Posted in

মাহফুজা খাতুন পরিবেশবান্ধব কৃষি চর্চা করেন

কলমাকান্দা নেত্রকোনা থেকে মুন্না রংদী
নেত্রকোনা জেলার কলমাকান্দা উপজেলার লেংগুরা ইউনিয়নের গৌরীপুর গ্রামের মাফুজা খাতুন (৩৬)। স্বামী মোফাজ্জল মিয়া (৪০) পেশায় অটোচালক। এক ছেলে ও ২ মেয়েকে নিয়ে তাদের সংসার। মাফুজা খাতুন একজন উদ্যোগী কৃষাণী। তাদের ১২৮ শতাংশ আবাদি জমি ও ২৪ শতাংশ বসতভিটা রয়েছে। এসব জমিতে তিনি সারাবছর নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন করে পারিবারিক পুষ্টি চাহিদা পূরণ করেন। তিনি আর্থিক সাশ্রয়ের জন্য শীত, গ্রীষ্ম ও বর্ষায় সবজি চাষ করে থাকেন। তিনি লাল শাক, ডাটা শাক, মুলা, সিম, লাউ, টমেটো, মিষ্টি কুমড়া, চাল কুমড়া, বেগুন, মরিচ,পুঁইশাক, পাট শাক, ঝিঙ্গা, ধুন্দল, বরবটি, করলা, ঢেড়স ইত্যাদি সবজি চাষ করে থাকেন। তাঁর স্বামীও তাকে কৃষিকাজে সহযোগিতা করে থাকেন। বারসিক’র পরামর্শক্রমে এই কৃষি কাজে তিনি সম্পূর্ণ জৈব পদ্ধতিতে চাষাবাদ করে থাকেন এবং অন্যদেরকেও জৈব পদ্ধতিতে চাষাবাদ করার জন্য পরামর্শ প্রদান করেন।


মাহফুজা খাতুন কৃষিকাজে সম্পূর্ণ জৈব পদ্ধতিতে চাষাবাদের চেষ্টা করে থাকেন। তিনি গোবর ও ছাইয়ের মিশ্রণ একত্রে সংরক্ষণ করে থাকেন, যা জৈব সার ও কীটনাশকের কাজ করে থাকে। তিনি বলেন, ‘ছাই পোকা দমন ও ঘাস না গজানোতে সহায়তা করে এবং গোবর জৈব সারের কাজ করে।’ তিনি নিম পাতা ৫ লিটার পানিতে সিদ্ধ করে সেই পরিমাণ পানি মিশ্রণ করে ২১ দিনের মধ্যে পাতা মোড়ানো ও অন্যান্য পোকা দমনে চেষ্টা করে থাকেন। গরুর চেনা (প্রশ্রাব) এক মাস বোতলে সংরক্ষণ করে পরিমাণ পানির মিশ্রণে তরল সার তৈরি করেন এবং সেটি চারা গাছ সবজি লতানো গাছ যেমন বরবটি, লাউ শসা, পুঁইশাক ইত্যাদির গাছের গোড়ায় ব্যবহার করে থাকেন। এটি একটি তরল সার যার ব্যবহারে গাছ তাজা ও পুষ্ট ফলন লাভের সহায়তা করে বলে সংগঠনের সভাই আলোচনা করেন। একটি গাছে আধা কেজি বা এক কেজি পরিমাণ ব্যবহৃত হয় বলে তিনি জানান।


মাহফুজার কাজের দেখা-দেখিতে এই পর্যন্ত তার এই চর্চাগুলো তাদের চার থেকে পাঁচটি পরিবারের চর্চা হচ্ছে বলে তিনি জানান এবং এই চর্চাগুলো আগামীতে আরো বেশি বৃদ্ধি পাবে বলে তিনি আশা করেন। শুধুমাত্র বছরব্যাপী সবজি চাষই নয়; বরং তিনি বীজ সংরক্ষণেও যথেষ্ট ভূমিকা রাখেন। তিনি বারসিক কর্তৃক প্রদানকৃত লালশাক, ডাটা শাক, পুঁইশাক, পাটশাক বীজ থেকে ফলন ফলিয়ে এখন বীজ সংরক্ষণ করেছেন। এছাড়াও তিনি আগে থেকেই লাউ, শিম ধুন্দল এর বীজ সংরক্ষণ করে আসছেন।


মাহফুজা খাতুন সবজি চাষ ছাড়াও গবাদি পশু পালন করেন। তার বাড়িতে পাতিহাঁস, মুরগি, গরু ও ছাগল রয়েছে। বিগত বছর হাঁস-মুরগি ও ছাগল বিক্রি করে বিশ হাজার টাকা আয় করেছেন। বাড়ির পাশে রয়েছে তিন কাঁঠা পরিমাণ একটি পুকুর। সেখানে তারা তিনটি পরিবার (শশুর, দেবর ও তারা) একত্রে মিলেমিশে মাছ চাষ করে বছরব্যাপী আমিষের চাহিদা পূরণে চেষ্টা করে থাকেন। পুকুরের পাড়ে রয়েছে তাল গাছ, সুপারি গাছ, লেবু ও আমের গাছ।


বারসিক মাহফুজা খাতুনের এই উদ্যোগ ও চর্চাগুলো পর্যবেক্ষণ করে তাঁর বাড়িকে একটি শতবাড়ি হিসেবে নির্বাচন করেছে, যা আগামীর কৃষি প্রতিবেশ বিদ্যার একটি শিখন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে।

Bangladesh Resource Center for Indigenous Knowledge, BARCIK is a non-governmental non-profit development organization. Established in 1997 by a group of development practitioners, researchers and social workers, BARCIK has been working in the fields of environment and development with utmost commitment and purpose. Registered with the NGO Affairs Bureau under the Prime Minister’s Office, Government of Bangladesh, to operate foreign funds.