সাম্প্রতিক পোস্ট

গাছ আমাদের জীবন বাঁচায়

সাতক্ষীরা শ্যামনগর থেকে বাবলু জোয়ারদার

আইলার পর ২০১৯ সালে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর পরিকল্পনাকে মূল্যায়ন ও গুরুত্ব দিয়ে বারসিক শ্যামনগর রিসোর্স সেন্টার পরীক্ষণমূলকভাবে বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের মাসুদ মোড় থেকে দীপায়ন স্কুল পর্যন্ত ৩ কিলোমিটার বনায়নে সহযোগিতা করে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বাংলাদেশ। আর বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দূর্যোগের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দক্ষিণ পশ্চিম এলাকা। এই এলাকার মানুষ জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবেলায় বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। এর মধ্যে অন্যতম হলো বনায়ন। সেটা কোন সময় নদীর পাড় বনায়ন আবার সংযোগ সড়ক বনায়ন।

1 (2)

তারই ধারাবাহিকতায় স্থানীয় জনগণ সংযোগ সড়কে এবার বনায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করেন সম্প্রতি। বেসরকারী গবেষণা প্রতিষ্ঠান বারসিক, সামাজিক বন বিভাগ ও স্থানীয় জনগোষ্ঠির সার্বিক সহায়তায় বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের ৩ কিলোমিটার (মাসুদ মোড় থেকে দীপায়ন স্কুল পর্যন্ত) রাস্তার দুইপাশে বনায়ন কার্যক্রম উদ্ভোধন করা হয়। উক্ত বনায়ন কর্মসূচির উদ্ভোধন করেন ৯নং বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ভবতোষ কুমার মন্ডল, সামাজিক বনবিভাগ শ্যামনগর উপজেলা কর্মকর্তা আওসাফুর রহমান, বনায়ন কমিটির সভাপতি মাখন আউলিয়া। এইসময় আরো উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় জনগোষ্ঠি ও গণমাধ্যম কর্মীবৃন্দ।

2 (1)

বৃহত্তর শ্যামনগর উপজেলার বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের দাঁতিনাখালী, ভামিয়া ও পোড়াকাটলা গ্রাম কয়টি জনবহুল গ্রাম। সুন্দরবনের কোলঘেঁষা খোলপেটুয়া নদীর ওয়াপদা রাস্তার অপর পাশে স্থানীয় হিন্দু, মুসলিম ও আদিবাসী মুন্ডা পরিবারের বসবাস। প্রথমে স্থানীয়দের সাথে যৌথ আলোচনা সাপেক্ষে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় এবং কমিটি গঠন করা হয়। তারপর পরিকল্পনা করা হয়। স্থানীয় জনগণের কাজের সার্বিক সহায়তা করে বারসিক ও সামাজিক বন বিভাগ। প্রথমে চার প্রকার বীজ ও তারপরে ৬০০০ হাজার চারা লাগানো হয় (নিম, শিশু, বাবলা, তেতুল, খৈ ও পরশপেপুল)।
স্থানীয়রা মনে করেন, বনায়নের ফলে তাদের জ্বালানি সংকট নিরসন হবে, প্রাকৃতিক দূর্যোগ থেকে রক্ষা পাবেন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা পাবে এবং নানা প্রজাতির পাখ-পাখালির আবাসস্থল তৈরি হবে। তারা মনে করেন, বেশি করে গাছ লাগাতে হবে এবং রক্ষা করতে হবে।

happy wheels 2

Comments

%d bloggers like this: