সাম্প্রতিক পোস্ট

কৃষক বীজ ব্যাংক ও কৃষি হাসপাতাল

সাতক্ষীরা থেকে মো. বাহলুল করিম

সাতক্ষীরা সদর উপজেলার তুজুলপুরে গড়ে ওঠেছে ব্যতিক্রমী ব্যাংক ও হাসপাতাল। যে ব্যাংকে রাখা হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের ফসলের এবং ঔষধি বীজ ও কৃষকের ব্যবহৃত কৃষি সরঞ্জাম। আর কৃষি হাসপাতাল থেকে সেবা দেওয়া হচ্ছে কৃষি ও প্রাণ-বৈচিত্র্যের। তুজুলপুর কৃষক ক্লাবের সদস্যদের উদ্যোগে গড়ে ওঠেছে এই ব্যতিক্রমধর্মী প্রতিষ্ঠানটি। আর তাদের এই উদ্যোগকে সার্বিক সহায়তা দিচ্ছে বারসিক।
প্রথম দিকে ১০ থেকে ১২ রকমের বীজ নিয়ে যাত্রা শুরু করে বীজ ব্যাংক ও কৃষি হাসপাতাল। বর্তমানে ধান, গম, সবজি, ঔষধি, ফলজ, বনজসহ বিভিন্ন জাতের ৩৫০ এর অধিক বীজ সংরক্ষিত আছে বীজ ব্যাংকে। এছাড়া সাতক্ষীরা বিভিন্ন উপজেলার মাটি ও পানি সংরক্ষণ করা আছে এখানে।

sat

তাছাড়াও ফসলের বিভিন্ন ক্ষতিকারক ও উপকারি পোকার সংগ্রহশালা আছে এই বীজ ব্যাংক ও কৃষি হাসপাতালে। বীজ ব্যাংক ও কৃষি হাসপাতাল থেকে প্রতিবছর কৃষকদের বিনামূল্যে বিভিন্ন ধরনের ফসলের বীজ দেওয়া হয়। আবার কৃষকরা ফসল উৎপাদনের পর আবার বীজ ব্যাংকে বীজ সংরক্ষণ করে রাখেন। যেন অন্য কৃষকরা সেই বীজ দিয়ে চাষাবাদ করতে পারেন।
এছাড়া কৃষি হাসপাতালে কৃষকদের বিভিন্ন ধরনের পরামর্শ দিয়ে থাকে। সেক্ষেত্রে অভিজ্ঞ কৃষকরা অন্য কৃষকদেরকে তাদের নিজেদের অভিজ্ঞতার কথা বিনিময় করেন।

২০১৩ সালের প্রথম দিকে স্থানীয় কৃষি সংগঠক ইয়ারব হোসেন স্থানীয় কৃষকদের নিয়ে সদস্যের তুজুলপুর সিআইজি (ফসল) সমবায় সমিতি লি: একটি সমিতি গঠন করেন। কিন্তু এর কার্যক্রম এর ব্যাপ্তি ঘটে ২০১৫ সালে কৃষকদের ১০ টকায় ব্যাংক অ্যাকাউণ্ট খুলে দেওয়ার মধ্য দিয়ে হয়। আর তারপর থেকে তাদের উদ্যোগ প্রসার ঘটতে থাকে। বর্তমানে বীজ ব্যাংকের সদস্য সংখ্যা দেড় শতাধিক কৃষক।
বীজ ব্যাংক ও কৃষি হাসপাতালের কৃষক সংগঠন তুজুলপুর কৃষক ক্লাব বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে থাকে। তারা নিজেরা আলোচনার মাধ্যমে একটি বার্ষিক কর্মপরিকল্পনা করে। সে অনুযায়ী তারা তাদের কর্মসূচি পালন করে থাকে। তাদের মূল প্রতিপাদ্য বিষয় হল বিষের বিকল্প চাষ পদ্ধতি।

তাদের কর্মসূচিগুলোর মধ্যে রয়েছে কুুড়িয়ে পাওয়া উদ্ভিদ বৈচিত্রের পাড়া মেলা, কৃষকের বীজ কৃষকের অধিকার বিষয়ক কর্মশালা, ফষলের বীজ দিয়ে একাত্মতার বন্ধন সৃষ্টি কsat-1রা, গাছের চারা বিতরণ, বীজ বিতরণ, বিভিন্ন কারণে ডিসি বারাবর স্মারকলিপি প্রদান, কৃষি যন্ত্রপাতি সংরক্ষণ, কমপোস্ট সার উৎপাদন, ফলজ, বনজ, ঔষধি বৃক্ষ রোপণ, কৃষকের নিয়মিত আড্ডা ও বই সহযোগিতা, নতুন প্রজন্মকে এর সূফল জানানো ইত্যাদি।

তুজুলপুর কৃষক ক্লাব এবং কৃষি সংগঠক ইয়ারব হোসেন গড়ে তুলেছেন প্রায় ৪০০ প্রজাতির বনজ, ঔষধি এবং ফলজ বৃক্ষের গাছে সংগ্রহশালা। সেখান থেকেও বীজ সংগ্রহ করা হচ্ছে বীজ ব্যাংকে। যেখানে অনেক হারিয়ে যাওয়া গাছের বীজ সংগ্রহ করা হয়েছে।
বীজ ব্যাংক ও কৃষি হাসপাতাল বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তাদের সংগ্রহ উপস্থাপন করেন। একবার তাঁরা পুরুস্কারও পেয়েছেন। দ্বিতীয় শস্য বহুমূখিকরণ প্রকল্প ( এস. সি. ডি. পি.) এর আওতায় সেরা স্টল হিসেবে ৩য় স্থান অধিকার তাঁরা।

এছাড়া সাতক্ষীরা প্রেস ক্লাবে ২০১৬ সালে আয়োজিত প্রাণ ও প্রকৃতি মেলায় তাদের সংগ্রহ উপস্থাপন করে বেশ প্রসংসা পায়। শুধু বীজ সংগ্রহ নয়; বীজ ব্যাংক যেন কৃষকদের প্রাণের জায়গা। প্রতিদিন বিকাল থেকে রাত পর্যন্ত এখানে বসে কৃষকদের আড্ডা। কৃষকরা ঢোল, তবলা,একতারা, দোতারা, ঢুলি নিয়ে মেতে ওঠেন বিভিন্ন ধরনের গান বাজনায়।

happy wheels 2

Comments

%d bloggers like this: