সাম্প্রতিক পোস্ট

তানোরে সরিষার বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা

তানোর, রাজশাহী থেকে মিজানুর রহমান

রাজশাহীর তানোর উপজেলার দিগন্ত বিস্তৃত মাঠে মাঠে চোখ জুড়ানো হলুদ ফুলের সমারোহ। চারদিকে সরিষা ফুলের হলুদ রঙে ভরে উঠেছে ফসলের মাঠ। নয়নাভিরাম দৃশ্য শোভা পাচ্ছে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার মাঠজুড়ে। ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে বদলে গেছে প্রকৃতির রূপ। যেন হলুদ রঙে রাঙিয়েছে প্রকৃতি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এ বছর তানোরে সরিষার আবাদ ভালো হয়েছে। সরিষার বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। স্থানীয় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর অফিস থেকে কৃষকদের সার্বক্ষণিক পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে সরিষায় ফল ধরতে শুরু করেছে।
Tanore a bumper production of mustard Photo-01 16.01.2017
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিস সূত্রে জানা যায়, এবার উপজেলায় এক হাজার ৩৫০ হেক্টরের বেশি জমিতে সরিষার আবাদ করা হয়েছে। উন্নত জাতের উচ্চ ফলনশীল সরিষা টরী-৭, বারী ১৪ ও ১৫ আবাদ করেছেন কৃষক। গতবছর এ উপজেলায় প্রায় এক হাজার ৪২০ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ করা হয়েছিল।

ইরি-বোরো আবাদের কিছুটা খরচ কমাতে সরিষার আবাদ করা হয়। সরিষার জমিতে বাড়তি হাল চাষ, সার ও ঔষধ দেওয়ার দরকার হয় না। ফলে স্বল্প খরচ ও কম পরিশ্রমে সরিষার জমিতে বোরো আবাদ হওয়ায় কৃষকরা উপকৃত হন।

সরিষার বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা দেখা দেওয়ায় কৃষকরা ভালো দামের আশায় বুক বাঁধছেন। এবার প্রতি বিঘা জমিতে টরী ৫/৬ মণ এবং বারী সরিষা ৪/৫ মণ হারে ফলন হতে পারে বলে মনে করছেন কৃষকরা। সরিষার বর্তমান বাজার দর এক হাজার ৭ শ’ থেকে এক হাজার ৮৫০ টাকায় মণ হলেও নতুন সরিষা ওঠার সময়ের দাম কমে প্রায় এক হাজার ২ শত থেকে এক হাজার ৪৫০ টাকা মণ হয়। ফলে সরিষার ক্ষেত দেখে খুশি হলেও দাম নিয়ে কিছুটা দুশ্চিন্তায় কৃষকগণ। দাম কম হলে চাষ করতে যে খরচ হয়েছে তা মিটিয়ে নিজের কাছে অবশিষ্ট কিছুই থাকবে না বলে ধারণা করছেন তারা।

উপজেলার মুন্ডুমালা পৌর এলাকার ময়েনপুর গ্রামের কৃষক জেকের আলী জানান, এ বছর ৩ বিঘা জমিতে বারী-১৪ জাতের সরিষার আবাদ করেছেন। বিঘা প্রতি প্রায় তিন থেকে চার হাজার টাকা খরচ হয়েছে। সরিষার গাছও ভালো হয়েছে। গাছে প্রচুর ফুল ধরায় আশানুরূপ ফলন পাবেন বলে মনে করছেন।

উপজেলার তানোর পৌর সদরের চাপড়া গ্রামের কৃষক সাইদুর রহমান জানান, কৃষি অফিসের পরামর্শে প্রায় এক বিঘা জমিতে উন্নত জাতের সরিষার আবাদ করেছেন। সরিষার জমিতে ধানের আবাদ ভালো হয় এবং খরচ কিছুটা কম হয়। ইরি-বোরো ধানের আবাদ সরিষার বেঁচার খরচ দিয়ে করা হয়। এখন বাজারে দাম ভালো পেলেই হয়।

উপজেলা কৃষি অফিসার শফিকুল ইসলাম এ প্রতিবেদকে বলেন, “সরিষা চাষের প্রতি কৃষকদের উৎসাহিত করতে প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং সরিষায় কোনো রোগবালাই না থাকায় কৃষকরা লাভবান হবেন। আশা করছি আগামীতে কৃষকরা সরিষা চাষের প্রতি আগ্রহ বাড়বে।

happy wheels 2
%d bloggers like this: