সাম্প্রতিক পোস্ট

আলু চাষে অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ব্যবহারে মাটির স্বাস্থ্য নিয়ে চিন্তিত বরেন্দ্র অঞ্চলের কৃষকরা

রাজশাহী থেকে মো. শহিদুল ইলাম শহিদ

রাজশাহীর বরেন্দ্র অঞ্চলের গোদাগাড়ী ও তানোর উপজেলায় বিগত ৩০-৪০ বছর ধরে নিজেদের চাহিদা পূরণে কৃষক আলুর চাষ করে আসছেন। কিন্তু গত দশ বছরে সেটা বাণিজ্যিকভাবে ব্যাপক প্রসারতা লাভ করেছে। দেশের চাহিদা মিটিয়ে স্বল্প পরিসরে বিদেশেও রপ্তানী করা হচ্ছে এই এলাকার আলু। এবারও  আলুর বাম্পার ফলন হয়েছে। ৩৩ IMG_20170312_145635শতাংশ জমিতে ১২০- ১৫০ মণ পর্যন্ত আলুর ফলন পেয়েছেন কৃষক। কিন্তু ফলনের পাশাপাশি রাসায়নিক সার ও কীটনাশক প্রয়োগের হার দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। যাদের বেশি জমি তারা সামান্য পরিমাণে আলু চাষ করলেও অন্য কৃষককে দিয়ে চুক্তিভিত্তিক আলু চাষের জন্য জমি দিয়ে থাকেন। তাই অন্য এলাকার মানুষরাও এই এলাকায় আলু চাষ করতে আসেন।

স্বল্প সময়ে বেশি আলু উৎপাদন করার জন্য এই ফসলে অনেকটাই নির্ভর করতে হয় রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের উপর। রাসায়নিক সার ব্যবহারের চিত্র তানোর উপজেলার হরিদেবপুর গ্রামের কৃষক শ্রীঃ জিতেন চন্দ্র মন্ডলের (৪০) কাছ থেকে জানা যায়। তিনি বলেন, “আমি এবার ২৪ কাঠা জমিতে আলু চাষ করেছি।  আমি ডিএপি, ইউরিয়া ও পটাশসহ মোট চার বস্তা সার প্রয়োগ করেছি। রোপণের সময় দানা বিষ দেয়েছি। গাছ বের হওয়ার পর চারবার বিষ প্রয়োগ করতে হয়েছে তার সাথে বিভিন্ন ভিটামিন ও প্রয়োগ করেছি। আমি যখন মাটিতে সার প্রয়োগ করি তখন দেখি মাটি ঢেকে যায়। কিন্তু কোন ধরনের জৈব সার প্রয়োগ করি নাই।”

রাসায়নিক সার ও কীটনাশক জমির উর্বরাশক্তি নষ্ট করে। কৃষকরা মনে করেন, মাটিকে শক্তিশালী ও মাটির স্বাস্থ্য রক্ষার জন্য মাটির জৈব শক্তি ধরে রাখা খুবই প্রয়োজন। কিন্তু আলু চাষে মাত্রাতিরিক্ত রাসায়নিক সার ব্যবহার করলে মাটির জৈব শক্তি নষ্ট হয়ে যাবে।IMG_20170312_145704 তাই অনেক কৃষক আশঙ্কা করছেন এ হারে রাসায়নিক সার ব্যবহার করা হলে অচিরেই মাটির উর্বরাশক্তি নষ্ট হবে। সেজন্য তাঁরা আলুসহ অন্যান্য ফসল উৎপাদনের জন্য জৈব সার ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এই প্রসঙ্গে তানোর পৌরসভার গোকুল মথুরা গ্রামের কৃষক জিতেন্দ্রনাথ সুত্রধর (৫৬) বলেন, “মাটির জৈব শক্তিকে বৃদ্ধি করার এখনই সময় এসেছে। তা না হলে এই এলাকার মাটির উর্বরাশক্তি অচিরেই নষ্ট হয়ে যাবে।”

উৎপাদন ঠিক রেখে কিভাবে মাটির জৈবশক্তি বৃদ্ধি করা যায় জানতে চাইলে তানোর হরিদেবপুর গ্রামের আফাল চন্দ্র প্রাং, মোঃ দাউদ আলী, ভবানী চন্দ্র সরকার, সুকেজ চন্দ্র সরকার ও পরিমল চন্দ্র প্রাং বলেন, “মাটিতে প্রচুর পরিমাণে গোবর সার প্রয়োগ করতে হবে। বাড়িতে কেঁচো সার তৈরি করে জমিতে প্রয়োগ করতে হবে। গ্রামের পুকুরের কাদা প্রয়োগ করতে হবে।” তারা জানান, বর্তমানে তিন চারবার ফসল চাষ না করে ধনছা চাষ করে সবুজ সার তৈরি করে মাটির শক্তি বৃদ্ধি করা ও মাটিকে বিরতি দেওয়া যেতে পারে। অন্তত ৪-৫ শতাংশ জমিতে প্রচুর জৈবশক্তি প্রয়োগ করে পরীক্ষামুলক চাষ করে দেখা যেতে পারে। এই পরীক্ষণের ফলাফল অন্যান্য কৃষকের সাথে সহভাগিতা করতে হবে।

happy wheels 2

Comments

%d bloggers like this: