সাম্প্রতিক পোস্ট

‘তুজলপুর হবে ওষুধি গ্রাম’

সাতক্ষীরা থেকে গাজী মাহিদা মিজান
‘তুজলপুর হবে ওষুধি গ্রাম। গ্রামের প্রত্যেক বাড়িতে ফলজ ও বনজ বৃক্ষের পাশাপাশি রোপণের জন্য গাছের পাঠশালার পক্ষ থেকে দেওয়া হবে ওষুধি গাছের চারা। এর মধ্য দিয়ে গ্রামের মানুষকে ভেষজ ওষুধ, জৈব সার ও কীটনাশক এবং অর্গানিক খাদ্য উৎপাদন ও গ্রহণের স্থায়িত্বশীল চর্চায় উদ্বুদ্ধ করা হবে।’

সাতক্ষীরা সদর উপজেলার তুজলপুরে ‘গাছের পাঠশালা’ ও উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান বারসিক কর্তৃক সম্প্রতি আয়োজিত ‘বাড়িতে ওষুধি বৃক্ষ রাখার উপকারিতা’ বিষয়ক আলোচনা সভায় তুজলপুর গ্রামকে ওষুধি গ্রাম হিসেবে গড়ে তোলার এই ঘোষণা দেওয়া হয়।

সভায় তুজলপুর কৃষক ক্লাবের সভাপতি, গাছের পাঠশালা’র পরিচালক ও বিলুপ্ত প্রায় উদ্ভিদ সংরক্ষণে জাতীয় পরিবেশ পদকপ্রাপ্ত সংরক্ষক ইয়ারব হোসেনের সভাপতিত্বে অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম ও উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা শেখ সহিদুর রহমান।

আলোচনায় অংশ নেন স্থানীয় ইউপি সদস্য শরিফুল ইসলাম, তুজলপুর কৃষক ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রহমান, বারসিক’র সহকারী কর্মসূচি কর্মকর্তা গাজী মাহিদা মিজান, যুব সংগঠক জাহাঙ্গীর আলমসহ স্থানীয়রা।

এসময় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বাড়িতে ওষুধি বৃক্ষ রাখার উপকারিতা ও গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, ‘আমরা দিন দিন যে কোন রোগে এন্টিবায়োটিকসহ উচ্চ মাত্রার ওষুধের উপর নির্ভর হয়ে পড়ছি। একই সাথে ফসল উৎপাদনে রাসায়নিকের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ায় খাদ্যের গুণগন মান ও পুষ্টি কিছুই থাকছে না। সুন্দর স্বাভাবিক জীবনযাপনে ভেষজ ওষুধ, জৈব সার ও কীটনাশক এবং অর্গানিক খাদ্য উৎপাদন ও গ্রহণের স্থায়িত্বশীল চর্চা বাড়ানোর বিকল্প নেই।’

উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা শেখ সহিদুর রহমান বলেন, ‘বর্তমানে প্রত্যেক বাড়িকে পুষ্টির ভান্ডার হিসেবে গড়ে তোলার উপর জোর দেওয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে ওষুধি বৃক্ষও রাখতে হবে। ব্যবহার করতে হবে।’ এসময় তিনি সমাজসেবা অধিদপ্তরের নানা সেবার কথা তুলে ধরে আরও বলেন, ‘সরকার সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় সব সেবা ডিজিটালাইজড করেছে। এসব সেবা পেতে কাউকে একটি টাকাও দেবেন না। অনলাইনে আবেদন করবেন, আবেদন বিবেচনা করে সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে যাবে।’

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, তুজলপুর গ্রামকে ওষুধি গ্রাম হিসেবে গড়ে তুলতে বারসিক’র সহযোগিতায় গাছের পাঠশালা ও বিলুপ্ত প্রায় উদ্ভিদ সংরক্ষণে জাতীয় পরিবেশ পদকপ্রাপ্ত সংরক্ষক ইয়ারব হোসেনের পক্ষ থেকে প্রত্যেক বাড়িতে পর্যায়ক্রমে আটটি করে ওষুুধি বৃক্ষ পৌঁছে দেওয়া হবে। একই সাথে এসব বৃক্ষের গুণাগুন জানতে স্থানীয়দের ওরিয়েন্টেশন দেওয়া হবে।

happy wheels 2

Comments

%d bloggers like this: