Posted in

সোনালি আঁশে রঙিন স্বপ্ন দেখছে মানিকগঞ্জের কৃষকরা

আব্দুর রাজ্জাক, মানিকগঞ্জ ॥

ঘিওর উপজেলাসহ মানিকগঞ্জে বাম্পার ফলনে হাসি ফুটেছে পাট চাষিদের মুখে। বাজারে নতুন পাট বিক্রির শুরুতেই বাড়তি দাম পেয়ে কৃষকদের মধ্যে উৎসবের আমেজ সৃষ্টি হয়েছে। যেন পুরাতন ঐতিহ্য ফিরে এসেছে পাট শিল্পে। পাট শিল্পের সাথে জড়িত হাজার হাজার কৃষকের ভাগ্যের চাকা পরিবর্তন হচ্ছে। সেই সঙ্গে পরিবেশ রক্ষায় পাট উৎপাদন ও পলিথিন সিন্ডিকেটের পরিবর্তে পাটের পন্য ব্যবহারের প্রতি পাটের গুরুত্বরোপ করে আইন পাস করেছে বর্তমান সরকার। ফলে দেশের উৎপাদিত সার, চিনি,সিমেন্ট ও ফসলের বীজসহ বিভিন্ন পণ্য সামগ্রী বাজারজাত করতে পাটের তৈরি ব্যাগ ব্যবহারের ওপর বাধ্যবাধকতা আরোপ করে ইতিমধ্যে আইন পাস করা হয়েছে। ভালো দাম পাওয়ায় এবার পাট কাটা,জাগ দেওয়া, আঁশ ছাড়ানো,শুকানো এবং গ্রামীণ অর্থনীতি চাঙ্গা হয়ে উঠবে। এ আশায় ফুরফুরে মেজাজে রয়েছে ঘিওরের পাট চাষের সাথে জরিত প্রায় ৩০ হাজার কৃষক।
02 (6)
মানিকগঞ্জে এক সময় দেশের প্রথম অর্থকরী ফসল সোনালি আঁশ খ্যাত পাটের আবাদ হতো। হাজার-হাজার মণ পাট জেলার বৃহত্তম ঘিওর হাটে কেনা বেচা হতো। গ্রামীণ জনপদে পাটের মান অত্যন্ত ভালো হওয়ায় দেশের বিভিন্ন এলাকায় এর চাহিদা ছিল অনেক। ঘিওর, তরা, বরংগাইল, দৌলতপুর, হাটবাজারের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ফরিয়ারা পাট ক্রয় করে নারায়নগঞ্জ, খুলনা, ফরিদপুর, রাজবাড়িসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাট চালান দিত। এক কথায় মানিকগঞ্জের পাটের ব্যাপক চাহিদা ছিল। এ অঞ্চলের জলবায়ু পাট চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। নদী, নালা, খাল, বিলের পানিতে পাট জাগ দেওয়া, পাটের আঁশ এবং রঙ ভালো হওয়ায় তুলনামুলক পাটের চাহিদা ভালো। দেশের অন্যান্য স্থানের চেয়ে ঘিওর-দৌলতপুর পাটের দাম তুলনামুলক প্রতিমণে ২শ থেকে ৩শ টাকা বেশি। বিগত বছরগুলোতে পাট আবাদে সার, বীজ, কীটনাশক, সেচ ও শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধির ফলে উৎপাদিত খরচ বৃদ্ধি সেই সাথে উৎপাদিত পাটের বাজারে ভালো দর না পাওয়ায় সাধারণ কৃষকেরা পাটের আবাদ ভুলতে বসেছিল। বর্তমান সরকার দেশে পাটের ব্যবহার নিশ্চিত ও আবাদের প্রতি গুরুত্ব দেওয়ায় পাটের বাজার দর ভালো অবস্থানে পৌছেছে। তাই এলাকায় পাট চাষীরা চলতি বছরে পাটের আবাদে ঝুকে পড়েছে।

ঘিওর উপজেলার বানিয়াজুরী ইউনিয়নের রাথুরা গ্রামের পাট চাষি কবির খান জানান, এবার ৫ বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছি মৌসুমের শুরুতে বৃষ্টিপাত হওয়ায় জমিতে জো আসার সাথেই বীজ রোপণ করেছিলাম। মাটিতে জো আসায় চারাগুলো ভালো হয়। নিড়ানী, পরিচর্যা করায় পাটের চেহারা ভালো হয়।” তিনি আরও বলেন, “নিড়ানী,আগাছা দমন, সার,বীজ, Ghior, Manikgonj (1)কীটনাশক,কীটনাশক,পাট কাটা, ধুয়াসহ প্রতি বিঘা পাটে খরচ হয়েছে প্রায় ৭ থেকে ৮ হাজার টাকা। প্রতি বিঘা পাটের বাজার মূল্য ১২ থেকে ১৬ হাজার টাকা। গত বছর পাট চাষ করে ভালো বাজার দর পেয়েছিলাম। তাই এবারও আবাদ করেছি। আশা করছি এবারো বাজার দর ভালো পাব।” তবে বাজার দর এভাবে থাকলে পুরোনো সুনাম ঐতিহ্য ঘুরে আসবে পাট চাষিদের।

পাট ব্যবসায়ী মো. মজিবর রহমান জানান, বর্তমান বাজারে প্রতিমন দেশী পাট এক হাজার ৪শ’ থেকে এক হাজার ৬শ’ টাকা এবং তোষা পাট ১৫শ’ থেকে ১৬শ’ টাকা বিক্রয় হচ্ছে। এবার পাটের চাহিদা ভালো। বাজার দর ও বিভিন্ন মিলে পাটের চাহিদা থাকায় চাষীদের পাশাপাশি ব্যবসায়ীরা লাভবান হবে। বাজার দর এভাবে থাকলে পাট চাষে এলাকার কৃষকদের আগ্রহ বাড়বে। পাট ও পাটজাত পণ্য বিদেশে রপ্তানি করে দেশে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অজর্নে সক্ষম হবে। এদিকে সরকারিভাবে পাট ক্রয় চালু হলে এলাকার হাজার-হাজার কৃষকদের অনেক উপকার হবে। এ বছর উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে লক্ষমাত্রা ছিল ৩৮২ হেঃ জমি, আবাদ হয়েছে ৩৯৩ হেঃ জমিতে। তোষা ৩৫৪ হেঃ, দেশীয় ৩৯ হেঃ জমিতে পাট বপন করা হয়। তবে এ বছর লক্ষমাত্রার ১০ হেঃ বেশি আবাদ হয়েছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আশরাফউজ্জামান জানান, আবহাওয়া ও পরিবেশ অনুকুলে থাকায় এ বছর পাটের আবাদ ব্যাপক হয়েছে। ফলন ভালো হওয়ায় কৃষক দাম ভালো পাচ্ছে। পাটের সুদিন আশায় কৃষক পাট চাষে আগ্রহ বেড়েছে।

Bangladesh Resource Center for Indigenous Knowledge, BARCIK is a non-governmental non-profit development organization. Established in 1997 by a group of development practitioners, researchers and social workers, BARCIK has been working in the fields of environment and development with utmost commitment and purpose. Registered with the NGO Affairs Bureau under the Prime Minister’s Office, Government of Bangladesh, to operate foreign funds.