সাম্প্রতিক পোস্ট

পুকুর পুনঃখননে মিলবে মিষ্টি পানি

শ্যামনগর, সাতক্ষীরা থেকে জাকির হোসেন

জলবায়ু পরিবর্তনের ব্যাপক বিরূপ প্রভাব পড়তে শুরু করেছে গোটা দক্ষিণ উপকূল অঞ্চলের নদ-নদী ও কৃষি জমিতে। ঝড়, বন্যা, খরা ও জলোচ্ছ¡াসের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের সঙ্গে যুদ্ধ করছে উপকূলের মানুষ। একটির পর একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ উপকুলে আঘাত আনছে। নদী ভাঙনের ফলে প্রতিবছর চাষযোগ্য জমি কমে যাচ্ছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের ফলে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কৃষক।

দেশের দক্ষিণ উপকূলজুড়ে প্রাকৃতিক দুর্যোগ বেড়েই যাচ্ছে। ঘূর্ণিঝড় বুলবুল এ পদ্মপুকুর ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানের ভেঁড়িবাঁধ ভেঙ্গে লবণ পানি প্রবেশ করে কৃষি উপযোগী মিষ্টি পানির পুকুর ক্ষতিগ্রস্থ হয়। পুকুরের পাড় ভেঙে যায় এবং পানি ব্যবহার অনুপযোগি হয়ে পড়ে। তবে স্থানীয় জনগোষ্ঠী পুকুরে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করে সারাবছর মিষ্টি পানির মাছ চাষ ও বসতভিটায় সবজি চাষসহ পরিবারের সমস্ত কাজ করেন। একমাত্র মিষ্টি পানি সংরক্ষণই স্থানীয় মানুষের বসতভিটার মাটি নোনামুক্ত করা সম্ভব। লবণাক্ত পরিবেশে কৃষি কাজ করে টিকে থাকার জন্য স্থানীয় জনগোষ্ঠী প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে চলেছেন।

ঘুর্ণিঝড় বুলবুলে ক্ষতিগ্রস্ত পুকুরের পানি ব্যবহার উপযোগী করার জন্য সুপেয় পানির আধার সংরক্ষণে উপকূলীয় অঞ্চলে পুকুর পুনঃখনন করার কোন বিকল্প নাই। বাংলাদেশের উপকূলীয় দক্ষিণ পশ্চিম অঞ্চলের স্থানীয় কৃষি প্রাণবৈচিত্র্যনির্ভর জীবনযাত্রা পুনঃগঠনে স্থানীয় জনগনের উন্নয়ন পরিকল্পনাকে বাস্তবায়নে সহযোগিতা করা জরুরি।

দুর্যোগ মোকাবেলা করে স্থানীয় মানুষের বেঁচে থাকার শক্তি সাহস ও সংগ্রামকে আরো বেশি শক্তিশালী ও উদ্যোগী করে তুলতে পদ্মপুকুর ইউনিয়নের পাখিমারা গ্রামের জাকির হোসেনের পুকুরটি পুনঃখননের জন্য বারসিক থেকে সহযোগিতা করা হয়। এই পুকুর পুনঃখনের ফলে ওই এলাকার মানুষ মিষ্টি পানি পেতে সুবিধা হয়েছে। তারা পুকুরের মিষ্টি পানি ব্যবহার করে সারাবছর বসতভিটায় মৌসুমভিত্তিক সবজি চাষ করে পারিবারিক পুষ্টি চাহিদা পূরণ করতে পারবেন বলে জানান। পুকুরটি পুনঃখনন করে পুকুরের পানি ব্যবহার উপযোগী করার ফলে পাখিমারা গ্রামের ৫০টি পরিবার তাদের দৈনন্দিন কাজে পুকুরের পানি ব্যবহার করতে পারছেন। পুকুরের পানি ব্যবহার করার ফলে প্রতিবেশিদের মধ্যে সুসম্পর্ক তৈরি হবে বলে অভিমত প্রকাশ করেন ওই এলাকার মানুষ।

happy wheels 2

Comments

%d bloggers like this: