সাম্প্রতিক পোস্ট

জলাবদ্ধতা সমস্যা নিরসনে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেন উপকূলীয় যুবারা

সাতক্ষীরা থেকে বিশ্বজিৎ মন্ডল

বারসিক’র সহায়তায় সুন্দরবন স্টুডেন্ট সলিডারিটি টিম যাদবপুর ইউনিট ও কল্যাণপুর জেলে সংগঠনের উদ্যোগে শ্যামনগর উপজেলার শ্যামনগর সদর ও ভুরুলিয়া ইউনিয়নের জলাবদ্ধতা দূরীকরণে শ্যামনগর সদর ইউনিয়নের কল্যানপুর স্লুইসগেট সংস্কার ও পুনঃনির্মাণে সংসদ সদস্য বরাবর আবেদনপত্র জমা দেওয়া হয়েছে সম্প্রতি। আবেদনপত্র প্রদান, জনগোষ্ঠীকে একত্রিত করা, স্থানীয় সরকার ও বারসিক’র সাথে প্রতিনিয়ত যোগযোগ এবং কিভাবে কাজটি করা যায় তার জন্য সক্রিয় ভূমিকা রাখেন যাদবপুর ইউনিট প্রধান শেখ কামরুল ইসলাম।

ভুক্তভোগী স্থানীয় জনগোষ্ঠীরা জানান, আমরা শ্যামনগর উপজেলার কল্যাণপুর-কালমেঘা-চিংড়াখালী-সোয়ালিয়া ও যাদবপুর গ্রামের অধিবাসী। আমাদের এখানে অধিকাংশই পরিবার কৃষি,মৎস্য চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করে। আমাদের শ্যামনগর উপজেলার নুরনগর, শ্যামনগর সদর, ভুরলিয়া ইউনিয়নের প্রায় পানি সরানোর একমাত্র মাধ্যম হলো কল্যাণপুর খাল, যা দীর্ঘদিন ধরে খনন না হওয়াতে ভরাট হয়ে গেছে। এছাড়াও কল্যাণপুর খালের পানি সারানোর জন্য মাদার নদীর চরে কল্যাণপুর গ্রামে দুটি সøুইজ গেট নির্মাণ করা হয় প্রায় ৫০ বছর আগে। যার মধ্যে একটি একেবারে অকেজো এবং অন্যটি ভঙ্গুর অবস্থায় চালু আছে প্রায় ৯ বছর। বিগত সময়ে স্থানীয় সরকার এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠী নিজেদের মধ্যে চাঁদা উঠিয়ে কয়েকবার সংস্কার করেছে। এখন সেটির অবস্থা আরো ভয়ংকর। ঠিক মতো পাটা তোলা ফেলা যায় না, ভেঙে গিয়ে পানি নিস্কাশনে বাধাগ্রস্ত করছে, যার কারণে প্রতিবছর যেমন তেমন বৃষ্টি হলেই বড় ধরনরে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়।

তারা আরো জানান, গত আগস্ট ২০২১ মাসে উপকূলীয় এলাকায় ভারী বৃষ্টি হয়। আর তাতেই উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। সেখানে কল্যাণপুর ¯øুইজ গেট দিয় সঠিকভাবে পানি নিস্কাশন না হওয়ায় উপজেলার ভুরুলিয়া, নুরনগর ও সদর ইউনিয়নের হাজার হাজার বিঘা কৃষি জমি, বসতভিটা, চিংড়ি ঘের পানিতে নিমজ্জিত থেকে ভয়াবাহ জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। তাতেই প্রায় কয়েক কোটি টাকার সম্পদের ক্ষতি হয়। এ জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য স্থানীয় জনগোষ্ঠী কল্যাণপুর খালে স্লুইসগেট সংস্কার ও পুনঃনির্মাণের জন্য বিগত সময়ে কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করে মৌখিকভাবে অবহিত করা হলেও কোন সুফল আসেনি।


বর্তমান সময়ে জলাবদ্ধতার এ সমস্যাটি যখন চরম পর্যায়ে চলে আসে। উপকূলীয় এলাকায় ধান চাষের প্রধান মৌসুম আমন। যেখানে কৃষকেরা ২ থেকে ৩ বার করে ধান চাষের চেষ্টা করেছেন। জলাবদ্ধতাকে কেন্দ্র করে এলাকাতে বড় ধরনরে সমস্যার সন্মূখীন হতে চলেছে। সেখান থেকে বের হওয়ার জন্য এলাকার যুব টিম সুন্দরবন স্টুডেন্ট সলিডারিটি টিমের কামরুল ইসলামের নেতৃত্বে এলাকার জনগোষ্ঠীকে সাথে নিয়ে শ্যামনগর ও ভুরুলিয়া ইউনিয়নের ৬টি মেম্বর ও সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের সুপারিশ এবং কালমেঘা, চিংড়াখালী, কল্যাণপুর, সোয়ালিয়া, ভুরুলিয়া, যাদবপুর, মানিকখালী গ্রামের জনগোষ্ঠীর গণস্বাক্ষর নিয়ে সংসদ সদস্য বরাবর আবেদন প্রদান করেন। এখানে সংসদ সদস্য বিষয়টি যত দ্রæত সমাধান করা যায় সে বিষয়ে কার্যক্রম শুরু করার আশ^াস দেন। এছাড়াও এর আগে কামরুল ইসলাম উক্ত সমস্যা সমাধানে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্শনে পোস্টার হাতে একাই দাবি তুলে ধরেন। স্থানীয় সংবাদপত্রে সেটি প্রকাশিত হয়।


উপকূলীয় শ্যামনগর উপজেলার শ্যামনগর সদর ও ভুরুলিয়া এবং নুরনগর ইউনিয়নের পেশাজীবী জনগোষ্ঠীর জীবন ও জীবিকা রক্ষায় তাদের প্রাণের দাবি, শ্যামনগর উপজেলার মাদার নদী সংলগ্ন কল্যাণপুর গ্রামের ¯øুইজ গেট দুটি সংস্কার কিংবা পুনঃনির্মাণের সহযোগিতার মাধ্যমে এলাকার ভয়াবাহ জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রশাসনের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ খুবই জরুরি।

happy wheels 2

Comments

%d bloggers like this: