সাম্প্রতিক পোস্ট

পানির দেশে পানি নাই

সাতক্ষীরা শ্যামনগর থেকে মননজয় মন্ডল:

পানির দেশে, পানি নাই। নিয়তির কি নির্মম পরিহাস, চারিদিকে থৈ থৈ পানি, তবে নেই খাওয়ার পানি । ঘূর্নিঝড় আম্ফানে ভেসে গেছে মিঠা পানির পুকুর। নদীর লবণ পানিতে ডুবে গেছে উপকূলীয় এলাকার টিউবওয়েলগুলোও। ঘূর্নিঝড় আম্পানে ভেসে গেছে সাতক্ষীরার উপকূল। শ্যামনগর ও কালিগঞ্জ উপজেলায় কয়েক লাখ মানুষ হয়ে পড়েছে পানিবন্দি। দুর্যোগে উপকুলবাসীর জানমালের ক্ষতি হলেও দুর্যোগ পরবর্তী সুপেয় পানির সংকট তীব্র আকার ধারণ করে। পানি সংকট নিরসনে সরকারী বেসরকারী ভাবে সহযোগিতার হাত বাড়ীয়ে দিলেও সেটি প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম।

সুপেয় পানি সংকট বিষয়ে শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আ ন ম আবুজর গিফারী বলেন, “ঘূর্ণিঝড় আম্পান এর আঘাতে উপকূলের নদী ভাঙনে যে সমস্ত এলাকা প্লাবিত হয়েছে, সেখানে পানির জন্য আমরা উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের মাধ্যমে সুপেয় পানির ব্যবস্থা করেছি, এছাড়া বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন মানুষকে সুপেয় পানি সরবরাহ করছে। আমরা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই ধারা অব্যাহত রাখব, এছাড়া যে সমস্ত টিউবওয়েল লোনা পানিতে ক্ষতিগ্্রস্থ হয়েছে সেগুলো জীবানু মক্ত করা হচ্ছে।”

বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ভবতোষ কুমার মন্ডল জানান, “এলাকায় খাবার পানি ও রান্না-বান্না বা গৃহস্থলির কাজের পানির সংকট আছে। সরকারি বেসরকারীভাবে পানি সরবরাহ করে মোটামুটি সাময়িকভাবে পানির চাহিদা পুরণ করলেও আমাদের সকলকে স্থায়ী সমাধানের কথা ভাবতে হবে। কৃষি উপযোগি ও সুপেয় পানির পুকুর গুলো লবণ পানি সেচ ও পুন:খনন করা জরুরী।”

উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর সুপেয় খাবার পানি ও পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট সরবরাহ করছে। একইসাথে বিভিন্ন এনজিও এবং স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের পক্ষ থেকেও সুপেয় পানি সরবরাহ করা হচ্ছে উপকূলীয় এলাকায়। তবে সেটা প্রয়োজনের তুলনায় সামান্য। দুর্গম এলাকায় প্রয়োজনানুয়ায়ী সুপেয় পানি পাচ্ছেন না সাধারণ মানুষ। স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সিডিও এবং সুন্দরবন স্টুডেন্টস সলিডারিটি টিম বারসিকের সহযোগিতায় বিনামূল্যে আম্ফানের পর থেকে প্রতিদিন ভ্যান ও বোর্ড যোগে ৪ হাজার লিটার পানি বিতরণ করে যাচ্ছে।

বনজীবি শেফালী বিবি বলেন, “দুর্যোগকালীন সময়ে পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছিল। নারী, শিশু, প্রবীণসহ সকলের গোসলের পানির ব্যাপক সমস্যা ছিল বর্তমানে দাতিনাখালী গ্রামের মানুষেরা হুলোর পুকুরের পানি খাওয়ার ও গোসলের কাজে ব্যবহার করছে। দুর্যোগের আগে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান বারসিক থেকে এই পুকুরটি পুন:খনন করে চারপাশ উঁচু করে পাড় দিয়ে দেয়, যে কারণে পুকুরে লবণ পানি প্রবেশ করতে পারেনি। আমাদের গ্রাম বাদে চারপাশে খাওয়ার পানির সমস্যা লেগেই আছে।”

পানি ছাড়া প্রাণ টিকে থাকা যে কত কষ্টের সেটা আবারো উপলব্ধি করছে উপকুলীয় মানুষেরা। চারিদিকের লবণ পানিতে দুর্বিসহ জীবন পার করতে হচ্ছে তাদের। নেই খাওয়ার পানি, গরু ,ছাগল, হাঁস, মুরগীকে খাওয়ানোর পানি, চাষ উপযোগী পানিও নেই। এই সংকট থেকে মুক্তি চায় উপকূলের প্রতিটি মানুষ।

happy wheels 2
%d bloggers like this: