Posted in

প্রবীণ প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য বিনোদনের প্রয়োজন

কলমাকান্দা, নেত্রকোনা থেকে অর্পণা ঘাগ্রা

Kalma-2বর্তমানে মোবাইল ফোনেই মানুষ খুব সহজেই বিনোদন পাচ্ছে। যুব ও পুরুষরা বাজারে চায়ের দোকানে আড্ডা ও টেলিভিশন দেখার সুযোগ পাচ্ছে। তাই যারা সারাদিন ঘরের মধ্যে থাকে তাদের বিনোদনের কথা ভাবার কেউ নেই। বিশেষভাবে প্রবীণ, প্রতিবন্ধী ও শিশুদের সুষ্ঠু বিনোদনের মাধ্যমে তাদের মানষিক স্বাস্থ্যের উন্নয়ন ঘটানো দরকার।
উপরোক্ত কথাগুলো বললেন কলমাকান্দা সদর ইউনিয়নের চিনাহলা গ্রামের কলমাকান্দা ডিগ্রী কলেজের ডিগ্রী ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী সাবিনা আক্তার। গত ২১ নভেম্বর ‘আশার আলো নারী সংগঠন’ এর উদ্যোগে কলমাকান্দা সদর উইনিয়নের চিনাহালা গ্রামে প্রবীণ প্রতিবন্ধী ও শিশুদের জন্য বিনোদনমূলক গ্রামীণ খেলার আয়োজন করা উপলক্ষে এ কথাটি তিনি বলেন।

Kalma
গ্রামীণ জনপ্রিয় খেলার মধ্যে মোড়গ লড়াই অন্যতম। কিন্ত এইসব খেলা এখন কোন প্রতিষ্ঠান বা প্রতিযোগিতামূলক ক্রীড়ানুষ্ঠানে আয়োজন না করলে সাধারণত এটি আর দেখা যায়না। এই বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান আয়োজনের মাধ্যমে এদিন শিশুরা মোড়গ লড়াই খেলার মাধ্যমে বিনোদন খুঁজে পায়। সেই সাথে গ্রামীণ ঐতিহ্যবাহী খেলা চর্চা করার সুযোগ লাভ করে।

বড়দের দৈনন্দিন জীবনযাপনে যা কিছু করতে দেখে তাই শিশুরা চড়–ইভাতি খেলায় ফুটিয়ে তুলে। এতে ছেলে ও মেয়ে শিশু উভয়ই অংশগ্রহণ করে থাকে। শাহিদা বেগম তার নাতনীর জন্য ঘরের বারান্দায় (চিলেকোঠা) ঢেকি ও চূলা তৈরি করে দিয়েছেন। সেখানেই প্রতিদিন কয়েকজন শিশু জড়ো হয় ও চড়ুইভাতি খেলায় মেতে ওঠে। এই খেলার মাধ্যমে তারা সামাজিকতা শিখে নিচ্ছে।

প্রতিবন্ধি নারী ফলুদা বেগম (৪৮) বলেন, “আমি কোন সময় খেলাধূলা করি নাই। বাপ মাই ছোটবেলাতের খেলতে দেয় নাই। আমাগো লাইগ্যা কেউ এইরকম অনুষ্ঠান করেনা। আজকে এইখানে আইসা সবার লগে একসাথে হইলাম, খেললাম। অনেক খুশি লাগলো।”

Kalma-1
আজকে যারা প্রবীণ তারাই একসময় গ্রামের মাঠঘাট দাপিয়ে বেড়াতেন। আজ বয়সের ভারে এবং সাংসারিক ও পারিপার্শ্বিক অবস্থার কারণে মনের ইচ্ছাগুলো মনের ভেতরেই পুষে রাখতে হচ্ছে। হাড়ি ভাঙা খেলায় ২য় স্থান অধিকারী জৈনব বেগম (৭০) তাই বলেন, “আমার আগেকার কথা মনে পড়তাছে। আগে আমরা বিকাল হইলেই গ্রামের সব পোলাপান (শিশু) মিলে খেলতাম। এখনকার পোলাপন আমাগো মতো বউছি, কানাকানী, দাঁড়িয়াবান্দা খেলাগুলা খেলেনা। এই খেলাগুলা খেলার সময় গ্রামের সবাই মিলে দেখতো।

গ্রামীণ খেলার অনুষ্ঠানটি প্রবীণ, প্রতিবন্ধি ও শিশুদের জন্য আয়োজন করা হলেও গ্রামের সব বয়সের, সব শ্রেণী ও পেশার মানুষ তা উপভোগ করেছে। গ্রামাঞ্চলে এখনও গ্রামীণ খেলার গ্রহণযোগ্যতা আছে। মানুষ চাই সুষ্ঠু বিনোদন। তাই খেলাধূলার মাধ্যমে বিনোদন ও সামাজিক সচেতনতার তথ্য খুব সহজেই পৌছে দেওয়া সম্ভব।

Bangladesh Resource Center for Indigenous Knowledge, BARCIK is a non-governmental non-profit development organization. Established in 1997 by a group of development practitioners, researchers and social workers, BARCIK has been working in the fields of environment and development with utmost commitment and purpose. Registered with the NGO Affairs Bureau under the Prime Minister’s Office, Government of Bangladesh, to operate foreign funds.