বাহলুল করিম, সাতক্ষীরা থেকে
সাতক্ষীরায় প্রতিবছরের ন্যায় এবারও ‘আমরা বন্ধুর’ পক্ষ থেকে অসহায় ও দুস্থ শিশু-কিশোরদের মাঝে ঈদের নতুন পোশাক দেওয়া হয়েছে। গতকাল সাতক্ষীরা সদরের শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কের শহীদ মিনার চত্বরে এই পোশাক বিতরণ করা হয়।
সুবিধাবঞ্চিত ২৯জন শিশু-কিশোরের মাঝে ঈদের নতুন পোশাক তুলে দেন বড় বন্ধুরা। তাদের সাথে ঈদ আনন্দ ভাগ করে নিতেই এই আয়োজন। নিজেদের জমানো টাকা দিয়েই ঈদের নতুন পোশাক কেনা হয়েছে বলে জানালেন আমরা বন্ধুর উদ্যোক্তা এস এম নাহিদ হাসান।

ঈদের নতুন পোশাক পেয়ে শিশু-কিশোররা আনন্দে উচ্ছস্বিত। এদিকে শিশু-কিশোরদের মাঝে নতুন পোশাক তুলে দিতে পেরে বড় বন্ধুরাও তৃপ্ত। তাদের আনন্দ দেখে বড় বন্ধুরাও আনন্দিত।
ঈদের নতুন পোশাক পেয়ে সাতক্ষীরা সদরের ঘুটেরডাঙ্গী এলাকার কিশোর ফয়সাল অনুভূতি ব্যক্ত করে বলে, “ঈদে নতুন পোশাক কেনার মতো সামর্থ আমার বাবার নেই। তাই এই ঈদে নতুন জামা ও প্যান্ট পেয়ে খুবই খুশি। যখন বাড়ি থেকে আমার চাচা আমাকে নিয়ে আসছিলো তখন মনে হচ্ছিল আমি ঈদের মার্কেট করতে যাচ্ছি। বড় বন্ধুরা আমাকে যে পোশাক দিয়েছে তা পরে ঈদের দিন বন্ধুদের সাথে আনন্দ করবো।”
সদরের ধুলিহরের লবণগোলার কিশোরী শাকিলা একটু আনমোনা হয়ে বলে, “আমার জামা খুবই পছন্দ হয়েছে। খুব মানাবে আমায়। বড় বন্ধুরা ঈদের জামা দেওয়ায় আমি খুবই খুশি হয়েছি।”
এ ব্যাপারে আমরা বন্ধুর সদস্য নুরুল হুদা বলেন, “আমাদের সমাজে এই রকম অনেক ছোট বন্ধু আছে যারা ঈদের নতুন পোশাক কিনতে পারে না। এই সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের সাথে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। তাইতো আমাদের জমানো টাকা দিয়ে পোশাক কিনে তাদের হাতে তুলে দিয়েছি।”
উল্লেখ্য, বড় বন্ধু খ্যাত আমরা বন্ধুরা প্রায়ই নিজেদের জমানো টাকা দিয়ে সদরের বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রতিমাসে খাতা-কলম উপহার দিয়ে আসছে। এরই মাঝে এসব ছোট শিশু-কিশোরদের আপন করে নিতে তাদের নাম দিয়েছে ছোট বন্ধু। আর এই ছোট বন্ধুদের পাশে যে কোন সমস্যায় দাঁড়াতে তারা বদ্ধপরিকর।
প্রসঙ্গত, সংগঠনটি নিজেদের দেওয়া আর্থিক অনুদানে ২০১৬ সালে ১৩জন এবং ২০১৬ সালে ৩২জন শিশু-কিশোরকে ঈদের নতুন পোশাক প্রদান করে।



