সাম্প্রতিক পোস্ট

আয়েশা এখন গ্রাম থেকে শহরে

রাজশাহী থেকে ব্রজেন্দ্র নাথ
‘আমিও পারি! এখন আমি পারি আমার সংসারটা চালাতে!’ কথাগুলো বলছেন, গোদাগাড়ি উপজেলার বালিয়া ঘাটা গ্রামের বুটিক সেলাই কাজে পারদর্শিতা নারী মোসাঃ আয়েশা বেগম(২৭)। স্বামী মো: জহরুল ইসলাম। তিনি একজন দিনমজুর। পরিবারের সদস্য সংখ্যা ৪ জন। এক ছেলে এক মেয়ে। শিক্ষাগত যোগ্যতা মাধ্যমিক পাস।


আয়েশা বেগম বুটিক সেলাইয়ের কাজ শিখেছেন বাবার বাড়ি নাচোল থানার মুর্শিদা গ্রামে। বিয়ের পরে সংসার জীবনে তিনি তাঁর কর্ম দক্ষতা ভুলে যাননি বরং সেটিেিক কাজে লাগাচ্ছেন। তিনি বালিয়া ঘাটা গ্রামে কাজ শুরু করেন ২০১২ সালে। এখনো সেই কাজটি করে যাচ্ছেন। তবে গ্রামে এই কাজের মজুরি কম তাই লাভ খুব সীমিত হয়। সেই জন্য তিনি এখন দ্বিতীয় পথ অনুসরণ করেছেন। তিনি এখন শহরে কাজ করছেন ভালো মজুরির আশায়। শহরের মানুষেরা নাকি গ্রামীণ নারীর হাতের কাজের মর্যাদা দেয় সেই লক্ষ্যে তিনি গ্রাম থেকে শহরে এসেছেন।


শহরে তিনি পুরোদমে কাজে নেমে পড়েন। অল্পদিনের মধ্যেই তাঁর হাতের কাজের বেশ প্রচার হচ্ছে। বিভিন্ন মানুষ তাঁর কাজের প্রশংসা করছেন এবং বিভিন্ন কাজের অর্ডার দেন। এভাবে দিনে দিনে তাঁর বিক্রিও বেশ হচ্ছে। তিনি বর্তমানে যে সকল হাতের কাজ তৈরি ও বিক্রি করছেন তা হলো: চটের ব্যাগ, চটের বর্ণমালা, চটের বর্ণমালার চার্ট, শীতল পাটি, চটের টিফিন ব্যাগ, পানির পট রাখার ব্যাগ। তাছাড়া শাড়ির ডিজাইন গুজরাটি স্যাডো ও খেজুর পাতা ইত্যাদি। তিনি হাতের কাজের বুটিক সেলাই গুজরাটি, ভরাট, গোলাপ, গীট, জবাফুল, অলকলতা ও হ্যান্ডপ্রিন্ট বিছানার চাদর, বøক বাটি ইত্যাদি তৈরি করতে পারেন।
আয়েশা বেগম শুধু বিক্রিই করেন না; পাশাপাশি বাইরেও হাতের বুটিক সেলাইয়ের কাজ দিয়ে থাকেন। এই প্রসঙ্গে আয়েশা বেগম বলেন, ‘গ্রাম এবং এই রাজশাহী শহরে আমার মাধ্যমে প্রায় ১৫০জন শহর ও গ্রামীণ নারীরা এই কাজের সাথে জড়িত। গ্রামীণ ও শহরের নারীরা তাদের এই কাজের মাধ্যমে তারা তাদের আয়ের টাকাগুলো নিজেরাই নিজের ইচ্ছে মতো খরচ করতে পারছেন এবং হাতে রাখতে পারছেন। এখন আর ছোট খাটো কাজের জন্য শশুর শাশুড়ী ও স্বামীর কাছে হাত পাততে হয় না। নারীরা বাড়ির কাজের পাশাপাশি স্বাধীনভাবে এই কাজটি করতে পারছেন বিধায় নারীরা এই কাজের প্রতি দিন দিন অগ্রসর হচ্ছেন।’


আয়েশা বেগম বলেন, ‘আমি প্রায় প্রতি মাসে ১০হাজার থেকে ১২ হাজার টাকা আয় করি। আমার এই আয়ের টাকা দিয়ে সংসার চালাতে কোন প্রকার কষ্ট হয় না। আমার স্বপ্ন প্রতিমাসে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা আয় করার এবং সমাজে লাঞ্চিত ও বঞ্চিত নারীদের সামনের উন্নয়নের দিকে নিয়ে যাবো এবং নিজের পায়ে দাঁড় করাতে সহযোগিতা করবো।’
গ্রামের হাতের কাজগুলো শহরের মানুষের কাছে বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে। সেই পরিপ্রেক্ষিতে টিকাপাড়ার গৃহিনী মোসা: পারভিন বেগম বলেন, ‘আয়েশা আপা যেন স্বপ্নের ফেরিওয়ালা হয়ে গেলো, দেখেন না কোথায় থেকে এসে এই শহরে জুড়ে বসেছেন এবং মানুষকে কাজের বিনিময়ে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। কর্মের বিনিময়ে মানুষ যে সহজে পরিবর্তন হতে পারে তার প্রমাণ মোসা: আয়েশা বেগম । তাই আমরা তার কর্ম জীবনের পথ অনুসরণ করে সামনের দিকে এগিয়ে যাবো।’

happy wheels 2

Comments

%d bloggers like this: