Posted in

আমরা সচেতন হলেই বিষের ব্যবহার কমবে

রাজশাহী থেকে অমৃত সরকার
‘বাজারে কোন সবজি বা ফল আমরা যদি দেখি একটু দেখতে খারাপ বা ছোট চক চক করছে না তাহলে ওই সবজি বা ফল আমরা কিনি না। আমরা কিনি বড়টি এবং চকচক করছে এমন সবজি বা ফল। হতে পারে মাত্রাতিরিক্ত রাসায়নিক বা হরমোনের কারণে তা সুন্দর হয়েছে হতে পারে কিংবা ফল-সবজিটি সুন্দর হওয়ার জন্য কোন রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়েছে।’

উপরোক্ত কথাগুলো বলছিলেন রাজশাহীর তানোর উপজেলার গোল্লাপাড়া বনিক সমিতির সভাপতি মোঃ জাহাঙ্গীর আলম।
১৯৮৪ সালে ভারতের ভোপাল ট্র্যাজেডিতে হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। এই দূর্ঘটনার ৪০ বছর পূর্তিতে ৩-১০ ডিসেম্বর পৃথিবীর অন্যান্য দেশের সাথে একাত্মতা ঘোষণা করে প্রতিবছরের মতো এবারও বারসিক ’নো পেস্টিসাইড ইউজ উইক’ পালন করছে। মূলত ক্ষতিকর রাসায়নিক কীটনাশের ব্যবহার কমানো, মাটি পানি, পরিবেশ সুরক্ষায় কীটনাশকের ক্ষতির বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়েই জনসচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে প্রচারাভিজানের প্রথম দিন তানোরে হাট ক্যাম্পেইনটি অনুষ্ঠিত হয়।

একটি হাটে ক্রেতা বিক্রেতা মিলিয়ে হাজার হাজার মানুষ এক সাথে হয়। শুধু পণ্য ক্রয় বা বিক্রয় নয়; কৃষক কৃষক আড্ডা গল্প, ফসল চাষ ফসলের বাজার মূল্য ইত্যাদি বিষয়েও অনেক আলোচনা হয় হাটে। এখানে একটি কাজের সাথে অনেক মানুষকে সম্পৃক্ত করা যায়। ক্ষতিকর কীটনাশক নিয়ে যখন আলোচনা করা হয় তখন অনেক ক্রেতা আগ্রহ নিয়ে তা শুনতে থাকেন এবং মতামত প্রকাশ করেন। এরকমই একজন ক্রেতা সাপ্তাহিক বাজার করতে এসেছিলেন জিওল গ্রাম থেকে। তিনি বলেন, “আমি এবারই দেখেছি যখন আগাম ফুলকপি বাজারে আসে তখন বিষের গন্ধ লেগেছিলো তাতে এরকম অনেক ফসলেই হচ্ছে। আমরা কোন উপায় না পেয়ে বাধ্য হয়েই কিনি অথবা কিনি না।’

মৌসুমী সবজি বিক্রয় করতে পাশের মোহনপুর উপজেলার তুলসীক্ষেত্র গ্রাম থেকে এসেছিলেন মোঃ এনতাজ আলী। তিনি বলেন, “অনেক সময় আমরা দেখেছি সবজি বড় না হলে ক্রেতা কিনে না আবার কীটনাশক না দিলে ফলন ভালো হয় না। তাহলে আমরা কি করতে পারি?’ এ বিষয়ে অন্য একজন কৃষক ও সমাজকর্মী আলমাস হোসেন বলেন, “আমাদের হাতে ধরিয়ে দেওয়া হয় কীটনাশকের প্রেসক্রিপশন ও হাইব্রিড বীজ। আমরা উপায় না পেয়ে তা ব্যবহার করছি। সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনার মাধ্যমেই কীটনাশকের ব্যবহার ন্যূনতম পর্যায়ে রেখে সবজি চাষ করা যায়।’


উক্ত ক্যাম্পইনে কৃষি বিজ্ঞানী নূর-মোহাম্মদ বলেন, “কীটনাশক বিষয়ে যদি আমরা সকলে সচেতন হই তাহলে এর ব্যবহার কমবে। অপিেদকে আমাদের পণ্য ক্রয়ের ক্ষেত্রেও সচেতন থাকতে হবে। কারণ মনে রাখতে হবে যে, কম কীটনাশক বা রাসায়নিক প্রয়োগ করা ফসল একটু দেখতে অন্যগুলোর তুলনায় একটু ছোট হতে পারে বা কম চকচক করে; তবে এগুলোর মান ভালো এবং নিরাপদও।’

Bangladesh Resource Center for Indigenous Knowledge, BARCIK is a non-governmental non-profit development organization. Established in 1997 by a group of development practitioners, researchers and social workers, BARCIK has been working in the fields of environment and development with utmost commitment and purpose. Registered with the NGO Affairs Bureau under the Prime Minister’s Office, Government of Bangladesh, to operate foreign funds.