সাম্প্রতিক পোস্ট

ভার্মি কম্পোস্টের বাজার সৃষ্টিতে প্রয়োজন সরকারি সহযোগিতা

রাজশাহী থেকে ব্রজেন্দ্র নাথ

প্রাকৃতিক কৃষি বা জৈব কৃষি নিয়ে বর্তমানে নানা কর্মউদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে। মাটি ও জীবন উভয়ের স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে দিনে দিনে মানুষ বিভিন্ন উপায়ে জমিতে জৈবসার ব্যবহার করছে। একসময় মাটিতে এমনিতে কেঁচো থাকতো। নানা অনুজীব এবং পোকামাকড় মাটির স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহযোগিতা করতো। কিন্তু দিনে দিনে জমিতে অতিরিক্ত রাসায়নিক আর কীটনাশক ব্যবহারের ফলে মাটির উপকারী অনুজীব আর বিভিন্ন কীটপতঙ্গগুলো বিনিষ্ট হয়ে গেছে। যার ফলে জমিতে আর মাটির উপকারী কেচোঁ খুজে পাওয়া যায় না। বাধ্য হয়ে সচেতন কৃষক বিকল্প পথের সন্ধানে মাটির জীবন আর উর্বরতা ফেরাতে কর্মউদ্যোগ গ্রহণ করছে। সচেতন কৃষক বাড়ির আশপাশের সহজ প্রাপ্য উপকরণ দিয়ে জৈবসার তৈরি করে ব্যবহার করেন। কেঁচো সার বা ভার্মি কম্পোস্টও এমন একটি উপাদান। অনেক কৃষক তার বাড়ির আশপাশের স্থানীয় কেঁচো দিয়েই এই সার তৈরি করছেন আবার অনেকে বাইরে থেকে আমদানিকৃত কেঁচো দিয়েও এই সার তৈরি করছেন।

B bilkis

শুরুতে কেঁচো সার বা ভার্মি কম্পোস্ট তৈরিতে নানা প্রতিবন্ধকতা থাকলেও দিনে দিনে সচেতন কৃষক এই উদ্যোগে নিজেকে এগিয়ে নিয়েছেন। বিশেষ করে গ্রামের নারীরা এই কাজে অনেক বেশি এগিয়ে। বাড়িতে একই সাথে গরু, ছাগল ও ভেড়া পালন এবং তার গোবর থেকে কেঁচো সার তৈরি নারীর জন্যে অনেক সুবিধাজনক। তাই ভার্মি কম্পোস্ট তৈরিতে নারীরাই এগিয়ে। এই ভার্মি কম্পোস্ট সার তৈরি ও বিক্রয়কে কেন্দ্র করে নারীর আত্মনির্ভশীলতার দিকটির দিনে দিনে শক্তিশালী হচ্ছে। রাজশাহী পবা উপজেলার বড়গাছি ইউনিয়নে প্রায় ৩৫ জন নারী এই ভার্মি কম্পোস্ট সার তৈরি করেন। কেউ নিজে উৎপাদন করে নিজের জমিতে ব্যবহার করেন আবার কেউ নিজের জমিতে ব্যবহার করেও বাকিটা বিক্রি করেন। আবার কেউ এই পেশাকে কেন্দ্র করে জীবিকার সন্ধান করছেন। বড়গাছি কাড়িগড় পাড়ার বিলকিছ বেগম নিজের পরিবার চালাচ্ছেন এই ভার্মি কম্পোস্ট সার তৈরি ও বিক্রি করে।

compost

সঙ্গত কারণেই এই এলাকায় ভার্মি কম্পোস্ট সার তৈরি, ব্যবহার ও বাজারজাতকরণের দিকটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আবার বরেন্দ্র অঞ্চলের মধ্যে এই এলাকাটি প্রধান সবজি উৎপাদন এলাকা হওয়ায় এখানে ভার্মি কম্পোস্টের চাহিদা দিনে দিনে বেড়েই চলেছে। প্রত্যক্ষ পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, কেউ সার তৈরি করেও যোগযোগের অভাবে বিক্রি করতে পারছেন না। আবার কেউ সঠিক সহযোগিতার কারণেও সমস্যায় পড়ছেন। এও দেখা গেছে যে, কৃষকের কাছে এই সারের চাহিদা আছে, কিন্তু তিনি তথ্যের সন্ধান না পাওয়ায় কিনতে পারছেন না। আবার সরকারি ও বেসরকারি সুযোগ সুবিধার দিকগুলোও অনেকে জানেনা।

উক্ত বিষয়গুলোকে কেন্দ্র করে বেসরকারি উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান বারসিক ও বড়গাছি কৃষক ঐক্য গত ১১ ভার্মি কম্পোস্ট তৈরি, ব্যবহার, বাজারজাতকরণে সম্ভাবনা ও সমস্যা সমাধানে করণীয় বিষয়ক মতবিনিময়ের আয়োজন করে। উক্ত মতবিনিময়ে সরকারি ও বেসরকারি কর্মকর্তাসহ স্থানীয় ভার্মী কম্পোস্ট উৎপাদনকারী কৃষক কৃষাণী এবং ব্যবহারকারীগণ উপস্থিত থেকে তাদের মতামত ব্যক্ত করেন এবং সমস্যা সমাধানে কর্মপদ্ধতি তৈরি করেন। অংশ্রগহণকারীগণ সহজ সুদে বা বিনা সুদে ভার্মি কম্পোস্ট তৈরির জন্যে ঋণের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন সরকারি ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে। একই সাথে জীবিকার জন্যে এই পেশার দক্ষতা বাড়াতে কারিগরি সহযোগিতা চান। নিজেরা গ্রামে গ্রামে উঠোন বৈঠক করে এই সার এর উপকারী দিক সম্পর্কে তুলে ধরার পরিকল্পনা করা করেন তারা। নারীদের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে প্রণোদোনা বাড়ানোর দাবি করেন নারীগণ।

varmi

মতবিনিময়কালে জাতীয় কৃষি পদকপ্রাপ্ত চাষি রহিমুদ্দিন বলেন, “সরকার চাইলে এই খাতে আরো বেশি প্রণোদোনা দিয়ে নারীর আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে আরো বেশি ভূমিকা পালন করতে পারে।” তিনি আরো বলেন, “এই পেশা একটি সবুজ পেশা এবং স্থায়িত্বশীল সবুজ কৃষির উন্নয়নে সরকারসহ সবাইকে সহযোগিতায় এগিয়ে আসতে হবে।” এই পেশায় জড়িত মোছা বিলকিছ বেগম বলেন, “একটি এনজিওর সহযোগিতায় দুটি চারি দিয়ে আমি শুরু করেছি, বর্তমান আমার চারি ৬০টি। অর্থের অভাবে প্লান্ট তৈরি করতে পারছি না। বাইরে চারিগুলো পড়ে আছে।”

ভার্মি কম্পোস্ট একদিকে যেমন নারীর আর্থ সামাজিক উন্নয়নে অবদান রাখছে, তেমনি এর ব্যবহারে পরিবেশ, প্রতিবেশ এবং জীবন সুরক্ষিত হচ্ছে। তাই এই উদ্যোগে সরকারি বেসরকারি সহযোগিতা আরো বাড়ানো দরকার।

happy wheels 2

Comments

%d bloggers like this: