Posted in

ছেলেবেলার দিনগুলো যেন পিছু ফিরে ডাকে

চাটমোহর, পাবনা থেকে ইকবাল কবীর রনজু

আমরা লাটিম হয়ে ঘুরছি শুধু ঘোড়ের জগৎময়/এই ঘোড়াটা বন্ধ হবে কখন কোন সময়/ ওরে জানে শুধু জগত পিতা/আর তো কেহ নয়! গীতিকার ইকবাল কবীর রনজু তার লেখা এ গানটিতে জীবনকে লাটিমের সাথে তুলনা করে আমাদের স্মরণ করিয়ে দেন লাটিম যেমন ঘুরতে ঘুরতে একসময় মাটিতে গড়িয়ে পরে তেমনি জীবনে চলার পথেও প্রতিটি রক্তে মাংসে গড়া মানুষ এক সময় মৃত্যুর মুখে পতিত হন। লাটিম গল্প কবিতা গানে যেমন স্থান করে নিয়েছে তেমনি আনন্দ বিনোদনের জন্য আজো শিশু কিশোররা লাটিম খেলে থাকেন।

selebela pic-1

২২ জানুয়ারি। সকাল ১০টা। চাটমোহরের বিলচলন ইউনিয়নের দোলং মধ্য পাড়ায় ছেলে মেয়েদের জটলা দেখে এগিয়ে যেতেই চোখে পরে লাটিম খেলারত ৫ কিশোরের দুরন্তপনা। দোলং গ্রামের সুজন হোসেনের ছেলে আসিফ, আজাহার আলীর ছেলে হৃদয়, শফিকুল ইসলামের ছেলে রিমেল, আজাহার আলী (২) এর ছেলে জাহিদ ও হালিমের ছেলে রুমন রশির সাহায্যে লাটিম ঘোড়ানোয় ব্যস্ত। বয়স ৭ থেকে ১১ বছরের মধ্যে। স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২য় থেকে চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্র। ওরা জানায়, অন্যান্য দিন স্কুল ও পড়ালেখার চাপ থাকে। আজ স্কুল ছুটি। তাই মনের আনন্দে খেলছি আমরা।

selebela pic-2

কুমারগাড়া গ্রামের জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে আকাশ, মিজানুর রহমানের ছেলে জীবন, শাখাওয়াতের ছেলে শান্ত, আব্দুল মতিনের ছেলে জমিন ও বাছের আলীর ছেলে হাসান পড়ছে কুমারগাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। ক্লাস শুরুর আগে স্কুলে এসে মাতোয়ারা হয় কৈশরের স্বভাব সুলভ কর্মকান্ডে। তাইতো পত্রবিহীন ছোট একটি পিটুলী (লাটিম) গাছে উঠে তারা মাতে কৈশরের উল্লাশে।

selebela pic-3

হরিপুর ইউনিয়নের তাঁতীপাড়া গ্রামের কিশোর কাওসারের বয়স ১২ বছর। পিতার নাম আব্দুল করিম। তাঁতীপাড়া ব্রাক স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণীর ছাত্র সে। বাটুল দিয়ে পাখি মারা তার নেশা। তাই তো একটু সময় পেলেই বেরিয়ে পরে বাটুল নিয়ে পাখি মারতে। পাখি পাক বা না পাক সেটি বড় কথা নয় আনন্দ উপভোগের জন্যই পাখির সন্ধানে বেরিয়ে পরে সে।

selebela pic-4

আমি মেলা থেকে তাল পাতার এক বাঁশি কিনে এনেছি/ বাঁশি কই আগের মতো বাজেনা/ মন আমার তেমন যেন সাজে না/ তবে কি ছেলেবেলা অনেক দূরে ফেলে এসেছি! ভারতীয় বিখ্যাত এ আধুনিক গানটি আমাদেরকে মনে করিয়ে দেয় ফেলে আসা ছেলে বেলার কথা। জীবনের যৌবনে, মাঝ বা শেষ ভাগে চলে আসা মানুষগুলো যখন স্মৃতি হাতড়ান তখন ছেলেবেলার এমন দিনগুলো যেন পিছু ফিরে ডাকে।

Bangladesh Resource Center for Indigenous Knowledge, BARCIK is a non-governmental non-profit development organization. Established in 1997 by a group of development practitioners, researchers and social workers, BARCIK has been working in the fields of environment and development with utmost commitment and purpose. Registered with the NGO Affairs Bureau under the Prime Minister’s Office, Government of Bangladesh, to operate foreign funds.