী, নিশিন্দা, কালমেঘ, শতমূল, সাদালজ্জাবতির মতো বহু সংখ্যক ঔষধি গাছ হারিয়ে যেতে বসেছে। ৫০ বছর আগে এ সব ঔষধিবৃক্ষ প্রায় প্রত্যেকটি পরিবারে কমবেশি হলেও ব্যবহার হতো। তখন সাধারণ মানুষ প্রকৃতির উপর নির্ভরশীল ছিলেন ব্যাপকভাবে।” ৬০ বছর বয়সী বৃদ্ধা শেফালী বেগম বলেন,  “জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে হারিয়ে যাচ্ছে বাড়ির আশেপাশের উদ্ভিদ বৈচিত্র্য। দিনে দিনে লবণাক্ততার প্রকোপ বাড়ায় হারিয়ে যাচ্ছে প্রাণী সম্পদসহ ঔষধিবৃক্ষ।”

অচাষকৃত উদ্ভিদের পাড়া মেলায় গ্রামের প্রায় ২০টি পরিবারের বয়স্ক গৃহবধুরা ঔষধিবৃক্ষ, শাকসবজি, ফলসহ অন্যান্য বৃক্ষ নিয়ে হাজির হন এবং প্রত্যেকে তাদের স্টলে প্রদর্শিত বৃক্ষের বা ফলের গুণাগুণ তুলে ধরেন। মেলায় শেফালী বেগম ১০৪ প্রকার বৃক্ষ স্টলে প্রদর্শন করেন। অন্যরা কেউ ৩০টি, কেউ ৬০টি আবার কেউ কেউ ২৫ থেকে ৩০টি অচাষকৃত উদ্ভিদ ও বৃক্ষ প্রদর্শন করেন।

পাড়ামেলায় বক্তারা বলেন, “শুধুমাত্র প্রাণবৈচিত্র্য নয় বাংলাদেশে মানুষের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য এবং ভিন্নতাও আজ বিপদাপন্ন। প্রকৃতি বিচ্ছিন্ন ভোগ বিলাসী জীবনের দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে আগামী প্রজন্মকে।” তারা বলেন, “মানুষ জানতে পারছে না প্রতিদিন সে কিভাবে বেঁচে থাকছে। শ^াস নেওয়ার জন্য তার অক্সিজেন কে জোগাচ্ছে? কে তার সামনে খাবার জোগাচ্ছে? যে গাছ প্রতি মূহুর্তে বিনামূল্যে অক্সিজেন বিলিয়ে দেয়,নিজের জীবন দিয়ে সকলের জন্য খাদ্য বানায়। সেই গাছের পাতায় আমরা কয়জন ভালোবাসার হাত রেখেছি?” তারা আরও বলেন, “দুনিয়ার সকল গাছ আজ যদি হরতাল ডাকে, যদি মাটি পানি মুখ ফিরিয়ে নেয় তাহলে কার সাধ্য আছে মাটি পানি ছাড়া বাঁচার?”

পাড়া মেলায় বক্তব্য রাখেন মুক্তিযোদ্ধা ওয়াজেদ আলী সাংবাদিক ও শিক্ষক রণজিৎ বর্মণ, সাংবাদিক শাহিন আলম, বারসিক’র পার্থ সারথী পাল, রামকৃষ্ণ জোয়ারদ্দার, মননজয় মন্ডল, আলী ইমরান প্রমূখ।

happy wheels 2

Comments

%d bloggers like this: