Posted in

রাজশাহীতে প্রথম আঞ্চলিক ট্রি অলিম্পিয়াডের যাত্রা শুরু

বরেন্দ্র অঞ্চল প্রতিনিধি

“এই যে জীবন দেখছো এ জীবন আমার নয়, আমি বেঁচে আছি বৃক্ষের জীবনে ”-(কবি মহাদেব সাহা) শ্লোগানে আজ সোমবার (৩০ অক্টোবর,২০১৭) রাজশাহীর মেহেরচন্ডী উচ্চ বিদ্যালয়ে বাংলাদেশ তথা বিশ্বের মধ্যে প্রথম আঞ্চলিক ট্রি অলিম্পিয়াডের যাত্রা শুরু হয়েছে। বর্তমান প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বৃক্ষ ও পরিবেশ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধিসহ আগামীতে মননশীল প্রজন্ম তৈরির লক্ষ্যে সচেতনতামূলক এই কর্মউদ্যোগ গ্রহণ করছে বারসিক ও বরেন্দ্র শিক্ষা সংস্কৃতি বৈচিত্র্য রক্ষা কেন্দ্র (বিইসিডিপিসি)। গতকাল ট্রি অলিম্পিয়াড ২০১৭ উদ্বোধন করেন উক্ত বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. শফিকুল ইসলাম। উদ্বোধনকালে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সহকারি প্রধান শিক্ষক হায়দার আলী, বারসিক বরেন্দ্র অঞ্চলের সমন্বয়কারী শহিদুল ইসলাম, ট্রি অলিম্পিয়াড কমিটির রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের সমন্বয়ক ও সভাপতি জিনাতুন্নেছা, বিইসিডিপির তরুণ সভাপতি জাওয়াদ আহমেদ রাফি, বিইসিডিপির প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ও ট্রি অলিম্পিয়াড কমিটির সাধারণ সম্পাদক শামীউল আলীম শাওন, সিটি ইউনিটের সভাপতি ইবনে সিনা জ্যোতিসহ দেড় শতাধিক শিক্ষার্থী। এছাড়াও এ আয়োজনে সহায়ক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বরাসিক’র পক্ষে থেকে অমৃত কুমার সরকার, উপেন রবিদাস, বজেন্দ্রনাথ।

Tree Olympiad-1

সকাল ১১ ঘটিকায় উদ্বোধনের পর দেড়শত শিক্ষার্থী ট্রি অলিম্পিয়াডের প্রাথমিক বাঁছাই পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। এর মধ্যে থেকে বৃক্ষ ও পরিবেশ বিষয়ক উপস্থিত বক্তৃতা এবং ২০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষার মাধ্যমে সর্বোচ্চ নম্বরধারী দশজন শিক্ষার্থীকে ফাইনাল রাউন্ডের জন্যে নির্বাচন করা হয়। আয়োজকদের পক্ষ থেকে এই দশজনকে ইয়েস কার্ড তুলে দেওয়া হয়। ইয়াসকার্ড প্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা হলেন আবু বক্কর সিদ্দিক, রজনী আক্তার, সীমা খাতুন, সাথী খাতুন, আবু রায়হান, সায়েম, শিহাব হোসেন, হালিমাতুছ সাদিয়া, মারুফ এবং জ্যোতি।

Tree Olympiad-2
বরেন্দ্র অঞ্চলভিত্তিক এই ট্রি অলিম্পিয়াড বৃক্ষ, লতা, পাতা এবং পরিবেশ নিয়ে আলোচনা, প্রশ্ন পর্ব এবং দলীয় আলোচনা, বক্তৃতা, রচনা, বিতর্কসহ বৃক্ষ রক্ষায় নানা উদ্যোগ কর্মসূচির দিকগুলো উঠে আসে। বিশেষজ্ঞ হিসেবে মেহেরচন্ডী উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক রফিকুল ইসলাম শিক্ষার্থীদের বৃক্ষ এবং পরিবেশ সংশ্লিষ্ট প্রশ্নের উত্তর দেন। একই সাথে তিনি বৃক্ষ এবং পরিবেশ বিষয়ে বক্তব্য তুলে ধরেন। প্রধান আলোচক ও বিশেষজ্ঞ হিসেবে স্কুলটির প্রধান শিক্ষক বলেন, “বৃক্ষ ছাড়া পরিবেশ ও জীবন অচল, তাই দেশের মধ্যে বড় বড় বৃক্ষগুলো রক্ষা করাসহ অধিকহারে বৃক্ষরোপণ করতে হবে।” তিনি আরো বলেন, “বরেন্দ্র অঞ্চলটি তুলনামূলক খরাপ্রবণ। এই অঞ্চলে দেশীয় পরিবেশবান্ধব বৃক্ষের পরিমাণ দিনে দিনে কমে যাচ্ছে। বর্তমান রাজশাহী বিভাগে বনভূমির শতকরা হার ২ ভাগ। এটি আমাদের জন্যে অত্যন্ত ভয়ংকর একটি সংবাদ।” ট্রি-অলিম্পিয়াডে মিডিয়া পার্টনার হিসেবে ভূমিকা পালন করছে অনলাইন ভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম বারসিক নিউজ ।

Tree Olympiad-4

আঞ্চলিক ট্রি অলিম্পিয়াড কি
আঞ্চলিক পর্যায়ে (বরেন্দ্র অঞ্চল) নবীন শিক্ষার্থীদের মধ্যে বৃক্ষ ও পরিবেশ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং এ সম্পর্কিত নিজ উদ্যোগ গ্রহণে এই “ট্রি-অলিম্পিয়াড” এর আয়োজন করা হচ্ছে । এখানে বৃক্ষ, লতা, পাতা এবং পরিবেশ নিয়ে আলোচনা, প্রশ্ন পর্ব এবং দলীয় আলোচনা, বক্তৃতা, রচনা, বিতর্ক ইত্যাদি দিকগুলো থাকে। বৃক্ষের সাথে সম্পর্কিত আমাদের পরিবেশ, প্রাণ প্রকৃতি, ধর্মীয় ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি, জলবায়ু পরিবর্তন, দুর্যোগ, আচার-আচরণ, রীতি-নীতি, রাজনীতি, উন্নয়ন, জীবন ও জীবিকাসহ নানা দিকগুলো বিষয়ভুক্ত। বরেন্দ্র অঞ্চলভিত্তিক অনুষ্ঠিত এই ট্রি অলিম্পিয়াডে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলকেই প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে বেশি। নবায়নযোগ্য জ্বালানির অন্যতম উৎস হলো বৃক্ষ বা গাছ। জ্বালানি ও পরিবেশ সুরক্ষায় সচেতনতামূলক এই কর্মসূচিটি অনেক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। ট্রি অলিম্পিয়াডে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীগণ নিজেরা বৃক্ষ এবং পরিবেশ সুরক্ষায় অবদান রাখবেন বলে আশা করা হচ্ছে। বৃক্ষপ্রেমী এবং প্রজন্ম তৈরীতে এটি বিশেষভূমিকা পালন করবে।

আঞ্চলিক ট্রি অলিম্পিয়াডের প্রতিযোগিতার সময়কাল ও ধাপসমূহ
আঞ্চলিক “ট্রি অলিম্পিয়াড ২০১৭” মূলত বরেন্দ্র অঞ্চল কেন্দ্রিক একটি আঞ্চলিক প্রতিযোগিতার আসর। প্রথম পর্যায়ে এটি ৩০ অক্টোবর,২০১৭ থেকে শুরু হয়ে ৩১ জানুয়ারি, ২০১৮ এর মধ্যে শেষ হবে। প্রথম পর্যায়ে এটি দুটি ধাপে অনুষ্ঠিত হবে।

Tree Olympiad-5
প্রথম ধাপে থাকে প্রাথমিক নির্বাচন। এটি রাজশাহীর তানোর, গোদাগাড়ি,পবা উপজেলা ও রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের আগ্রহী স্কুলগুলোর নিজস্ব ভেনুতে অনুষ্ঠিত হবে। প্রথমদিকে যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যোগাযোগ এবং আগ্রহী হবেন এমন পাঁচটি স্কুলে অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিটি স্কুলে ক্যাটাগড়ি অনুযায়ী ১০ জন শিক্ষার্থীকে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে নির্বাচন করা হবে। এবং এই দশজন শিক্ষার্থীকে আয়োজক গোষ্ঠী ইয়েস কার্ড প্রদান করবেন। দ্বিতীয় ধাপ- যাকে ফাইনাল রাউন্ড বা চুড়ান্ত প্রতিযোগিতার আসর বলতে পারি। এখানে প্রথম ধাপে উত্তীর্ণ ইয়েস কার্ড ধারীগণ অংশগ্রহণ করবেন। এটি রাজশাহীর বিভাগীয় শহরে বা সুবিধাজন কোন স্থানে অনুষ্ঠিত হবে। তবে এখানে উল্লেখ্য যে, কর্তপক্ষ পরিস্থিতি বিবেচনায় তৃতীয় আরেকটি সুপার ফাইনাল ধাপের আয়োজন করতে পারে।

আঞ্চলিক ট্রি অলিম্পিয়াডে কারা অংশ নিতে পারবে?
আঞ্চলিক ট্রি অলিম্পিয়াডে বরেন্দ্র অঞ্চলের (ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণীর (বা সমমানের) শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে ২টি ক্যাটেগরিতে প্রাথমিক প্রতিযোগিতা হবে।
ক্যাটাগরি (ক)- ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণী
ক্যাটাগরি (খ) নবম শ্রেণী।

Tree Olympiad-6

তবে বিশেষভাবে বলা যাচ্ছে যে, আঞ্চলিকভাবে ট্রি-অলিম্পিয়াড ফাইনাল রাউন্ডে কোন ক্যাটাগরি নাও থাকতে পারে। বিষয়টি আয়োজকগোষ্ঠী সিদ্ধান্ত নিবেন। এ ক্ষেত্রে সবাই একসাথে একই পরীক্ষায়/ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করতে হবে। অংশগ্রহণকারীকে রেজিষ্ট্রেশন ফর্ম পূরণ করে সংশ্লিষ্ট স্কুলে জমা দিতে হবে। রেজিষ্ট্রেশন ফর্ম স্কুলের দপ্তর থেকেও সংগ্রহ করা যাবে।

ট্রি অলিম্পিয়াডে কী ধরণের প্রশ্ন (সমস্যা) দেওয়া হয়?
ট্রি-অলিম্পিয়াডে কী ধরণের সমস্যা দেওয়া হবে তার কোন বাধাধরা কোন নিয়ম নেই। তবে বিষয় সম্পর্কিত প্রশ্নই করা হবে। এই বিষয়ের বাইরে কোন প্রশ্ন করা হবে না। বৃক্ষ এবং পরিবেশ সম্পর্কিত বিষয়ে প্রশ্ন করা হবে। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের পাঠ্য বইকেও প্রাধান্য দেওয়া হবে। নিজের এলাকার বৃক্ষ, লতা, পাতা, উদ্ভিদবৈচিত্র্য এবং পরিবেশকে প্রাধ্যান্য দেওয়া হবে। প্রথম রাউন্ডের (প্রাথমিক নির্বাচনী) সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ২০ নম্বরের ভিত্তিতে প্রতিযোগিতা হবে। দ্বিতীয় ধাপে (ফাইনাল রাউন্ড) সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ৫০ নম্বরের ভিত্তিতে প্রতিযোগিতা হবে।

ট্রি অলিম্পিয়াডের জন্য প্রস্তুতি
আপনার পরিবেশের বৃক্ষ সম্পর্কে ধারণা এবং অধ্যয়ন করুন। আপনার পাঠ্য বইয়ে বৃক্ষ এবং পরিবেশ বিষয়ের অধ্যয়ন করুন। এ ছাড়াও আপনি এ বিষয়ে যেকোন বইয়ের সহযোগিতা নিতে পারেন। অভিজ্ঞজনের সহযোগিতা নিতে পারেন। গাছ বা বৃক্ষ সম্পর্কে শ্লোক, প্রবাদ, ইতিহাস ইত্যাদিও জানবেন। আপনার এলাকার উদ্ভিদ বৈচিত্র্য, লতা, পাতাসহ সার্বিক বিষয়কে জানুন। গাছকে চিনুন এবং জানুন। কোন গাছ কি উপকারে আসে সবকিছু জানুন। অচাষকৃত, ঔষধি, বনজ, ফলজ গাছ সম্পর্কে জানুন। প্রত্যক্ষভাবে জানুন ইত্যাদি ।

Bangladesh Resource Center for Indigenous Knowledge, BARCIK is a non-governmental non-profit development organization. Established in 1997 by a group of development practitioners, researchers and social workers, BARCIK has been working in the fields of environment and development with utmost commitment and purpose. Registered with the NGO Affairs Bureau under the Prime Minister’s Office, Government of Bangladesh, to operate foreign funds.