সাম্প্রতিক পোস্ট

বেতো শাকের ব্যতিক্রমধর্মী গুনাগুণ

বেতো শাকের ব্যতিক্রমধর্মী গুনাগুণ

শ্যামনগর, সাতক্ষীরা থেকে গাজী আল ইমরান

বেতো শাক নামটি শুনলে যেন কেমন একটা মনে হয়। আমরা সাধারণত কোনো জিনিসকে অবমূল্যায়ন করে থাকলে সেটাকে বেতো বলে থাকি। কিন্তু বেতো শাক বলে যে তার কোনো গুনাগুন নেই তা কোনো মতেই বলা যাবে না। আমাদের বাসভূমির আশেপাশে, রাস্তার আনাচে কানাচে, ক্ষেতের মধ্যে জন্মায় বলে এই বেতো শাকের আরেক নাম বাস্তব।

images
গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে ব্যাপবভাবে পুষ্টির চাহিদা মিটিয়ে থাকে বেতো শাক। বেতো শাক দেখতে আকারে ছোট হয়, গাছের পাতা কিছুটা হলেও তুলসী পাতার মতো, কিন্তু পাতাগুলোর ধার বেশ ঢেউ খেলানো এবং ছোঠ ছোট। স্থানীয় প্রবীণ মানুষদের মুখে শোনা যায় এই শাকের বিভিন্ন গুনাগুণের কথা।

স্থানীয় জনগোষ্ঠীর কাছে এই শাকের গুনাগুণ সর্ম্পকে জানতে চাইলে তারা বলেন, “এই গাছটি সাধারণত জ্বরনাশক। বেতো শাক বায়ু, পিত্ত ও কফনাশক এবং অগ্নিবল বৃদ্ধিকারক। এটি ক্ষারধর্মী।” এর মধ্যে কৃমিনাশক শক্তি রয়েছে বলেও অনেকের মুখে শোনা গেছে। ধুমঘাট গ্রামের রমেশ চন্দ্র বলেন, “আধ পোয়া ঘোলের সংগে এক চামচ বেতো শাকের রস দিয়ে খেলে হেঁচকি বন্ধ হয়ে যাবে। এছাড়া আমাশয় হলে বেতো শাককে প্রথমে শুকিয়ে গুড়ো করে তারপর তার সঙ্গে অল্প দই মিশিয়ে খেতে হবে। গ্রামে প্রাই বাড়িতে দেখা যায় কোনো সদস্যের জ্বর আসলে মুখে রুচি ফিরিয়ে আনতে বেতো শাকের রস খেতে দিতে।” তিনি আরও বলেন, “এছাড়া পাইলস, শুকনো কাঁশি দূর করতে, ছোট কৃমির সমস্যা দূরীকরণে, লিভারের ক্রিয়া স্বাভাবিক ও শক্তিশালীকরণে বেতো শাকের ব্যবহার গ্রামীণ জনগোষ্টীর মধ্যে ব্যাপক হারে দেখা যায়।”

happy wheels 2

Comments

%d bloggers like this: