Posted in

আন্তঃপ্রজন্ম সম্পর্কই গড়ে তুলবে মানবিক ও ন্যায্যতার পৃথিবী

নেত্রকোনা থেকে মো: অহিদুর রহমান
যখন চারিদিকে অমানবিকতা, বৈষম্য, অসহিষ্ণুতা আর ক্ষয় তখন বারবার ঘুরে দাঁড়ায় যুবসমাজ, জাগিয়ে রাখে, সমাজ ও দেশ। বাঁিচয়ে রাখে মানবিকতা, বৈচিত্র্য সভ্যতা। সকল আন্দোলন সংগ্রাম, ভাষা আন্দোলন, মহান মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে দেশের শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনে যুবরাই বারবার নিরাপদ রেখেছে বাংলাদেশের মুখ।
আন্তর্জাতিক যুব দিবস। এ বছরের প্রতিপাদ্য আন্তঃপ্রজন্ম সংহতি: সব বয়সের মানুষের জন্য একটি বিশ্ব তৈরী করা। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনের জন্য বিশ্বকে সব প্রজন্মের পূর্ণ সম্ভাবনাকে কাজে লাাগতে হবে। প্রজন্মের মধ্যে সংহতি টেকসই উন্নয়নের চাবিকাটি। কেউ পিছিয়ে থাকবেনা। তা নিশ্চিত করার জন্য আমদের অবশ্যই সফল ও ন্যায়সঙ্গত আন্তঃপ্রজন্ম সম্পর্ক এবং অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে সহযোগিতা করতে হবে।

নেত্রকোনা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর ও নেত্রকোনা সম্মিলিত যুব সমাজের আয়োজনে জাতীয় পরিবেশ পদকপ্রাপ্ত বেসরকারী গবেষণা প্রতিষ্ঠান বারসিক’র সহযোগিতায় যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের সম্মেলন কক্ষে বিশ্ব যুব দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে যুবদের অংশগ্রহণে আলোচনা ও যুবদের গবেষণা পত্র উপস্থাপন করা হয়। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. মনির হোসেন,সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন যুব উন্নয়নের উপ-পরিচালক হারুণ-অর-রশিদ, বারসিকের আঞ্চলিক সমন্বয়কারী মো: অহিদুর রহমান নেত্রকোনা সম্মিলিত যুব সমাজের সভাপতি পার্থ প্রতিম সরকার এবং হাওর,পাহাড় ও সমতলের ২৩টি যুব সংগঠনের প্রতিনিধি। সম্মিলিত যুব সমাজের সভাপতি তার বক্তব্যে তুলে ধরেন যে, জলবায়ু প্িরবর্তন দ্বন্দ্ব-সংঘাতে, প্রাকৃতিক সম্পদের বিলুপ্তি, কৃষিজমির পরিবর্তন হচ্ছে। বাড়ছে কর্মহীন যুবদের সংখ্যা, যুব হতাশ হয়ে অভিবাসী হচ্ছে,আত্মহত্যা করছে,মেয়েরা বাল্যবিবাহ হচ্ছে, মাদকাসক্ত হচেছ,জঙ্গীবাদে জড়িয়ে পড়ছে। কিন্তু এইবৃত্ত থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। নিজেকে আতœঃনির্ভরশীল করে তুলতে হবে।
প্রধান অতিথি অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. মনির হোসেন বলেন, আমাদের যুবরাই সকল শক্তির উৎস, দেশের পরিবর্তন যুবদের মাধ্যমেই হবে। শুধু চাকরির আশায় বসে থাকলে চলবেনা নিজের পায়ে দাঁড়াতে হবে। নিজেকে স্বাবলম্বী করে তুলতে হবে। চাকরী নিব না চাকরী দিবো এই চিন্তা নিয়ে কাজ করতে হবে।’

২০২২ সালের ভয়াবহ বন্যার কারণে যে প্রাকৃতিক ও মানবিক বিপর্যয় শুরু হয় নেত্রকোনা অঞ্চলের যুবরা নিজের জীবন বাঁজি রেখে জরুরি সেবা নিয়ে বানবাসি মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। জরুরি খাদ্য,ঔষধ, চাল, নিত্যপ্রয়োজনীয় উপকরণ নিয়ে গেছে মানুষের বাড়িবাড়ি। প্রবীণ, শিশু, নারী, প্রতিবন্ধি ব্যক্তিদের উদ্বার করে আশ্রয় কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে। সেবার সাথে যুক্ত করেছেন। আবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে এই হাওর,পাহাড়,সমতলের মানুষ।
এখন যখন জলবায়ু পরিবর্তন, দ্বন্দ্ব সংঘাত বৈচিত্র্য ও মানবিকতা বিপর্যস্ত হচ্ছে বারবার তখনও এই নতুন প্রজন্মই হাতে হাত রেখেছে পরস্পর। তৈরি করেছে জেগে ওঠার এক শক্ত পাটাতন। দেশজুড়ে তরুণ প্রজন্মই এখন নানা রঙ্গের স্বপ্নময় অভিযাত্রাই ভবিষ্যতের বাংলাদেশ। গ্রাম থেকে গ্রামে, শহর থেকে শহরে, কারখানা থেকে কার্যালয়, সড়ক থেকে সংসদ, পাহাড় থেকে সমতল এই তরুণ প্রজন্মই স্বপ্নকে বাস্তবে রুপ দেয়। পরস্পর পরস্পরকে জানতে চায়, বুঝতে চায়। তৈরী করতে চায় সহযোগিতা ও মানবিকতার এক বাংলাদেশ।

আমাদের যুবরা দেশের ৩৩%। বিশাল অংকের যুবদের সামনে আছে অনেক চ্যালেঞ্জ। জলবায়ু পরিবর্তন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, অর্থনৈতিক মন্দা, বেকারত্ব, কাংখিত স্বপ্নে পৌছতে না পারা। দক্ষ যুব শক্তি গড়ে না ওঠা। তাই তো আমরা দেখি সুন্দর জীবনের আশায় অভিবাসি হতে গিয়ে সলিল সমাধি হতে হয়েছে শত শত যুবকের। যদিও আমরা দেখতে পাই প্রবীণদের ক্ষেত্রে নতুন প্রজন্মের উদাসিনতার গল্প।
একজন মানুষ শিশু থেকে কিশোর, কিশোর থেকে তরুণ থেকে প্রবীণ বয়সে উপস্থিত হয়। সংখ্যাতত্ত্ব কি আর একজন মানুষের প্রাণচাঞ্চল্যকে থামিয়ে দিতে পারে? প্রবীণ সত্তার সঙ্গে জড়িয়ে থাকে অভিজ্ঞতায় পূর্ণ ঋদ্ধ ভান্ডার। জীবনযাত্রার দীর্ঘপথ চলার অভিজ্ঞতায় ঋদ্ধ প্রবীণরাই তো নবীনদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হতে পারে। দেখাতে পারেন পথ। তাই প্রবীণদের সাথে নবীনদের সম্পৃক্ত করে এগিয়ে যাওয়া আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত। প্রবীণরা যেন জীবনের শেষের দিককার সময়গুলো সুন্দরভাবে কাটাতে পারেন তা দেখার দায়িত্ব পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের। আমাদের বহুমুখী কর্মব্যবস্থাপনায় পারস্পরিক দায়বদ্ধতা লোপ পাচ্ছে।

ফলে অনেক ক্ষেত্রে প্রবীণদের উপেক্ষা করার প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। কালের বিবর্তনে দেশে এবং বিদেশে নারী এবং পুরুষদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হওয়ায় পরিবার এখন আর আগের মতো দাদা-দাদি, বাবা-মা, ছেলে-মেয়ে, নাতি-নাতনি পরিবেষ্টিত নেই। তাই প্রবীণরা নিঃসঙ্গ কাজ নেই, আপনজনও কাছে নেই। ফলে তারা যথাযথ সেবা থেকে বঞ্চিত এবং একাকিত্বের দহনে দগ্ধ হয়। উন্নয়নে, প্রবৃদ্ধি অর্জনে, শিক্ষায়, অভিজ্ঞতায়, জ্ঞানে, প্রজ্ঞায় শ্রেষ্ঠ নাগরিকগণ উল্লেখযোগ্য অবদান রেখে চলা একটি জনগোষ্ঠী। আমাদের বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের মহাসড়কে হাঁটছে। আমাদের প্রয়োজন দক্ষ ও প্রশিক্ষিত যুব শক্তি। সেই দক্ষ যুবশক্তি তৈরীতে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর কাজ করে যাচ্ছে। প্রযুক্তি, কৃষি,কর্মসংস্থানে সামাজিক কাজে প্রশিক্ষণ ও ঋণ প্রদানের মাধ্যমে যুবদের সহযোগিতা করে যাচ্ছে। তারাই গড়ে তুলবে আগামির উন্নত বাংলাদেশ।

Bangladesh Resource Center for Indigenous Knowledge, BARCIK is a non-governmental non-profit development organization. Established in 1997 by a group of development practitioners, researchers and social workers, BARCIK has been working in the fields of environment and development with utmost commitment and purpose. Registered with the NGO Affairs Bureau under the Prime Minister’s Office, Government of Bangladesh, to operate foreign funds.