সাম্প্রতিক পোস্ট

জাতীয় সঙ্গীত নিয়ে তারুণ্যের স্বপ্নযাত্রা

দেবদাস মজুমদার, বিশেষ প্রতিনিধি, উপকূলীয় অঞ্চল

বাংলাদেশ আমাদের প্রাণ। দেশকে ভালোবাসি আমরা মায়ের মতোন। আমাদের ভাষা, আমাদের আপন সংস্কৃতি বাঙালি ছড়িয়ে দিয়েছে বিশ্বময়। আমাদের অন্তরে তাই বাংলার মায়ের গান। আমাদের দ্রোহ ও সংগ্রামের বাংলাদেশে জাতীয় সঙ্গীত ধ্বনিত আজ সমগ্র বিশ্বজুড়ে। আমরা  গর্বিত আমরা বাংলা মায়ের সন্তান। আমরা মাতৃভূমি ভালোবাসি আর ভালোবাসি আমাদের চেতনা ও স্বদেশ প্রেমের গান জাতীয় সঙ্গীত। এই মায়ামুগ্ধ গানে আমরা দেশ প্রেমে সদা জাগ্রত থাকি। এই স্বদেশ চেতনার গান আমাদের শুদ্ধ করে গাইতে হবে, লিখতে হবে শুদ্ধ করে। এমন মহতী স্বপ্ন নিয়ে কয়েকজন উদ্যোমী তরুণ মিলে সারাদেশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের লাখো শিক্ষার্থীকে সম্পৃক্ত করতে শুরু করেছে শুদ্ধ শিখি, শুদ্ধ লিখি-জাতীয় সঙ্গীত প্রতিযোগিতা কর্মসূচি। পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার উদ্যোমী তরুণদের গড়ে তোলা রেনেসাঁস মঠবাড়িয়া নামে একটি সামাজিক সংগঠনের উদ্যোগে সারাদেশে এক লাখ শিক্ষার্থীকে জাতীয় সঙ্গীত শুদ্ধ শেখা ও শুদ্ধ লেখার কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।
devdas-pic-
সম্প্রতি পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার নিভৃত এক গাঁয়ের স্কুলে জাতীয় সঙ্গীত নিয়ে এমন একটি মহতী কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সূচনা করা হয়েছে। মঠবাড়িয়ার মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক সওগাতুল আলম সগীর মেমোরিয়ার বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে আজ রবিবার শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা মিলে এ কর্মসূচিতে অংশ নেয়। এসময় ৪৬জন শিক্ষার্থীর হাতে জাতীয় পতাকা তুলে দেওয়া হয়।

স্থানীয় সাংস্কৃতি আন্দোলনের পুরোধা অবসরপ্রাপ্ত প্রবীণ শিক্ষক বাসুদেব মিত্র ও ভাষা সৈনিক অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক হাবিবুর রহমান খান যৌথভাবে শিক্ষার্থীদের হাতে জাতীয় পতাকা তুলে দিয়ে জাতীয় সঙ্গীতের মধ্য দিয়ে স্কুল আঙ্গীনায় এ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

শেষে বক্তব্য দেন, সগীর মেমোরিয়াল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আনোয়ার হোসেন, শ্যামলেন্দু মিত্র. মো. হারুন অর রশীদ, শিক্ষার্থী ঝুমুর রানী, সোনিয়া আক্তার, আয়োজক সংগঠন রেনেসাঁসের স্বেচ্ছাসেবক মো. আমিন রুমান, সাব্বির মোহাম্মদ খালিদ ও তরিকুল ইসলাম রুবেল প্রমূখ। শেষে তিন শতাধিক শিক্ষার্থী জাতীয় সঙ্গীত শুদ্ধ করে লেখা প্রতিযোগিতায় অংশ নেন।
devdas-pic-4
শুদ্ধ শিখি, শুদ্ধ লিখি- জাতীয় সঙ্গীত প্রতিযোগিতার আয়োজক সংগঠন রেনেসাঁস এর স্বেচ্ছাসেবক সহকারী জজ সাব্বির মোহাম্মদ খালিদ জানান, রেনেসাঁস মঠবাড়িয়া প্রচলিত ধারার কোন সংগঠন নয়।  কিছু শুদ্ধ স্বচ্ছ ও মুক্ত বুদ্ধির সামাজিক উদ্যোক্তা তরুণদের একটি প্লাটফর্ম। এর কোনও কমিটি নেই। যারা যুক্ত তারা সবাই স্বদেশ প্রেমের স্বেচ্ছাসেবক। রেনেসাঁস মঠবাড়িয়া মনে করে, তরুণ প্রজন্মকে দেশ প্রেমে উদ্দীপ্ত করতে হলে জাতীয় সংগীত শুদ্ধভাবে শেখা গাওয়া ও আত্মস্থ করা অত্যন্ত জরুরি। কারণ রবি ঠাকুরের এ অমর সৃষ্টিতে আমাদের দেশপ্রেমের স্বরূপ নিহিত। এ চেতনা নিয়ে আমরা সমগ্র দেশ জুড়ে বিভিন্ন শিক্ষ প্রতিষ্ঠান বিশেষ করে নিভৃত গাঁয়ের এক লাখ স্কুল শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করে এ প্রতিযোতিা সম্পন্ন করার সামাজিক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। আজ রবিবার আনুষ্ঠানিকভাবে একটি নিভৃত গাঁয়ের স্কুল থেকে এ স্বপ্নযাত্রা শুর করা হয়েছে।

এ বিষয়ে মঠবাড়িয়ার সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব বাসুদেব মিত্র বলেন, “আমি অভিভূত তারুণ্য আসলে পুরোটা বখে যায়নি। জাতীয় সঙ্গীত নিয়ে এমন উদ্যোগ সত্যি আশাবাদী হওয়ার মতো। আমাদের ভাষা আর আপন সংস্কৃতির লড়াই আসলে শেষ হওয়ার নয়। শুভ বুদ্ধির তরুণরা আসলেই এ লড়াইটা চালাচ্ছে। ওদের স্বপ্নটা শুভ, হোক সফল হোক।”
devdas-pic-5
মঠবাড়িয়ার ভাষা সৈনিক ও অবসরপ্রাপ্ত প্রবীণ শিক্ষক হাবিবুর রহমান খান বলেন, “জাতীয় সঙ্গীত যদি আমরা শুদ্ধ করে লিখতে ও গাইতে না পারি সেটা দেশের জন্য শুভ চেতানা হবে না। দেশে প্রেমের শুদ্ধ সঙ্গীত আমাদের ধারণ করে তরুণদের সামনে বাড়তে হবে। আমরা বাঙালি শুদ্ধ ভাষা ও গানের জন্য জীবন দিয়েছি। বাঙালিকে আসলে আপন ভাষা ও সংস্কৃতির জন্য অবিরত লড়তে হচ্ছে।”

মঠবাড়িয়ার সগীর মেমোরিয়াল বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, “এক লাখ শিক্ষাথার্থীর অংশ গ্রহণে জাতীয় সঙ্গীত শুদ্ধ করে শেখার প্রতিযোগিতার উদ্বাধনী অনুষ্ঠান আমাদের স্কুলে অনুষ্ঠিত হওয়ায় আমরা সকলেই আনন্দিত। এ মহতী কর্মসূচির আয়োজকদের ধন্যবাদ জানাই।”

happy wheels 2

Comments

%d bloggers like this: