Posted in

বরেন্দ্র অঞ্চলের জলবায়ু পরিবেশ ও পানির সুরক্ষা নিশ্চিত করতে যুবদের সাত দফা

রাজশাহী থেকে মো. শহিজদুল ইসলাম
রাজশাহী সাহেব বাজার জিরোপয়েন্টে গত ১২ আগস্ট আন্তর্জাতিক যুব দিবস উপলক্ষে বরেন্দ্র অঞ্চল যুব সংগঠন ফোরামের যুবকরা বরেন্দ্র বরেন্দ্র অঞ্চলের জলবায়ু পরিবশে ও পানির সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সাত দফা দাবি ও সুপারিশ তুলে ধরেন। উক্ত অনুষ্ঠানে বরেন্দ্র অঞ্চলের স্বেচ্ছাসেবী ২৫টি যুব সংগঠনের যুব প্রতিনিধিগণ অংশগ্রহণ করেন। এছাড়াও উক্ত অনুষ্ঠানে বরেন্দ্র অঞ্চলের নাগরিক সমাজ, গবেষণা উন্নয়ন সংগঠন বারসিকসহ সমমনা সংগঠনগুলো সংহতি প্রকাশ করে।


অনুষ্ঠানটি উপলক্ষে রাজশাহী সাহেব বাজার জিরোপয়েন্ট থেকে একটি যুব র‌্যালি বের হয়ে তা প্রধান প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে আবার জিরোপয়েন্টে এসে আন্তঃপ্রজন্ম মানববন্ধনের মাধ্যমে দাবিগুলো তুলে ধরেন। এতে স্বাগত বক্তব্য রাখের বরেন্দ্র অঞ্চল যুব সংগঠন ফোরামের সদস্য সচিব তরুণ শাইখ তাসনীম জামাল, বরেন্দ্র অঞ্চলের সমন্বিত উন্নয়নের দাবি নিয়ে বক্তব্য তুলে ধরেন বীর মুক্তি যোদ্ধা ও সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ডা. আব্দুল মান্নান, বরেন্দ্র অঞ্চলের পরিবেশ ও জলাভূমিগুলো সংরক্ষণের দাবি তুলে ধরে বক্তব্য দেন নদী ও পরিবেশ গবেষক মাহবুব সিদ্দীকী, আরো বক্তব্য দেন স্যাভ দা ন্যাচার এর চেয়ারম্যান মিজানুর রহমানসহ বরেন্দ্র অঞ্চলের তরুণ স্বেচাসেবী সংগঠনের প্রতিনিধিগণ।
অনুষ্ঠানটিতে বরেন্দ্র অঞ্চলের জলবায়ু পরিবেশ ও পানির সুরক্ষা নিশ্চিত দাবি নিয়ে ধারণাপত্র ও দাবি তুলে ধরেন বারসিক’র গবেষক ও বরেন্দ্র অঞ্চল সমন্বয়কারি মো. শহিদুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানে বক্তরা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনে বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলিটিও অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে। খরা প্রবণ বরেন্দ্র অঞ্চলে দিনে দিনে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। দেশের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় প্রতিবছর খুব দ্রুত বেড়ে যাচ্ছে বরেন্দ্র অঞ্চলের তাপমাত্রা। ভরা বর্ষা মৌসুমেও বরেন্দ্র অঞ্চলে চলেছে স্মরণকালের অনাবৃষ্টি ও ভয়াবহ তীব্র তাপদহ। জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাবগুলো বরেন্দ্র অঞ্চলে আরো স্পষ্ট হচ্ছে। একদিকে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাবে অনাবৃষ্টি এবং অন্যদিকে ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন ও বণ্টন বৈষম্যের কারণে দিনে দিনে বরেন্দ্র অঞ্চলে বাড়ছে সহিংসতা। প্রান্তিক মানুষ তাঁর পানির অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।’

মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারিগণ বলেন, ‘এবারের আন্তর্জাতিক যুব দিবস ২০২২ এর মূল উদ্দেশ্যই হলো টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্র (এসডিজি) অর্জনের জন্য সকল প্রজন্মের মধ্যে সংহতি পদক্ষেপ গ্রহণ করা। কাউকে পিছিয়ে ফেলে নয়, সবাইকে সাথে নিয়ে সমতাভিত্তিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা। বরেন্দ্র অঞ্চলে জলবায়ু দুর্যোগ এবং পানি বণ্টন নীতি বৈষম্যের কারণে সেই সমতা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। আগামী প্রজন্মসহ, আমাদের তরুণদের জন্য বরেন্দ্র অঞ্চলের পরিবেশ ও পানির সুরক্ষা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। আর এখনই এসব পদক্ষেপ না নিলে আগামীতে আরো সংকট এবং সহিংসতা বাড়বে। প্রান্তিক কৃষক, প্রকৃতি নির্ভর আদিবাসী ও বসবাসরত মানুষের জীবন আরো সংকটে পড়বে। আমরা বরেন্দ্র অঞ্চলে পানির সুরক্ষা নিশ্চিত চাই।

মানবন্ধনে আদিবাসী ছাত্র পরিষদেও কেন্দ্রিয় কমিটির সহ সভাপতি সাবিত্রী হে¤্রম বলেন- ‘বরেন্দ্র অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রতিক্রিয়ার পাশাপাশি এখানে পানি সংকট দেখা দিয়েছে, পানি বণ্টনে বৈষম্য থাকার কারণে আদিবাসী ও প্রান্তিক মানুষ পানির অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

বিশ্ব যুব দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত আজকের এই আন্তঃপ্রজন্ম মানববন্ধনে বরেন্দ্র অঞ্চলের জনমানুষ এবং যুব সমাজের পক্ষে সাত দফা দাবি করেন। দাবিগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো বরেন্দ্র অঞ্চলের গ্রাম ভিত্তিক খাস/ সরকারি প্রতিটি পুকুড়/দিঘি সেই গ্রামের মানুষের ব্যবহারের জন্য শর্তবিহীন এবং জামানতবিহীন আজীবনের জন্য লিজ দিতে হবে। পুকুর/দিঘিগুলো পুণঃসস্কার করে দিতে হবে। বরেন্দ্র ডিপ ব্যবস্থাপনায় পানি বণ্টন বৈষিম্য নীতি পরিহার করে সরাসরি কৃষকদের পরিচালনা করতে দিতে হবে। প্রভাবশালীদের নিয়ন্ত্রণ বন্ধ করতে হবে। বরেন্দ্র অঞ্চলের প্রতিটি গ্রামে সুপেয় পানির ব্যবস্থা করতে হবে। বরেন্দ্র অঞ্চলের প্রাকৃতিক জলাশয়/ জলাধারগুলো পূণঃসংস্কার এবং তা লিজ বাতিল করে জনসাধারণের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করে দিতে হবে ইত্যাদি।

Bangladesh Resource Center for Indigenous Knowledge, BARCIK is a non-governmental non-profit development organization. Established in 1997 by a group of development practitioners, researchers and social workers, BARCIK has been working in the fields of environment and development with utmost commitment and purpose. Registered with the NGO Affairs Bureau under the Prime Minister’s Office, Government of Bangladesh, to operate foreign funds.